এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৪
জীবনীশক্তি
এক কথায়
জীবনীশক্তি হলো জীবের সব কাজ চালানোর শক্তি। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোকশক্তিকে গ্লুকোজের রাসায়নিক শক্তিতে জমা রাখে। শ্বসনে সেই গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি বের হয় এবং ATP অণুতে জমা হয়। কোষ দরকারমতো ATP ভেঙে পেশি সংকোচন, সক্রিয় পরিবহন, বৃদ্ধি ইত্যাদি কাজ চালায়। তাই ATP-কে কোষের শক্তি মুদ্রা বলা হয়।
জীবনীশক্তি কী, কোথা থেকে আসে
হাঁটা, শ্বাস নেওয়া, চিন্তা করা, এমনকি ঘুমের মধ্যে হৃৎপিণ্ড চালু রাখা — প্রতিটি কাজে শক্তি লাগে। জীবদেহের এই কাজ চালানোর শক্তিকেই জীবনীশক্তি বলে।
পৃথিবীর প্রায় সব জীবনীশক্তির মূল উৎস সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ আলোকশক্তি ধরে খাদ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা রাখে। প্রাণী সেই খাদ্য খেয়ে শক্তি পায়। কোষের ভেতরে খাদ্যের শক্তি সরাসরি কাজে লাগে না; আগে তা ATP নামের অণুতে রূপান্তরিত হয়।
- শক্তির প্রবাহ: সূর্যের আলো → সালোকসংশ্লেষণ → গ্লুকোজ (রাসায়নিক শক্তি) → শ্বসন → ATP → কোষের কাজ
- শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, শুধু এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদলায়; প্রতি ধাপে কিছু শক্তি তাপ হিসেবে বেরিয়ে যায়।
ATP: কোষের শক্তি মুদ্রা
ATP-এর পূর্ণরূপ অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট। এর তিনটি অংশ: অ্যাডিনিন (নাইট্রোজেন বেস), রাইবোজ (৫ কার্বনের শর্করা) এবং তিনটি ফসফেট গ্রুপ। অ্যাডিনিন ও রাইবোজ মিলে অ্যাডিনোসিন।
শেষ দুটি ফসফেট বন্ধনকে উচ্চশক্তি বন্ধন বলা হয়। শেষ ফসফেটটি পানির সাহায্যে আলাদা হলে (আর্দ্রবিশ্লেষণ) ATP হয় ADP এবং প্রায় ৭.৩ কিলোক্যালরি/মোল (প্রায় ৩০.৫ কিলোজুল/মোল) শক্তি মুক্ত হয়। আবার শ্বসন বা সালোকসংশ্লেষণে পাওয়া শক্তি দিয়ে ADP-তে ফসফেট যোগ করে ATP তৈরি হয়, একে ফসফোরাইলেশন বলে।
টাকার মতো ATP যেকোনো কাজে খরচ করা যায় বলে একে শক্তি মুদ্রা বলে। শক্তি তৈরি হয় এক জায়গায়, খরচ হয় অন্য জায়গায়; ATP মাঝখানের বাহক।
- ATP-এর ব্যবহার: পেশি সংকোচন, সক্রিয় পরিবহন, স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন, প্রোটিন ও অন্যান্য জৈব অণু সংশ্লেষণ, কোষ বিভাজন।
- আলোর সাহায্যে ATP তৈরি = ফটোফসফোরাইলেশন (ক্লোরোপ্লাস্টে); শ্বসনে জারণের মাধ্যমে ATP তৈরি = অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন (মাইটোকন্ড্রিয়ায়)।
ATP + H2O → ADP + Pi + শক্তি (প্রায় ৭.৩ kcal/mol)
ADP + Pi + শক্তি → ATP (ফসফোরাইলেশন)
সালোকসংশ্লেষণ: আলো থেকে খাদ্য
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয়, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। এটি মূলত পাতার মেসোফিল কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে ঘটে (কচি কাণ্ডসহ অন্যান্য সবুজ অংশেও হয়)।
