বিজ্ঞানী টিমটিম
আজ রাতের আকাশঢাকার আকাশে আজ রাতে কী দেখা যাবে?লাইভ ম্যাপ

এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬

জীবে পরিবহন

এক কথায়

জীবে পরিবহন মানে দেহের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পানি, খনিজ, খাদ্য, গ্যাস ও বর্জ্য পৌঁছে দেওয়া। উদ্ভিদে মূলরোম অভিস্রবণে পানি শোষণ করে, জাইলেম তা পাতায় তোলে, ফ্লোয়েম খাদ্য বহন করে। মানুষে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে, রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত সারা দেহে অক্সিজেন ও পুষ্টি বয়ে নেয়।

পরিবহন কেন দরকার

একটি কোষের জীব, যেমন অ্যামিবা, তার দেহের সব অংশে সরাসরি ব্যাপনের মাধ্যমেই পদার্থ পেয়ে যায়। কিন্তু বহুকোষী জীবের দেহ বড়, তার ভেতরের কোষগুলো বাইরের পরিবেশ থেকে অনেক দূরে। তাই একটি সুসংগঠিত পরিবহন ব্যবস্থা লাগে, যা পানি, খনিজ লবণ, খাদ্যরস, অক্সিজেন, হরমোন পৌঁছে দেয় এবং বর্জ্য সরিয়ে নেয়।

উদ্ভিদে এই কাজ করে জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামের দুটি পরিবহন টিস্যু। মানুষসহ উন্নত প্রাণীতে কাজটি করে রক্ত, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি মিলে গড়া রক্তসংবহনতন্ত্র, সাথে লসিকাতন্ত্র।

ব্যাপন, অভিস্রবণ ও ইমবাইবিশন

ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের অণুর বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়া। ঘরের এক কোণে সুগন্ধি স্প্রে করলে কিছুক্ষণ পর পুরো ঘরে গন্ধ পাওয়া যায়, এটাই ব্যাপন। পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে CO2 ঢোকা ও O2 বের হওয়া ব্যাপনেই ঘটে।

অভিস্রবণ (osmosis) হলো একটি বিশেষ ধরনের ব্যাপন: অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবক অর্থাৎ পানির অণু কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যায়। অভিস্রবণের ফলে দ্রবণে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে অভিস্রবণিক চাপ বলে।

ইমবাইবিশন হলো কলয়েডধর্মী শুষ্ক বস্তুর পানি শোষণ করে ফুলে ওঠা। শুকনো ছোলা বা কিশমিশ পানিতে ভেজালে ফুলে ওঠে, বীজের অঙ্কুরোদগমের শুরুও এভাবেই হয়।

  • প্লাজমোলাইসিস: কোষকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে রাখলে কোষ থেকে পানি বেরিয়ে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়।
  • ডিপ্লাজমোলাইসিস: প্লাজমোলাইসিস হওয়া কোষকে পানিতে রাখলে আবার আগের অবস্থায় ফেরে।
  • এ কারণেই গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত সার দিলে গাছ নেতিয়ে পড়তে পারে।

মূলের মাধ্যমে পানি ও খনিজ শোষণ

উদ্ভিদ প্রধানত মূলরোম দিয়ে মাটির কৈশিক পানি শোষণ করে। মূলরোমের কোষরস মাটির পানির চেয়ে ঘন, তাই অভিস্রবণে পানি মূলরোমে ঢোকে। এরপর কোষ থেকে কোষে কর্টেক্স পেরিয়ে পানি জাইলেম বাহিকায় পৌঁছায়।

খনিজ লবণ আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। এটি দুইভাবে ঘটে: নিষ্ক্রিয় শোষণ, যাতে শক্তি লাগে না এবং আয়ন ঘনত্ব অনুযায়ী ব্যাপনে ঢোকে; আর সক্রিয় শোষণ, যাতে শ্বসন থেকে পাওয়া ATP খরচ করে কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে আয়ন টেনে আনা হয়।

