বিজ্ঞানী টিমটিম
আজ রাতের আকাশঢাকার আকাশে আজ রাতে কী দেখা যাবে?লাইভ ম্যাপ

এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫

খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

এক কথায়

খাদ্য হলো যা খেলে দেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন ও ক্ষয়পূরণ হয়। খাদ্যের ছয়টি উপাদান: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। পরিপাক হলো জটিল খাদ্যকে এনজাইমের সাহায্যে সরল ও শোষণযোগ্য অণুতে ভাঙা। শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ, আমিষ ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং স্নেহ ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল হয়, যা মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়।

খাদ্য ও পুষ্টি: পার্থক্যটা কোথায়

যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান খেলে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও শক্তি উৎপাদন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, সেগুলোকে খাদ্য বলে। আর পুষ্টি হলো একটি প্রক্রিয়া: খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং দেহকোষে তার ব্যবহার, পুরো ধাপটাই পুষ্টি।

অর্থাৎ শুধু পেট ভরলেই পুষ্টি হয় না। ভাত দিয়ে পেট ভরানো যায়, কিন্তু আমিষ, ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি থাকলে দেহ অপুষ্টিতে ভোগে। খাদ্যের যে উপাদানগুলো দেহের কাজে লাগে, সেগুলোকে পুষ্টি উপাদান বলে।

  • শর্করা (কার্বোহাইড্রেট): প্রধান শক্তির উৎস; ১ গ্রামে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি (প্রায় 17 kJ)।
  • আমিষ (প্রোটিন): দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণ; ১ গ্রামে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি।
  • স্নেহ (চর্বি/লিপিড): ঘনীভূত শক্তি; ১ গ্রামে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি (প্রায় 37 kJ)।
  • ভিটামিন ও খনিজ লবণ: শক্তি দেয় না, কিন্তু দেহের নানা বিক্রিয়া ঠিক রাখে।
  • পানি: দেহের ওজনের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশ; দ্রাবক ও তাপ নিয়ন্ত্রক।

শর্করা, আমিষ ও স্নেহ

শর্করা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। গঠন অনুযায়ী তিন ধরনের: মনোস্যাকারাইড (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ), ডাইস্যাকারাইড (সুক্রোজ বা চিনি, ল্যাকটোজ বা দুধের চিনি, মল্টোজ) এবং পলিস্যাকারাইড (শ্বেতসার বা স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, সেলুলোজ)। চাল, আটা, আলু শর্করার প্রধান উৎস। সেলুলোজ মানুষ হজম করতে পারে না, কিন্তু আঁশ হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

আমিষ অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি এবং এতে নাইট্রোজেন থাকে। প্রায় ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড থেকে দেহের সব প্রোটিন তৈরি হয়। যেগুলো দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না, খাবার থেকে নিতে হয়, সেগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড বলে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ প্রাণিজ আমিষ; ডাল, শিমের বিচি উদ্ভিজ্জ আমিষ।

স্নেহ পদার্থ ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল দিয়ে তৈরি। এটি ত্বকের নিচে জমে তাপ ধরে রাখে, অঙ্গকে আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং ভিটামিন A, D, E, K দ্রবীভূত করে শোষণে সাহায্য করে। কিছু ফ্যাটি এসিড দেহ তৈরি করতে পারে না, এগুলো অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড।

ভিটামিন: অল্প লাগে, কিন্তু না থাকলে বিপদ

ভিটামিন খুব সামান্য পরিমাণে লাগে, তবু এর অভাবে নির্দিষ্ট রোগ হয়। দ্রবণীয়তা অনুযায়ী ভিটামিন দুই ধরনের: স্নেহে দ্রবণীয় (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় (B কমপ্লেক্স ও C)। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন দেহে বেশি জমা থাকে না, তাই নিয়মিত খেতে হয়।

  • ভিটামিন A: উৎস কলিজা, ডিম, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, শাক; অভাবে রাতকানা, চোখের জেরপথালমিয়া।
  • ভিটামিন B1 (থায়ামিন): উৎস ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল; অভাবে বেরিবেরি।
  • ভিটামিন C: উৎস আমলকী, পেয়ারা, লেবু; অভাবে স্কার্ভি (মাড়ি থেকে রক্ত পড়া)। তাপে সহজে নষ্ট হয়।
  • ভিটামিন D: সূর্যালোকে ত্বকে তৈরি হয়, উৎস মাছের তেল, ডিম; অভাবে শিশুদের রিকেটস, বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া।
  • ভিটামিন E: উৎস উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম; কোষকে জারণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
  • ভিটামিন K: উৎস সবুজ শাক; রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, অভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয়।