মনে রাখার মতো একটি সূক্ষ্ম তথ্য: যে অক্সিজেন বের হয় তা আসে পানি থেকে, CO2 থেকে নয়। তাই সমীকরণে দুই দিকেই পানি লেখা হয়।
- কাঁচামাল: CO2 (বায়ু থেকে পত্ররন্ধ্র দিয়ে) ও পানি (মূল দিয়ে)
- প্রয়োজনীয় শর্ত: আলো, ক্লোরোফিল, উপযুক্ত তাপমাত্রা
- উৎপাদ: গ্লুকোজ (পরে শ্বেতসার হিসেবে জমা হয়), অক্সিজেন ও পানি
6CO2 + 12H2O → C6H12O6 + 6O2 + 6H2O (আলো ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে)
সালোকসংশ্লেষণের দুই পর্যায়
আলোক পর্যায় (আলোকনির্ভর পর্যায়) ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানা বা থাইলাকয়েড পর্দায়। ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে উত্তেজিত হয়। আলোর শক্তিতে পানি ভেঙে যায় (পানির ফটোলাইসিস), অক্সিজেন বের হয়। এই পর্যায়ে তৈরি হয় ATP ও NADPH + H+, যাদের একসাথে আত্তীকরণ শক্তি বলে।
অন্ধকার পর্যায় (আলোকনিরপেক্ষ পর্যায়) ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায়। এখানে আলো সরাসরি লাগে না, তবে আলোক পর্যায়ের ATP ও NADPH লাগে। ক্যালভিন চক্রে CO2 রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত হয়ে শেষে গ্লুকোজ তৈরি হয়। নাম অন্ধকার হলেও এটি দিনের বেলাতেই চলে, কারণ আলোক পর্যায়ের উৎপাদ ছাড়া চলতে পারে না।
- C3 উদ্ভিদ: CO2 আত্তীকরণের প্রথম স্থায়ী যৌগ ৩ কার্বনের ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA), যেমন ধান, গম, আম
- C4 উদ্ভিদ: প্রথম স্থায়ী যৌগ ৪ কার্বনের অক্সালোঅ্যাসেটিক অ্যাসিড, যেমন ভুট্টা, আখ; উষ্ণ ও উজ্জ্বল আলোয় এরা বেশি দক্ষ
- একটি গ্লুকোজ অণু তৈরিতে ক্যালভিন চক্রে ১৮টি ATP ও ১২টি NADPH খরচ হয়
সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবকসমূহ
সালোকসংশ্লেষণের হার কয়েকটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যে প্রভাবকটি সবচেয়ে কম মাত্রায় থাকে, সেটিই হার নির্ধারণ করে — একে সীমাবদ্ধ প্রভাবক বলা হয়।
- আলো: আলোর তীব্রতা বাড়লে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত হার বাড়ে; লাল ও নীল আলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর, সবুজ আলো সবচেয়ে কম শোষিত হয় (তাই পাতা সবুজ দেখায়)
- CO2-এর ঘনত্ব: বায়ুতে CO2 প্রায় ০.০৪%; কিছুটা বাড়ালে হার বাড়ে
- তাপমাত্রা: সাধারণত প্রায় ২৫–৩৫ °C ভালো; খুব বেশি তাপে এনজাইম নষ্ট হয়
- পানি: পানির অভাবে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে CO2 ঢোকা কমে যায়
- অভ্যন্তরীণ: ক্লোরোফিলের পরিমাণ, পাতার গঠন, উৎপন্ন শর্করা জমে থাকা
শ্বসন: খাদ্য ভেঙে শক্তি
যে প্রক্রিয়ায় জীবকোষে খাদ্যবস্তু (মূলত গ্লুকোজ) জারিত হয়ে শক্তি মুক্ত হয় এবং সেই শক্তি ATP-তে জমা হয়, তাকে শ্বসন বলে। এটি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং জীবের প্রতিটি সজীব কোষে দিনরাত চলে — উদ্ভিদেও।
অক্সিজেনের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শ্বসন দুই প্রকার: সবাত শ্বসন (অক্সিজেন লাগে) ও অবাত শ্বসন (অক্সিজেন লাগে না)।