রসের উত্তোলন ও প্রস্বেদন

মূল থেকে শোষিত পানি ও খনিজ জাইলেমের মাধ্যমে পাতা পর্যন্ত ওঠাকে রসের উত্তোলন বলে। লম্বা গাছে শত ফুট উঁচুতে পানি তোলার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো প্রস্বেদন টান তত্ত্ব (সংসক্তি-আসঞ্জন তত্ত্ব)। পানির অণুগুলো পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে (সংসক্তি) এবং জাইলেম নালির দেয়ালে লেগে থাকে (আসঞ্জন), ফলে একটি অবিচ্ছিন্ন পানির স্তম্ভ তৈরি হয়। পাতা থেকে পানি বাষ্প হয়ে গেলে উপরে টান পড়ে, পুরো স্তম্ভ উপরে উঠে আসে।

প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ থেকে পানির বাষ্পাকারে বেরিয়ে যাওয়া। এর বেশির ভাগ ঘটে পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে।

  • পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন: পত্ররন্ধ্র দিয়ে, মোট প্রস্বেদনের সিংহভাগ।
  • ত্বকীয় প্রস্বেদন: কিউটিকল ভেদ করে।
  • লেন্টিসেলীয় প্রস্বেদন: কাণ্ডের বাকলের লেন্টিসেল দিয়ে।
  • প্রস্বেদন বাড়ায়: বেশি আলো, বেশি তাপমাত্রা, বাতাস ও কম আর্দ্রতা।
  • উপকার: পাতা ঠাণ্ডা রাখে, রসের উত্তোলনে টান দেয়, খনিজ পরিবহনে সাহায্য করে।

খাদ্য পরিবহন: ফ্লোয়েমের কাজ

পাতায় সালোকসংশ্লেষণে তৈরি খাদ্য, মূলত সুক্রোজ হিসেবে, ফ্লোয়েমের সীভনলের মধ্য দিয়ে মূল, কাণ্ড, ফল ও বীজে পৌঁছায়। একে খাদ্যের স্থানান্তর (translocation) বলে। জাইলেমে চলাচল প্রধানত নিচ থেকে উপরে, কিন্তু ফ্লোয়েমে খাদ্য প্রয়োজন অনুযায়ী উপরে-নিচে দুই দিকেই চলে। গাছের কাণ্ডের চারপাশে বাকল গোল করে তুলে ফেললে (রিং করলে) ফ্লোয়েম কেটে যায়, ফলে নিচের মূলে খাদ্য পৌঁছায় না এবং ধীরে গাছ মারা যায়।

রক্ত: উপাদান ও কাজ

রক্ত একটি তরল যোজক টিস্যু, হালকা ক্ষারীয় (pH প্রায় ৭.৪)। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে। রক্তের প্রায় ৫৫% রক্তরস (প্লাজমা) এবং প্রায় ৪৫% রক্তকণিকা।

রক্তরসের প্রায় ৯১-৯২% পানি, বাকিটা প্রোটিন (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, হরমোন ও বর্জ্য পদার্থ।

  • লোহিত রক্তকণিকা (RBC): দ্বি-অবতল, পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস নেই, হিমোগ্লোবিন দিয়ে O2 বহন করে। আয়ু প্রায় ১২০ দিন, লোহিত অস্থিমজ্জায় তৈরি।
  • শ্বেত রক্তকণিকা (WBC): নিউক্লিয়াসযুক্ত, বর্ণহীন; জীবাণু ভক্ষণ ও অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে দেহকে রক্ষা করে। প্রতি ঘন মিলিমিটারে প্রায় ৪,০০০-১১,০০০।
  • অণুচক্রিকা (প্লাটিলেট): ক্ষুদ্র, রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে; প্রতি ঘন মিলিমিটারে প্রায় ১.৫-৪ লক্ষ।
  • লোহিত কণিকার অভাবে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), শ্বেত কণিকার অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিতে লিউকেমিয়া হয়।

রক্তের গ্রুপ ও রক্তদান

বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার লোহিত কণিকার পৃষ্ঠের অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে রক্তকে A, B, AB ও O এই চারটি গ্রুপে ভাগ করেন (ABO পদ্ধতি)। এছাড়া Rh ফ্যাক্টর থাকলে Rh পজিটিভ, না থাকলে Rh নেগেটিভ।