খনিজ লবণ, পানি ও খাদ্য আঁশ

খনিজ লবণ দেহের হাড়, দাঁত, রক্ত ও স্নায়ুর কাজের জন্য জরুরি। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে; উৎস দুধ, ছোট মাছ (কাঁটাসহ)। লৌহ (আয়রন) হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লাগে, অভাবে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়; উৎস কলিজা, কচুশাক, ডিম। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে লাগে, অভাবে গলগণ্ড হয়; তাই আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া দরকার।

পানি খাদ্য পরিপাক, রক্তে পুষ্টি পরিবহন, বর্জ্য নিষ্কাশন ও ঘামের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়রিয়ায় দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে খাবার স্যালাইন খেতে হয়।

খাদ্য আঁশ বা রাফেজ মূলত উদ্ভিদের সেলুলোজ। এটি হজম হয় না, কিন্তু মলের পরিমাণ বাড়িয়ে অন্ত্রের চলন সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। শাকসবজি, ফল, লাল আটা ভালো উৎস।

সুষম খাদ্য, ক্যালরি ও BMI

যে খাদ্যে সব পুষ্টি উপাদান দেহের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে। বয়স, লিঙ্গ, ওজন ও পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী চাহিদা বদলায়: একজন কৃষক বা রিকশাচালকের দরকার অফিসে বসে কাজ করা মানুষের চেয়ে বেশি ক্যালরি।

খাদ্যের শক্তি মাপা হয় কিলোক্যালরি বা কিলোজুলে; 1 kcal = 4.184 kJ। দেহের ওজন উচ্চতার তুলনায় ঠিক আছে কিনা বোঝার একটি সহজ মাপ হলো বডি মাস ইনডেক্স (BMI)।

  • BMI ১৮.৫-এর কম: কম ওজন।
  • BMI ১৮.৫ থেকে ২৪.৯: স্বাভাবিক।
  • BMI ২৫ থেকে ২৯.৯: অতিরিক্ত ওজন।
  • BMI ৩০ বা বেশি: স্থূলতা (WHO শ্রেণিবিন্যাস)।

BMI = দেহের ভর (kg) / [উচ্চতা (m)]²

উদাহরণ: ভর 60 kg, উচ্চতা 1.6 m হলে BMI = 60 / 2.56 ≈ 23.4 kg/m²

অপুষ্টি ও খাদ্য সংরক্ষণ

দীর্ঘদিন প্রয়োজনের চেয়ে কম বা ভারসাম্যহীন খাদ্য খেলে অপুষ্টি হয়। শিশুদের আমিষ ও ক্যালরির তীব্র অভাবে কোয়াশিয়রকর (পেট ফোলা, পায়ে পানি জমা) এবং মেরাসমাস (শরীর শুকিয়ে হাড্ডিসার হওয়া) হয়। আবার অতিরিক্ত খাওয়া ও কম পরিশ্রমে স্থূলতা হয়, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, এটাও এক ধরনের অপুষ্টি।

খাদ্যে জীবাণু বাড়তে না দেওয়াই সংরক্ষণের মূল কথা। শুকানো, লবণ বা চিনি দেওয়া, ঠান্ডায় রাখা, জীবাণুমুক্ত করে বায়ুরোধী পাত্রে রাখা প্রচলিত পদ্ধতি। মাছ-ফল তাজা দেখাতে ফরমালিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক এবং আইনত দণ্ডনীয়।

মানুষের পরিপাকতন্ত্র

পরিপাকতন্ত্র দুই অংশে বিভক্ত: পৌষ্টিকনালি এবং পরিপাক গ্রন্থি। পৌষ্টিকনালি মুখগহ্বর থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি লম্বা নালি: মুখগহ্বর → গলবিল → অন্ননালি → পাকস্থলী → ক্ষুদ্রান্ত্র (ডিওডেনাম, জেজুনাম, ইলিয়াম) → বৃহদন্ত্র (সিকাম, কোলন, মলাশয়) → পায়ু।

