বিজ্ঞানী টিমটিম
আজ রাতের আকাশঢাকার আকাশে আজ রাতে কী দেখা যাবে?লাইভ ম্যাপ

এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩

কোষ বিভাজন

এক কথায়

কোষ বিভাজন হলো যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ ভেঙে নতুন অপত্য কোষ তৈরি হয়। তিন রকম: অ্যামাইটোসিস (প্রত্যক্ষ), মাইটোসিস (সমীকরণিক, ক্রোমোসোম সংখ্যা একই থাকে, দেহকোষে বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ) এবং মিয়োসিস (হ্রাসমূলক, ক্রোমোসোম অর্ধেক হয়, জননকোষ তৈরি হয়)। মাইটোসিসে ২টি, মিয়োসিসে ৪টি অপত্য কোষ হয়।

কোষ বিভাজন কী, আর কেন দরকার

তুমি জন্মেছিলে একটিমাত্র কোষ, জাইগোট থেকে। আজ তোমার শরীরে আনুমানিক ৩৭ লক্ষ কোটি (প্রায় ৩.৭ × ১০^১৩) কোষ। এই বিশাল সংখ্যায় পৌঁছানোর একমাত্র উপায় কোষ বিভাজন। যে প্রক্রিয়ায় একটি জীবকোষ বিভক্ত হয়ে দুই বা ততোধিক অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকেই কোষ বিভাজন বলে।

বিভাজনের আগে যে কোষটি থাকে তাকে মাতৃকোষ, আর বিভাজনে তৈরি নতুন কোষগুলোকে অপত্য কোষ বলে। জীবের বৃদ্ধি, ক্ষতস্থান সারানো, পুরোনো কোষ বদলানো এবং বংশবৃদ্ধি সবই কোষ বিভাজনের ওপর নির্ভর করে।

  • অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন
  • মাইটোসিস বা সমীকরণিক বিভাজন
  • মিয়োসিস বা হ্রাসমূলক বিভাজন

অ্যামাইটোসিস: সবচেয়ে সরল বিভাজন

অ্যামাইটোসিসে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি মাঝখান থেকে চাপ খেয়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। এখানে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হয় না এবং ক্রোমোসোম আলাদা করে দেখা যায় না। প্রথমে নিউক্লিয়াস লম্বা হয়ে মাঝখানে খাঁজ পড়ে, তারপর সাইটোপ্লাজমও একইভাবে ভাগ হয়।

এ ধরনের বিভাজন দেখা যায় ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে। মনে রাখার বিষয়: অ্যামাইটোসিসে ক্রোমোসোমের সমবণ্টন নিশ্চিত হয় না।

মাইটোসিস: কোথায় ও কেন হয়

যে বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভক্ত হয়ে সমান সংখ্যক ক্রোমোসোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা ও গুণ মাতৃকোষের মতোই থাকে, তাই একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।

মাইটোসিস হয় দেহকোষে। উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু এবং প্রাণীর ভ্রূণ, ত্বক ও অস্থিমজ্জার মতো জায়গায় এটি বেশি দেখা যায়। মানুষের দেহকোষে ৪৬টি (২৩ জোড়া) ক্রোমোসোম থাকে; মাইটোসিসের পরও প্রতিটি অপত্য কোষে ৪৬টিই থাকে।

বিভাজন শুরুর আগে কোষ একটি প্রস্তুতি দশায় থাকে, যাকে ইন্টারফেজ বলে। এ সময় DNA অনুলিপন হয়, ফলে প্রতিটি ক্রোমোসোম দুটি ক্রোমাটিড নিয়ে গঠিত হয়। ইন্টারফেজ কোষ বিভাজনের ধাপ নয়, প্রস্তুতি পর্ব।

মাইটোসিস: 2n → 2n + 2n (দুটি অপত্য কোষ)

মানুষ: 46 → 46 + 46

মাইটোসিসের ধাপগুলো

মাইটোসিস দুটি অংশে ঘটে: ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) এবং সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন)। ক্যারিওকাইনেসিস পাঁচটি দশায় ভাগ করা হয়।