O নেগেটিভ গ্রুপের লোহিত কণিকায় A, B বা Rh অ্যান্টিজেন নেই, তাই একে সর্বজনীন দাতা বলা হয়। AB পজিটিভ গ্রুপের রক্তরসে anti-A বা anti-B অ্যান্টিবডি নেই, তাই একে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়। তবু বাস্তবে রক্ত দেওয়ার আগে সবসময় ক্রস-ম্যাচিং করা হয়।

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুস্থ মানুষ, যার ওজন অন্তত ৪৫ কেজি, সাধারণত প্রতি চার মাস পর পর নিরাপদে রক্ত দিতে পারেন।

হৃৎপিণ্ড ও রক্তসংবহন

মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট: উপরে দুটি অলিন্দ, নিচে দুটি নিলয়। এটি পেরিকার্ডিয়াম নামের দ্বিস্তরী পর্দায় ঢাকা। ডান ও বাম পাশের রক্ত কখনো মেশে না, তাই অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্ত আলাদা থাকে। কপাটিকাগুলো রক্তকে উল্টো দিকে যেতে দেয় না।

দেহ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে আসে, সেখান থেকে ডান নিলয়ে, তারপর পালমোনারি ধমনি দিয়ে ফুসফুসে যায়। ফুসফুসে অক্সিজেন নিয়ে পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে, তারপর বাম নিলয়ে ফেরে। বাম নিলয় সবচেয়ে পুরু, কারণ এটি মহাধমনি (অ্যাওর্টা) দিয়ে সারা দেহে রক্ত পাঠায়। একে দ্বি-চক্র সংবহন বলে।

ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দূরে নেয়, প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক। শিরা রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফেরায়, এতে কপাটিকা থাকে। কৈশিকনালির প্রাচীর মাত্র এক কোষ পুরু, এখানেই রক্ত ও কোষের মধ্যে পদার্থ বিনিময় হয়।

  • পালমোনারি ধমনি একমাত্র ধমনি যা অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে; পালমোনারি শিরা একমাত্র শিরা যা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
  • সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন বিশ্রামে মিনিটে প্রায় ৭২ বার।
  • স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg: ১২০ সিস্টোলিক (নিলয় সংকোচনের সময়), ৮০ ডায়াস্টোলিক (প্রসারণের সময়)।

হৃদ্‌রোগ, রক্তচাপ ও সুস্থ থাকার উপায়

ধমনির ভেতরের দেয়ালে কোলেস্টেরল জমে নালি সরু হলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনি বন্ধ হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। রক্তচাপ দীর্ঘদিন 140/90 mmHg বা তার বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয় (কিছু আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা 130/80 mmHg থেকেই সতর্ক হতে বলে), যা হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • লবণ, চর্বি ও ধূমপান কমানো।
  • নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ।
  • শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো; মাঝে মাঝে রক্তচাপ মাপা।

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

  1. ১. অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে পানির কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে যাওয়াকে কী বলে?

    • ক) ব্যাপন
    • খ) অভিস্রবণ
    • গ) ইমবাইবিশন
    • ঘ) প্রস্বেদন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) অভিস্রবণ — অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে দ্রাবকের এই চলাচলই অভিস্রবণ।

  2. ২. শুকনো কিশমিশ পানিতে রাখলে ফুলে ওঠে কোন প্রক্রিয়ায়?

    • ক) প্লাজমোলাইসিস
    • খ) প্রস্বেদন
    • গ) ইমবাইবিশন
    • ঘ) সক্রিয় শোষণ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ইমবাইবিশন — কলয়েডধর্মী শুষ্ক বস্তুর পানি শুষে ফুলে ওঠা ইমবাইবিশন।

  3. ৩. উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে কোন টিস্যু?