পরিপাক গ্রন্থিগুলো হলো লালাগ্রন্থি (তিন জোড়া), পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় এবং আন্ত্রিক গ্রন্থি। যকৃৎ দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি; এটি পিত্তরস তৈরি করে, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরসে কোনো এনজাইম নেই, তবে এর পিত্তলবণ চর্বিকে ছোট ছোট দানায় ভেঙে (ইমালসিফিকেশন) লাইপেজের কাজ সহজ করে।

খাদ্য নালির ভেতর দিয়ে এগোয় পেরিস্টালসিস নামের ঢেউয়ের মতো পেশি সংকোচনে। তাই উল্টো হয়ে শুয়ে থাকলেও খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছায়, মাধ্যাকর্ষণ লাগে না।

ধাপে ধাপে পরিপাক ও এনজাইম

এনজাইম হলো প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক, যা নিজে অপরিবর্তিত থেকে বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। প্রতিটি এনজাইম নির্দিষ্ট খাদ্যের ওপর এবং নির্দিষ্ট pH ও তাপমাত্রায় কাজ করে।

  • মুখগহ্বর: দাঁত খাবার চিবায়; লালার টায়ালিন (স্যালিভারি অ্যামাইলেজ) শ্বেতসারকে মল্টোজে ভাঙে। লালা প্রায় নিরপেক্ষ (pH প্রায় ৬.৮)।
  • পাকস্থলী: HCl খাদ্যকে অম্লীয় করে ও জীবাণু মারে; পেপসিন আমিষকে পেপটোনে ভাঙে; শিশুদের রেনিন দুধের কেসিন জমাট বাঁধায়।
  • ডিওডেনাম: অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মল্টোজে, ট্রিপসিন আমিষকে পলিপেপটাইডে এবং লাইপেজ চর্বিকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে। পিত্তরস অম্লীয় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র (আন্ত্রিক রস): মল্টেজ মল্টোজকে গ্লুকোজে, সুক্রেজ সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে, ল্যাকটেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে, পেপটাইডেজ পেপটাইডকে অ্যামাইনো এসিডে ভাঙে।
  • শোষণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের (মূলত জেজুনাম ও ইলিয়াম) অন্তঃপ্রাচীরের লক্ষ লক্ষ আঙুলের মতো ভিলাই শোষণতল বহুগুণ বাড়ায়। গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো এসিড রক্তজালিকায়, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল লসিকানালি বা ল্যাকটিয়ালে যায়।
  • বৃহদন্ত্র: মূলত পানি ও কিছু লবণ শোষণ করে; অপাচ্য অংশ মল হিসেবে পায়ু দিয়ে বের হয়।

শ্বেতসার → (অ্যামাইলেজ) → মল্টোজ → (মল্টেজ) → গ্লুকোজ

আমিষ → (পেপসিন, ট্রিপসিন) → পেপটাইড → (পেপটাইডেজ) → অ্যামাইনো এসিড

স্নেহ → (লাইপেজ) → ফ্যাটি এসিড + গ্লিসারল

পরিপাকতন্ত্রের কিছু সাধারণ সমস্যা

অনিয়মিত খাওয়া, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা বা অতিরিক্ত ঝাল-তেল খেলে পাকস্থলীতে অম্ল বেশি হয়ে বুক জ্বালা ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন চললে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের প্রাচীরে ক্ষত হয়, যাকে পেপটিক আলসার বলে; Helicobacter pylori নামের ব্যাকটেরিয়াও এর একটি বড় কারণ।

দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিস (হেপাটাইটিস A ও E) ছড়ায়। নিরাপদ পানি পান, খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়া পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ উপায়।

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

  1. ১. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?

    • ক) ভিটামিন A
    • খ) ভিটামিন B1
    • গ) ভিটামিন C
    • ঘ) ভিটামিন D
    উত্তর দেখো

    উত্তর: ক) ভিটামিন A — ভিটামিন A চোখের রড কোষের রঞ্জক রোডপসিন তৈরিতে লাগে; অভাবে কম আলোতে দেখা যায় না।

  2. ২. ১ গ্রাম স্নেহ পদার্থ থেকে প্রায় কত কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়?

    • ক) ৪
    • খ) ৬
    • গ) ৯
    • ঘ) ১২
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ৯ — স্নেহ প্রায় ৯ kcal/g দেয়, শর্করা ও আমিষ প্রায় ৪ kcal/g।

  3. ৩. পাকস্থলীতে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম কোনটি?