  • প্রোফেজ: ক্রোমাটিন তন্তু কুণ্ডলিত হয়ে খাটো ও মোটা ক্রোমোসোম দেখা যায়; প্রতিটি ক্রোমোসোমে দুটি ক্রোমাটিড সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে।
  • প্রো-মেটাফেজ: নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়, স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়, ক্রোমোসোম বিষুবীয় অঞ্চলের দিকে সরে।
  • মেটাফেজ: সব ক্রোমোসোম স্পিন্ডলের বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়; সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে। ক্রোমোসোম সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়, তাই গণনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য এই দশা সবচেয়ে ভালো।
  • অ্যানাফেজ: সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়, ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে চলে যায়; এদের আকৃতি V, L, J বা I এর মতো দেখায়।
  • টেলোফেজ: ক্রোমোসোম মেরুতে পৌঁছে আবার সরু লম্বা হয়, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস ফিরে আসে, দুটি নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়।
  • সাইটোকাইনেসিস: উদ্ভিদকোষে বিষুবীয় তলে কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে এবং প্রাণীকোষে কোষঝিল্লির খাঁজ বা ভাঁজের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়।

মাইটোসিসের গুরুত্ব

মাইটোসিস নিয়ন্ত্রণ হারালে কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, যা টিউমার বা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনই সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি।

  • বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়।
  • ক্ষতস্থান পূরণ ও পুরোনো কোষ প্রতিস্থাপন করে, যেমন ত্বক ও রক্তকোষ।
  • অপত্য কোষে মাতৃকোষের মতো একই সংখ্যক ও একই গুণের ক্রোমোসোম রেখে বংশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
  • অঙ্গজ প্রজনন ঘটায়, যেমন কাটিং বা কলম থেকে নতুন গাছ।
  • নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তনের সঠিক অনুপাত বজায় রাখে।

মিয়োসিস: ক্রোমোসোম অর্ধেক হওয়ার বিভাজন

যে বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস পরপর দুবার বিভক্ত হয় কিন্তু ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভক্ত হয়, ফলে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং প্রতিটিতে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, তাকে মিয়োসিস বলে। ক্রোমোসোম সংখ্যা কমে বলে একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।

মিয়োসিস হয় জনন মাতৃকোষে। প্রাণীর শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরির সময় এবং সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকে রেণু তৈরির সময় মিয়োসিস ঘটে। মানুষের শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে তাই ২৩টি ক্রোমোসোম থাকে; নিষেকে এরা মিলে আবার ৪৬টি হয়।

মিয়োসিসের দুটি পর্ব: মিয়োসিস-১ এবং মিয়োসিস-২। মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দীর্ঘ এবং পাঁচটি উপদশায় বিভক্ত: লেপ্টোটিন, জাইগোটিন, প্যাকাইটিন, ডিপ্লোটিন ও ডায়াকাইনেসিস। জাইগোটিনে সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড় বাঁধে (সাইন্যাপসিস), প্যাকাইটিনে ক্রসিং ওভার ঘটে, অর্থাৎ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশ বিনিময় হয়, আর ডিপ্লোটিনে কায়াজমা দেখা যায়।

মিয়োসিস-১ এর অ্যানাফেজে সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ার দুই সদস্য বিপরীত মেরুতে যায়, তাই এখানেই ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। মিয়োসিস-২ অনেকটা মাইটোসিসের মতো: এখানে ক্রোমাটিড আলাদা হয়।

মিয়োসিস: 2n → n + n + n + n (চারটি অপত্য কোষ)

মানুষ: 46 → 23 × 4টি কোষ; নিষেক: 23 + 23 = 46

মিয়োসিসের গুরুত্ব

  • জননকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক করে, ফলে নিষেকের পর প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই থাকে।
  • ক্রসিং ওভার ও ক্রোমোসোমের স্বাধীন বণ্টনে জিনের নতুন সমন্বয় তৈরি হয়, ফলে সন্তানে বৈচিত্র্য আসে।
  • এই বৈচিত্র্য প্রকরণ ও বিবর্তনের কাঁচামাল।
  • যৌন প্রজননকারী জীবে জননকোষ তৈরির একমাত্র পথ।

মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য (পরীক্ষায় বারবার আসে)

  • স্থান: মাইটোসিস দেহকোষে; মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে।
  • নিউক্লিয়াস বিভাজন: মাইটোসিসে একবার; মিয়োসিসে দুবার।
  • অপত্য কোষ: মাইটোসিসে ২টি; মিয়োসিসে ৪টি।
  • ক্রোমোসোম সংখ্যা: মাইটোসিসে মাতৃকোষের সমান (2n থেকে 2n); মিয়োসিসে অর্ধেক (2n থেকে n)।
  • প্রোফেজ: মাইটোসিসে সরল ও সংক্ষিপ্ত; মিয়োসিসের প্রোফেজ-১ দীর্ঘ ও পাঁচ উপদশাবিশিষ্ট।
  • ক্রসিং ওভার: মাইটোসিসে হয় না; মিয়োসিসে হয়।
  • অপত্য কোষের গুণ: মাইটোসিসে মাতৃকোষের মতো একই; মিয়োসিসে ভিন্ন ভিন্ন।
  • কাজ: মাইটোসিস বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ; মিয়োসিস জননকোষ তৈরি ও বৈচিত্র্য।

সমাধান করা অংক

উদাহরণ ১: একটি প্রাণীর দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ২৪। এর একটি দেহকোষ মাইটোসিসে এবং একটি জনন মাতৃকোষ মিয়োসিসে বিভাজিত হলে অপত্য কোষের সংখ্যা ও প্রতিটির ক্রোমোসোম সংখ্যা কত?