    • ক) জাইলেম
    • খ) ফ্লোয়েম
    • গ) কর্টেক্স
    • ঘ) এপিডার্মিস
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) ফ্লোয়েম — ফ্লোয়েমের সীভনল দিয়ে সুক্রোজ স্থানান্তরিত হয়।

  4. ৪. লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু কত?

    • ক) প্রায় ১২ দিন
    • খ) প্রায় ৩০ দিন
    • গ) প্রায় ১২০ দিন
    • ঘ) প্রায় ৩৬৫ দিন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) প্রায় ১২০ দিন — RBC প্রায় ১২০ দিন বাঁচে, পরে প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে যায়।

  5. ৫. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে কোনটি?

    • ক) অণুচক্রিকা
    • খ) লোহিত কণিকা
    • গ) অ্যালবুমিন
    • ঘ) লিম্ফোসাইট
    উত্তর দেখো

    উত্তর: ক) অণুচক্রিকা — অণুচক্রিকা ও ফাইব্রিনোজেন মিলে জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া চালায়।

  6. ৬. সর্বজনীন দাতা কোন রক্তের গ্রুপ?

    • ক) AB পজিটিভ
    • খ) A নেগেটিভ
    • গ) O নেগেটিভ
    • ঘ) B পজিটিভ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) O নেগেটিভ — O নেগেটিভ কণিকায় A, B ও Rh অ্যান্টিজেন নেই।

  7. ৭. কোন রক্তনালি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে?

    • ক) পালমোনারি ধমনি
    • খ) পালমোনারি শিরা
    • গ) ঊর্ধ্ব মহাশিরা
    • ঘ) নিম্ন মহাশিরা
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) পালমোনারি শিরা — ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে আসে।

  8. ৮. হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু?

    • ক) ডান অলিন্দ
    • খ) বাম অলিন্দ
    • গ) ডান নিলয়
    • ঘ) বাম নিলয়
    উত্তর দেখো

    উত্তর: ঘ) বাম নিলয় — বাম নিলয় মহাধমনি দিয়ে সারা দেহে রক্ত পাঠায়, তাই বেশি চাপ লাগে।

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: রনি তার বাগানের একটি চারাগাছের গোড়ায় অনেক বেশি রাসায়নিক সার দিল। পরদিন দেখা গেল গাছটি নেতিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দুপুরের রোদে বড় আমগাছের পাতা থেকে প্রচুর পানি বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

  • ক) অভিস্রবণ কাকে বলে?
  • খ) ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝ?
  • গ) চারাগাছটি নেতিয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
  • ঘ) আমগাছের পানি হারানোর প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য উপকারী না ক্ষতিকর, বিশ্লেষণ কর।
উত্তর দেখো
  1. অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে।
  2. কলয়েডধর্মী শুষ্ক বস্তু পানি শোষণ করে ফুলে ওঠার প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে, যেমন শুকনো বীজ পানিতে ভেজালে ফোলে।
  3. অতিরিক্ত সারে মাটির দ্রবণ মূলরোমের কোষরসের চেয়ে ঘন হয়ে যায়। ফলে অভিস্রবণে পানি মূল থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়, কোষে প্লাজমোলাইসিস ঘটে। কোষ রসস্ফীতি হারায়, তাই গাছ নেতিয়ে পড়ে।
  4. প্রক্রিয়াটি প্রস্বেদন। এতে পানি নষ্ট হয়, খরায় গাছ শুকিয়ে যেতে পারে, তাই একে প্রয়োজনীয় ক্ষতি বলা হয়। তবে এর উপকার বেশি: পাতা ঠাণ্ডা রাখে, জাইলেমে টান তৈরি করে রসের উত্তোলন চালায়, খনিজ লবণ উপরে পৌঁছায় এবং পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় গ্যাস বিনিময় হয়। তাই সামগ্রিকভাবে প্রস্বেদন উপকারী।

উদ্দীপক: ৫০ বছর বয়সী করিম সাহেবের রক্তচাপ মেপে পাওয়া গেল 160/100 mmHg। ডাক্তার বললেন তার একটি ধমনিতে চর্বি জমেছে। একই দিনে দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীর জন্য রক্ত দরকার হলো, রোগীর গ্রুপ AB পজিটিভ।