সবাত শ্বসন: C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O + শক্তি (প্রায় ৬৮৬ kcal/mol, প্রায় ২৮৭০ kJ/mol)
সবাত শ্বসনের চার ধাপ
সবাত শ্বসন চারটি ধাপে ঘটে। প্রথম ধাপ কোষের সাইটোপ্লাজমে, বাকি তিনটি মাইটোকন্ড্রিয়ায়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
- ১. গ্লাইকোলাইসিস (সাইটোপ্লাজম): ১ অণু গ্লুকোজ ভেঙে ২ অণু পাইরুভিক অ্যাসিড; নিট লাভ ২ ATP ও ২ NADH + H+; অক্সিজেন লাগে না
- ২. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি (মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স): প্রতিটি পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে ১ অণু CO2 বের হয়ে অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরি হয়; ২ NADH + H+ মেলে
- ৩. ক্রেবস চক্র (ম্যাট্রিক্স): অ্যাসিটাইল কো-এ অক্সালোঅ্যাসেটিক অ্যাসিডের সাথে যুক্ত হয়ে সাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে, তাই একে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্রও বলে; ১ গ্লুকোজে চক্র ২ বার ঘোরে, ৪ CO2, ২ ATP (বা GTP), ৬ NADH ও ২ FADH2 তৈরি হয়
- ৪. ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র (মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃপর্দা): NADH ও FADH2-এর ইলেকট্রন ধাপে ধাপে অক্সিজেনে পৌঁছায়, অক্সিজেন হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে, আর বেশিরভাগ ATP এখানেই তৈরি হয়
- পাঠ্যবইয়ের হিসাবে ১ অণু গ্লুকোজের সবাত শ্বসনে মোট ৩৮টি ATP উৎপন্ন হয় (আধুনিক পরিমাপে বাস্তবে প্রায় ৩০–৩২টি; পরীক্ষায় বইয়ের সংখ্যা ৩৮ লিখবে)
অবাত শ্বসন ও গাঁজন
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজ অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে অল্প শক্তি মুক্ত হলে তাকে অবাত শ্বসন বলে। পুরো প্রক্রিয়া সাইটোপ্লাজমে ঘটে। গ্লাইকোলাইসিস একই থাকে, তারপর পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে ইথানল ও CO2 অথবা ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। নিট লাভ মাত্র ২টি ATP।
অণুজীব (যেমন ইস্ট) দিয়ে ঘটানো অবাত শ্বসনকে গাঁজন বা ফারমেন্টেশন বলে। পাউরুটি ফোলে ইস্টের তৈরি CO2-এর কারণে, আর দই জমে ব্যাকটেরিয়ার তৈরি ল্যাকটিক অ্যাসিডে।
দৌড়ের সময় পেশিতে অক্সিজেন কম পড়লে পেশিকোষ সাময়িকভাবে অবাত শ্বসনে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে।
C6H12O6 → 2C2H5OH + 2CO2 + শক্তি (ইস্ট, অ্যালকোহলিক গাঁজন)
C6H12O6 → 2C3H6O3 + শক্তি (ল্যাকটিক অ্যাসিড গাঁজন)
সালোকসংশ্লেষণ বনাম শ্বসন: এক নজরে
- স্থান: সালোকসংশ্লেষণ — ক্লোরোপ্লাস্ট; শ্বসন — সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া
- কোথায় ঘটে: সালোকসংশ্লেষণ শুধু সবুজ কোষে, দিনের আলোয়; শ্বসন সব সজীব কোষে, দিনরাত
- শক্তি: সালোকসংশ্লেষণে শক্তি জমা হয় (উপচিতি বা অ্যানাবলিক); শ্বসনে শক্তি মুক্ত হয় (অপচিতি বা ক্যাটাবলিক)
- গ্যাস: সালোকসংশ্লেষণে CO2 গ্রহণ, O2 ত্যাগ; সবাত শ্বসনে O2 গ্রহণ, CO2 ত্যাগ