  1. দেহকোষে 2n = 24।
  2. মাইটোসিসে ২টি অপত্য কোষ হয়, প্রতিটিতে 2n = 24টি ক্রোমোসোম।
  3. মিয়োসিসে ৪টি অপত্য কোষ হয়, প্রতিটিতে n = 24 ÷ 2 = 12টি ক্রোমোসোম।

উত্তর: মাইটোসিস: ২টি কোষ, প্রতিটিতে ২৪টি; মিয়োসিস: ৪টি কোষ, প্রতিটিতে ১২টি ক্রোমোসোম।

উদাহরণ ২: একটি কোষ পরপর ৫ বার মাইটোসিস বিভাজন সম্পন্ন করলে মোট কতটি কোষ তৈরি হবে?

  1. প্রতি মাইটোসিসে কোষ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়।
  2. k বার বিভাজনের পর কোষ সংখ্যা = 2^k (এখানে k = 5)।
  3. 2^5 = 32।

উত্তর: ৩২টি কোষ।

উদাহরণ ৩: মানুষের ১০টি শুক্রাণু মাতৃকোষ মিয়োসিস সম্পন্ন করলে কতটি শুক্রাণু তৈরি হবে এবং প্রতিটিতে কতটি ক্রোমোসোম থাকবে?

  1. একটি শুক্রাণু মাতৃকোষ থেকে মিয়োসিসে ৪টি শুক্রাণু হয়।
  2. ১০টি মাতৃকোষ থেকে 10 × 4 = 40টি।
  3. মানুষে 2n = 46, তাই প্রতিটি শুক্রাণুতে n = 23।

উত্তর: ৪০টি শুক্রাণু, প্রতিটিতে ২৩টি ক্রোমোসোম।

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

  1. ১. কোন দশায় ক্রোমোসোম সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখায়?

    • ক) প্রোফেজ
    • খ) মেটাফেজ
    • গ) অ্যানাফেজ
    • ঘ) টেলোফেজ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) মেটাফেজ — মেটাফেজে ক্রোমোসোম সর্বাধিক কুণ্ডলিত হয়ে বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ থাকে।

  2. ২. অ্যামাইটোসিস দেখা যায় কোনটিতে?

    • ক) মানুষের ত্বকে
    • খ) পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগে
    • গ) ব্যাকটেরিয়ায়
    • ঘ) পরাগধানীতে
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ব্যাকটেরিয়ায় — ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবার মতো এককোষী জীবে প্রত্যক্ষ বিভাজন হয়।

  3. ৩. ক্রসিং ওভার ঘটে কোন উপদশায়?

    • ক) লেপ্টোটিন
    • খ) জাইগোটিন
    • গ) প্যাকাইটিন
    • ঘ) ডায়াকাইনেসিস
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) প্যাকাইটিন — প্যাকাইটিনে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশ বিনিময় হয়।

  4. ৪. মাইটোসিসে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় কোন দশায়?

    • ক) প্রোফেজ
    • খ) মেটাফেজ
    • গ) অ্যানাফেজ
    • ঘ) টেলোফেজ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) অ্যানাফেজ — অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হয়ে ক্রোমাটিড বিপরীত মেরুতে যায়।

  5. ৫. মানুষের ডিম্বাণুতে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত?

    • ক) ২৩
    • খ) ৪৬
    • গ) ২৩ জোড়া
    • ঘ) ৯২
    উত্তর দেখো

    উত্তর: ক) ২৩ — মিয়োসিসে ক্রোমোসোম অর্ধেক হয়: 46 ÷ 2 = 23।

  6. ৬. উদ্ভিদকোষে সাইটোকাইনেসিস ঘটে কীভাবে?

    • ক) কোষঝিল্লির খাঁজের মাধ্যমে
    • খ) কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে
    • গ) নিউক্লিয়াস লম্বা হয়ে
    • ঘ) স্পিন্ডল ভেঙে
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে — শক্ত কোষপ্রাচীরের কারণে উদ্ভিদকোষে বিষুবীয় তলে কোষপ্লেট তৈরি হয়।

  7. ৭. সমসংস্থ ক্রোমোসোমের জোড় বাঁধা (সাইন্যাপসিস) ঘটে কোন উপদশায়?