  • ক) সিস্টোলিক চাপ কী?
  • খ) পালমোনারি শিরাকে ব্যতিক্রমী শিরা বলা হয় কেন?
  • গ) করিম সাহেবের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাখ্যা কর।
  • ঘ) আহত রোগীকে কোন কোন গ্রুপের রক্ত দেওয়া যেতে পারে, যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর দেখো
  1. নিলয়ের সংকোচনের সময় ধমনিতে যে সর্বোচ্চ চাপ থাকে তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে, স্বাভাবিক মান প্রায় 120 mmHg।
  2. সাধারণত শিরা অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে, কিন্তু পালমোনারি শিরা ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে আনে, তাই এটি ব্যতিক্রম।
  3. তার রক্তচাপ 140/90 mmHg এর বেশি, অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ। ধমনিতে চর্বি জমায় নালি সরু হয়েছে, হৃৎপিণ্ডকে বেশি জোরে পাম্প করতে হচ্ছে। করোনারি ধমনি বন্ধ হলে হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কের ধমনিতে সমস্যা হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে। লবণ ও চর্বি কমানো, ব্যায়াম ও নিয়মিত চিকিৎসা দরকার।
  4. AB পজিটিভ রোগীর রক্তরসে anti-A বা anti-B অ্যান্টিবডি নেই এবং সে Rh পজিটিভ, তাই নীতিগতভাবে A, B, AB, O সব গ্রুপের পজিটিভ ও নেগেটিভ লোহিত কণিকা নিতে পারে; এজন্য তাকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়। তবে সবচেয়ে নিরাপদ হলো একই গ্রুপ AB পজিটিভ রক্ত দেওয়া এবং যেকোনো ক্ষেত্রে আগে ক্রস-ম্যাচিং করা।

বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র

তোমার দেহের সব রক্তনালি এক লাইনে জুড়ে দিলে দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক লক্ষ কিলোমিটার, যা দিয়ে পৃথিবীকে দুবারের বেশি পেঁচানো যায়! আর একটি বড় গাছ গরমের দিনে প্রস্বেদনে শত শত লিটার পানি বাতাসে ছেড়ে দিতে পারে, কোনো পাম্প ছাড়াই, শুধু পানির অণুর পরস্পরকে আঁকড়ে ধরার শক্তিতে।

প্রশ্ন ও উত্তর

ব্যাপন ও অভিস্রবণের মূল পার্থক্য কী?

ব্যাপনে যেকোনো পদার্থের অণু ছড়ায় এবং পর্দা লাগে না; অভিস্রবণে শুধু দ্রাবক অর্ধভেদ্য পর্দা পেরিয়ে কম ঘন থেকে বেশি ঘন দ্রবণে যায়।

প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় ক্ষতি' বলা হয় কেন?

এতে গাছ পানি হারায়, যা ক্ষতি; কিন্তু রসের উত্তোলন, পাতা ঠাণ্ডা রাখা ও খনিজ পরিবহনের জন্য এটি অপরিহার্য।

পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না কেন?

নিউক্লিয়াস না থাকায় কোষে বেশি হিমোগ্লোবিন ধরে এবং দ্বি-অবতল আকারে বেশি অক্সিজেন বহন করা যায়।

রক্ত দিলে কি শরীর দুর্বল হয়ে যায়?

সুস্থ মানুষ একবারে প্রায় ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দেন; রক্তরস কয়েক দিনে এবং লোহিত কণিকা কয়েক সপ্তাহে পূরণ হয়ে যায়।

ধমনি ও শিরার মধ্যে কোনটিতে কপাটিকা থাকে?

শিরায় কপাটিকা থাকে, যা কম চাপের রক্তকে উল্টো দিকে যেতে দেয় না; ধমনিতে সাধারণত থাকে না।

আরও পড়ো

সূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, অধ্যায় ৬: জীবে পরিবহন · American Heart Association: Understanding Blood Pressure Readings · Britannica: Transpiration