    • ক) টায়ালিন
    • খ) পেপসিন
    • গ) লাইপেজ
    • ঘ) মল্টেজ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) পেপসিন — পেপসিন অম্লীয় পরিবেশে আমিষকে পেপটোনে ভাঙে।

  4. ৪. পিত্তরস সম্পর্কে কোনটি সঠিক?

    • ক) এতে লাইপেজ এনজাইম থাকে
    • খ) এটি অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয়
    • গ) এটি চর্বিকে ইমালসিফাই করে
    • ঘ) এটি শ্বেতসার ভাঙে
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) এটি চর্বিকে ইমালসিফাই করে — যকৃতে তৈরি পিত্তরসে এনজাইম নেই; পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র দানায় ভেঙে লাইপেজের কাজ সহজ করে।

  5. ৫. পরিপাককৃত খাদ্যের অধিকাংশ শোষিত হয় কোথায়?

    • ক) পাকস্থলী
    • খ) ক্ষুদ্রান্ত্র
    • গ) বৃহদন্ত্র
    • ঘ) অন্ননালি
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) ক্ষুদ্রান্ত্র — ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই বিশাল শোষণতল তৈরি করে; বৃহদন্ত্র মূলত পানি শোষণ করে।

  6. ৬. কোনো ব্যক্তির ভর 72 kg ও উচ্চতা 1.5 m হলে তার BMI কত?

    • ক) 24 kg/m²
    • খ) 28 kg/m²
    • গ) 32 kg/m²
    • ঘ) 48 kg/m²
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) 32 kg/m² — BMI = 72 / (1.5)² = 72 / 2.25 = 32 kg/m², যা স্থূলতা নির্দেশ করে।

  7. ৭. আয়োডিনের অভাবে কোন রোগ হয়?

    • ক) রিকেটস
    • খ) গলগণ্ড
    • গ) স্কার্ভি
    • ঘ) বেরিবেরি
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) গলগণ্ড — আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে লাগে; অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গলগণ্ড হয়।

  8. ৮. নিচের কোনটি স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন?

    • ক) ভিটামিন C
    • খ) ভিটামিন B12
    • গ) ভিটামিন K
    • ঘ) ভিটামিন B1
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ভিটামিন K — A, D, E, K স্নেহে দ্রবণীয়; B কমপ্লেক্স ও C পানিতে দ্রবণীয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: ১৬ বছরের রুমা প্রতিদিন শুধু ভাত ও আলুভর্তা খায়, শাকসবজি ও ফল প্রায় খায় না। কিছুদিন ধরে সে সন্ধ্যার পর কম আলোতে ভালো দেখতে পায় না, আর দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে।

  • ক) সুষম খাদ্য কাকে বলে?
  • খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রতিদিন খাওয়া দরকার কেন? ব্যাখ্যা করো।
  • গ) রুমার সমস্যাগুলো কোন কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) রুমার খাদ্যতালিকা কীভাবে পরিবর্তন করলে সে সুস্থ থাকবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. যে খাদ্যে দেহের চাহিদা অনুযায়ী সব পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
  2. ভিটামিন B কমপ্লেক্স ও C পানিতে দ্রবণীয়, তাই অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়, দেহে তেমন জমা থাকে না। এজন্য নিয়মিত খাবার থেকে নিতে হয়।
  3. কম আলোতে দেখতে না পাওয়া রাতকানা রোগ, যা ভিটামিন A-এর অভাবে হয়। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া স্কার্ভির লক্ষণ, যা ভিটামিন C-এর অভাবে হয়। তার খাবারে শুধু শর্করা আছে, ভিটামিনের উৎস শাকসবজি ও ফল নেই।
  4. ভাত-আলু শর্করা দেয়, কিন্তু আমিষ, ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ নেই। তালিকায় যোগ করতে হবে: ভিটামিন A-র জন্য গাজর, মিষ্টিকুমড়া, রঙিন শাক ও ডিম; ভিটামিন C-র জন্য পেয়ারা, আমলকী, লেবু (কাঁচা বা কম রান্না করে, কারণ তাপে C নষ্ট হয়); আমিষের জন্য মাছ, ডাল; ক্যালসিয়াম ও আয়রনের জন্য দুধ, ছোট মাছ ও কচুশাক। এভাবে ছয়টি উপাদানই পেলে তার খাদ্য সুষম হবে এবং লক্ষণগুলো সেরে উঠবে।