- ওজন: সালোকসংশ্লেষণে শুকনো ওজন বাড়ে; শ্বসনে কমে
- দুটি প্রক্রিয়া একে অপরের পরিপূরক: একটির উৎপাদ অন্যটির কাঁচামাল, এতে বায়ুমণ্ডলে O2 ও CO2-এর ভারসাম্য থাকে
সমাধান করা অংক
উদাহরণ ১: ১ অণু গ্লুকোজের সবাত শ্বসনে পাঠ্যবই অনুযায়ী মোট ৩৮টি ATP কীভাবে আসে দেখাও। (ধরো, ১ NADH = ৩ ATP, ১ FADH2 = ২ ATP)
- গ্লাইকোলাইসিস: সরাসরি ২ ATP + ২ NADH (২ × ৩ = ৬ ATP) = ৮ ATP
- অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি: ২ NADH = ২ × ৩ = ৬ ATP
- ক্রেবস চক্র (২ বার): সরাসরি ২ ATP + ৬ NADH (১৮ ATP) + ২ FADH2 (৪ ATP) = ২৪ ATP
- মোট = ৮ + ৬ + ২৪
উত্তর: ৩৮টি ATP
উদাহরণ ২: ১টি ATP আর্দ্রবিশ্লেষণে প্রায় ৭.৩ kcal/mol শক্তি দেয়। ১ মোল গ্লুকোজ থেকে ৩৮ মোল ATP হলে শ্বসনের দক্ষতা কত? (গ্লুকোজের মোট শক্তি ৬৮৬ kcal/mol)
- ATP-তে জমা শক্তি = ৩৮ × ৭.৩ = ২৭৭.৪ kcal
- দক্ষতা = (২৭৭.৪ ÷ ৬৮৬) × ১০০%
- = প্রায় ৪০.৪%
- বাকি প্রায় ৬০% শক্তি তাপ হিসেবে বের হয়, যা শরীর গরম রাখতে কাজে লাগে
উত্তর: প্রায় ৪০%
উদাহরণ ৩: সালোকসংশ্লেষণে ১ অণু গ্লুকোজ তৈরি করতে কত অণু CO2 লাগে এবং কত অণু O2 বের হয়? ৩ অণু গ্লুকোজের জন্য হিসাব করো।
- সমীকরণ: 6CO2 + 12H2O → C6H12O6 + 6O2 + 6H2O
- ১ গ্লুকোজ = ৬ CO2 গ্রহণ ও ৬ O2 ত্যাগ
- ৩ গ্লুকোজ = ৩ × ৬ = ১৮ CO2 এবং ১৮ O2
উত্তর: ১৮ অণু CO2 লাগে, ১৮ অণু O2 বের হয়
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
১. ATP-তে কয়টি উচ্চশক্তি ফসফেট বন্ধন থাকে?
- ক) ১টি
- খ) ২টি
- গ) ৩টি
- ঘ) ৪টি
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) ২টি — তিনটি ফসফেটের মধ্যে শেষ দুটি সংযোগকে উচ্চশক্তি বন্ধন ধরা হয়।
২. সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের উৎস কোনটি?
- ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
- খ) গ্লুকোজ
- গ) পানি
- ঘ) ক্লোরোফিল
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) পানি — আলোক পর্যায়ে পানির ফটোলাইসিস থেকে অক্সিজেন বের হয়।
৩. ক্যালভিন চক্র ক্লোরোপ্লাস্টের কোথায় ঘটে?
- ক) গ্রানা
- খ) স্ট্রোমা
- গ) থাইলাকয়েড পর্দা
- ঘ) বহিঃপর্দা
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) স্ট্রোমা — অন্ধকার পর্যায় বা ক্যালভিন চক্র স্ট্রোমায় ঘটে।
৪. গ্লাইকোলাইসিস কোষের কোথায় ঘটে?
- ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
- খ) নিউক্লিয়াস
- গ) সাইটোপ্লাজম
- ঘ) রাইবোসোম
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) সাইটোপ্লাজম — গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং অক্সিজেন লাগে না।
৫. C4 উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
- ক) ধান
- খ) গম
- গ) ভুট্টা
- ঘ) আম
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) ভুট্টা — ভুট্টা ও আখ C4 উদ্ভিদ; ধান, গম, আম C3।
৬. অবাত শ্বসনে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে নিট কয়টি ATP পাওয়া যায়?