উদ্দীপক: শিক্ষক একটি চিত্রে খাদ্যের পথ দেখালেন: মুখগহ্বর → X → পাকস্থলী → Y → বৃহদন্ত্র। তিনি বললেন, Y অংশে দুটি গ্রন্থির রস এসে মেশে এবং এর প্রাচীরে আঙুলের মতো অসংখ্য প্রক্ষেপ আছে।

  • ক) এনজাইম কী?
  • খ) পাকস্থলীতে HCl এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
  • গ) Y অংশে শ্বেতসার কীভাবে গ্লুকোজে পরিণত হয় ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) Y অংশের গঠন খাদ্য শোষণের জন্য কতটা উপযোগী? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. এনজাইম হলো প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক, যা নিজে অপরিবর্তিত থেকে জীবদেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়।
  2. HCl খাদ্যকে অম্লীয় করে, ফলে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয় এবং পেপসিন কাজ করার উপযোগী pH পায়। এছাড়া খাদ্যের সাথে আসা অনেক জীবাণু HCl-এ মারা যায়।
  3. Y হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। ডিওডেনামে অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ অবশিষ্ট শ্বেতসারকে মল্টোজে ভাঙে। পরে আন্ত্রিক রসের মল্টেজ মল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে। পিত্তরস পরিবেশ ক্ষারীয় করায় এই এনজাইমগুলো কাজ করতে পারে।
  4. ক্ষুদ্রান্ত্র লম্বা (প্রায় ৬ m), ফলে খাদ্য দীর্ঘ সময় থাকে। এর অন্তঃপ্রাচীরে ভাঁজ, অসংখ্য ভিলাই এবং ভিলাইয়ের কোষে মাইক্রোভিলাই থাকায় শোষণতল বহুগুণ বেড়ে যায়। ভিলাইয়ের প্রাচীর মাত্র এক কোষ পুরু, ভেতরে ঘন রক্তজালিকা ও ল্যাকটিয়াল আছে; গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো এসিড রক্তে এবং ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল ল্যাকটিয়ালে দ্রুত যায়। তাই গঠনটি শোষণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র

ভাত বেশিক্ষণ চিবিয়ে দেখো, একটু মিষ্টি লাগতে শুরু করবে। কারণ লালার অ্যামাইলেজ মুখেই শ্বেতসার ভেঙে মল্টোজ বানাচ্ছে, যা মিষ্টি স্বাদের। আরেকটা মজার তথ্য: তোমার ক্ষুদ্রান্ত্রের ভাঁজ, ভিলাই আর মাইক্রোভিলাই মিলে শোষণতল মোটামুটি কয়েক দশ বর্গমিটার, অর্থাৎ পেটের ভেতর একটা ছোট ঘরের মেঝের সমান জায়গা জুড়ে খাবার শোষিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ও উত্তর

খাদ্যের উপাদান কয়টি ও কী কী?

ছয়টি: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। অনেকে খাদ্য আঁশকেও আলাদা গুরুত্ব দেন।

পিত্তরসে কি এনজাইম আছে?

না। পিত্তরসে এনজাইম নেই; এর পিত্তলবণ চর্বিকে ইমালসিফাই করে এবং পরিবেশ ক্ষারীয় করে অগ্ন্যাশয়ের এনজাইমকে কাজের সুযোগ দেয়।

ভিটামিন C রান্নায় নষ্ট হয় কেন?

ভিটামিন C পানিতে দ্রবণীয় এবং তাপে সহজে ভেঙে যায়। তাই ফল কাঁচা খাওয়া এবং সবজি বেশিক্ষণ সেদ্ধ না করা ভালো।

BMI কীভাবে বের করব?

ভর (kg) কে উচ্চতা (m) এর বর্গ দিয়ে ভাগ করো। ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলে স্বাভাবিক ধরা হয়।

উল্টো হয়ে থাকলেও খাবার পাকস্থলীতে যায় কেন?

অন্ননালির পেশি ঢেউয়ের মতো সংকুচিত হয়ে খাবার ঠেলে নেয়, যাকে পেরিস্টালসিস বলে। তাই মাধ্যাকর্ষণ লাগে না।

আরও পড়ো

সূত্র: NCTB নবম-দশম শ্রেণি জীববিজ্ঞান পাঠ্যবই, অধ্যায় ৫: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক · WHO: Body mass index (BMI) · OpenStax Biology 2e, Chapter 34: Animal Nutrition and the Digestive System