- ক) ২টি
- খ) ৮টি
- গ) ৩৬টি
- ঘ) ৩৮টি
উত্তর দেখো
উত্তর: ক) ২টি — শুধু গ্লাইকোলাইসিস থেকে নিট ২টি ATP আসে।
৭. ক্রেবস চক্রের প্রথম স্থায়ী যৌগ কোনটি?
- ক) পাইরুভিক অ্যাসিড
- খ) সাইট্রিক অ্যাসিড
- গ) ল্যাকটিক অ্যাসিড
- ঘ) অক্সালোঅ্যাসেটিক অ্যাসিড
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) সাইট্রিক অ্যাসিড — অ্যাসিটাইল কো-এ ও অক্সালোঅ্যাসেটিক অ্যাসিড মিলে সাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি হয়।
৮. সবাত শ্বসনে অক্সিজেনের প্রধান ভূমিকা কী?
- ক) গ্লুকোজ ভাঙা শুরু করা
- খ) ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের শেষ ইলেকট্রন গ্রাহক
- গ) CO2 তৈরি করা
- ঘ) পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি করা
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের শেষ ইলেকট্রন গ্রাহক — অক্সিজেন শেষ ইলেকট্রন ও হাইড্রোজেন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে; এটি না থাকলে ইলেকট্রন প্রবাহ থেমে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রাফি একটি জলজ উদ্ভিদ (হাইড্রিলা) পানিভর্তি বিকারে রেখে প্রথমে রোদে, পরে অন্ধকার ঘরে রাখল। রোদে গাছের গা থেকে প্রচুর বুদবুদ উঠল, অন্ধকারে বুদবুদ প্রায় থেমে গেল। পানিতে সামান্য খাবার সোডা (NaHCO3) মেশালে রোদে বুদবুদ আরও বাড়ল।
- ক) ফটোলাইসিস কী?
- খ) ATP-কে শক্তি মুদ্রা বলা হয় কেন?
- গ) রোদে উৎপন্ন বুদবুদের গ্যাসটি কীভাবে তৈরি হয় ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) খাবার সোডা মেশালে বুদবুদ বাড়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- আলোর শক্তিতে পানির অণু ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন, ইলেকট্রন ও অক্সিজেন তৈরি হওয়াকে ফটোলাইসিস বলে।
- ATP-তে জমা শক্তি কোষের প্রায় সব কাজে খরচ করা যায় এবং শক্তি উৎপাদনের জায়গা থেকে ব্যবহারের জায়গায় পৌঁছে দেয়, তাই টাকার মতো একে শক্তি মুদ্রা বলে।
- বুদবুদটি অক্সিজেন। আলোক পর্যায়ে ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে উত্তেজিত হয়, সেই শক্তিতে পানি ভেঙে অক্সিজেন বের হয়। অন্ধকারে আলোক পর্যায় চলে না বলে বুদবুদ থেমে যায়।
- খাবার সোডা পানিতে CO2 সরবরাহ বাড়ায়। CO2 সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল এবং পানিতে প্রায়ই সীমাবদ্ধ প্রভাবক। CO2 বাড়ায় ক্যালভিন চক্র দ্রুত চলে, আলোক পর্যায়ের ATP ও NADPH দ্রুত খরচ হয়, ফলে পুরো প্রক্রিয়ার হার ও অক্সিজেন নির্গমন বাড়ে। তবে আলো বা তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ হলে একটা পর্যায়ের পর আর বাড়বে না।
উদ্দীপক: মিম ১০০ মিটার দৌড় শেষে পায়ে ব্যথা ও ক্লান্তি অনুভব করল। একই দিনে তার মা আটার সাথে ইস্ট মিশিয়ে রেখে দিলেন; কয়েক ঘণ্টা পর আটার মণ্ড ফুলে উঠল।
- ক) গাঁজন কী?
- খ) মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন?
- গ) মিমের পায়ে ব্যথার কারণ শ্বসনের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) মিমের পেশি ও ইস্টের শ্বসন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- অণুজীবের দ্বারা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে শর্করার অসম্পূর্ণ জারণকে গাঁজন বলে।
- সবাত শ্বসনের অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে এবং কোষের বেশিরভাগ ATP এখানে তৈরি হয়, তাই একে শক্তিঘর বলে।
- দ্রুত দৌড়ে পেশিতে যত অক্সিজেন দরকার তত পৌঁছায় না। তখন পেশিকোষ অবাত শ্বসনে গ্লুকোজ ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা সাময়িক ব্যথা ও ক্লান্তির সাথে জড়িত। বিশ্রামে অক্সিজেন পেলে ল্যাকটিক অ্যাসিড ধীরে ধীরে সরে যায়।
- দুটিই অবাত শ্বসন, দুটিতেই গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং নিট ২ ATP মেলে। পার্থক্য শেষ উৎপাদে: পেশিতে পাইরুভিক অ্যাসিড ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, কোনো CO2 বের হয় না; ইস্টে ইথানল ও CO2 তৈরি হয়। ইস্টের CO2 মণ্ডে আটকে গিয়ে আটা ফোলায়। পেশির অবাত শ্বসন সাময়িক জরুরি ব্যবস্থা, অথচ ইস্ট অক্সিজেন ছাড়াই দীর্ঘ সময় বাঁচতে পারে।
বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র
আপনার শরীর প্রতিদিন নিজের ওজনের কাছাকাছি পরিমাণ ATP তৈরি ও খরচ করে, অথচ যেকোনো মুহূর্তে শরীরে ATP থাকে মাত্র কয়েক দশ গ্রাম। অর্থাৎ প্রতিটি ATP অণু দিনে হাজারবার ভেঙে আবার জোড়া লাগে। আর যে অক্সিজেনে আপনি এখন শ্বাস নিচ্ছেন, তা কোনো একদিন কোনো গাছ বা সমুদ্রের শৈবালের ভেতরে পানির অণু ভেঙে বেরিয়েছিল।
প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্ভিদ কি রাতে শুধু শ্বসন করে?
উদ্ভিদ দিনরাত শ্বসন করে। দিনে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয় বলে মোট হিসাবে O2 বের হয়; রাতে আলো না থাকায় শুধু শ্বসন চলে, তাই তখন CO2 বের হয়।
অন্ধকার পর্যায় কি সত্যিই রাতে হয়?
না। এর জন্য আলো সরাসরি লাগে না, কিন্তু আলোক পর্যায়ের তৈরি ATP ও NADPH লাগে। তাই এটি মূলত দিনেই চলে। আধুনিক বইয়ে একে আলোকনিরপেক্ষ পর্যায় বা ক্যালভিন চক্র বলা হয়।
৩৮ ATP নাকি ৩০–৩২ ATP, পরীক্ষায় কোনটি লিখব?
এসএসসি পরীক্ষায় পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৩৮ লিখবে। আধুনিক গবেষণায় ঝিল্লি দিয়ে পরিবহনের খরচ ধরলে বাস্তবে প্রায় ৩০–৩২ পাওয়া যায় — এটা জানা থাকলে ভালো, তবে উত্তরে বইয়ের মান দাও।
শ্বাসক্রিয়া আর শ্বসন কি একই?
না। শ্বাসক্রিয়া হলো ফুসফুসে বাতাস নেওয়া-ছাড়ার শারীরিক প্রক্রিয়া। শ্বসন হলো কোষের ভেতরে খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি মুক্ত হওয়ার রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
পাতা সবুজ দেখায় কেন?
ক্লোরোফিল লাল ও নীল আলো বেশি শোষণ করে, সবুজ আলো বেশিরভাগ প্রতিফলিত করে। সেই প্রতিফলিত সবুজ আলো চোখে আসে বলে পাতা সবুজ দেখায়।
আরও পড়ো
সূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, ৪র্থ অধ্যায় জীবনীশক্তি · OpenStax Biology 2e — Cellular Respiration and Photosynthesis · Khan Academy — Photosynthesis