    • ক) লেপ্টোটিন
    • খ) জাইগোটিন
    • গ) ডিপ্লোটিন
    • ঘ) ডায়াকাইনেসিস
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) জাইগোটিন — জাইগোটিনে সমসংস্থ ক্রোমোসোম পাশাপাশি এসে জোড় বাঁধে।

  8. ৮. মিয়োসিসের মাধ্যমে কী নিশ্চিত হয়?

    • ক) ক্ষতস্থান পূরণ
    • খ) দৈহিক বৃদ্ধি
    • গ) প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির থাকা
    • ঘ) অঙ্গজ প্রজনন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির থাকা — জননকোষে n হওয়ায় নিষেকে আবার 2n হয়, তাই প্রজন্মান্তরে সংখ্যা স্থির থাকে।

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: শিক্ষক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগের একটি স্লাইড দেখালেন। একটি কোষে ক্রোমোসোমগুলো কোষের মাঝ বরাবর সারিবদ্ধ, আরেকটি কোষে ক্রোমাটিডগুলো দুই প্রান্তের দিকে সরে যাচ্ছে এবং V ও J আকৃতি দেখাচ্ছে।

  • ক) ক্যারিওকাইনেসিস কী?
  • খ) ইন্টারফেজকে প্রস্তুতি পর্ব বলা হয় কেন?
  • গ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় কোষটির দশা ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) উদ্দীপকের বিভাজনটি জীবের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।
  2. ইন্টারফেজে DNA অনুলিপন, প্রোটিন ও শক্তি সঞ্চয় হয়, ফলে কোষ বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়। এটি বিভাজনের কোনো দশা নয়, তাই একে প্রস্তুতি পর্ব বলে।
  3. দ্বিতীয় কোষটি অ্যানাফেজ দশায় আছে। এ দশায় প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়, ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোসোম হিসেবে স্পিন্ডল তন্তুর টানে বিপরীত মেরুতে যায়। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানভেদে এদের V, L, J বা I আকৃতি দেখা যায়।
  4. মূলের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যুতে এটি মাইটোসিস। এর ফলে মূল দৈর্ঘ্যে বাড়ে, অর্থাৎ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে। অপত্য কোষে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোসোম থাকে বলে বংশগত বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে। এ ছাড়া ক্ষয়পূরণ, অঙ্গজ প্রজনন এবং নিউক্লিয়াস-সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য রক্ষায়ও মাইটোসিস অপরিহার্য। তাই এই বিভাজন ছাড়া বহুকোষী জীবের বৃদ্ধি ও টিকে থাকা সম্ভব নয়।

উদ্দীপক: একটি জীবের কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ৮। প্রক্রিয়া A তে একটি কোষ থেকে ৮টি করে ক্রোমোসোমবিশিষ্ট ২টি কোষ এবং প্রক্রিয়া B তে ৪টি করে ক্রোমোসোমবিশিষ্ট ৪টি কোষ তৈরি হলো।

  • ক) ক্রসিং ওভার কী?
  • খ) মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?
  • গ) প্রক্রিয়া B এর প্রোফেজ-১ এর উপদশাগুলো ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) প্রক্রিয়া A ও B এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. মিয়োসিসের প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোসোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশ বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
  2. মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার বিভক্ত হলেও ক্রোমোসোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
  3. প্রক্রিয়া B মিয়োসিস। প্রোফেজ-১ এর উপদশা: লেপ্টোটিন (ক্রোমোসোম সরু, লম্বা সুতার মতো), জাইগোটিন (সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড় বাঁধে), প্যাকাইটিন (ক্রোমোসোম খাটো-মোটা, ক্রসিং ওভার), ডিপ্লোটিন (জোড়ের ক্রোমোসোম আলাদা হতে শুরু করে, কায়াজমা দেখা যায়), ডায়াকাইনেসিস (ক্রোমোসোম আরও খাটো, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়)।
  4. A মাইটোসিস, B মিয়োসিস। A দেহকোষে হয়, একবার বিভাজনে ২টি কোষ দেয় এবং ক্রোমোসোম সংখ্যা (৮) অপরিবর্তিত রাখে, তাই বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে কাজ করে। B জনন মাতৃকোষে হয়, দুবার নিউক্লিয়াস বিভাজনে ৪টি কোষ দেয়, ক্রোমোসোম অর্ধেক (৪) করে এবং ক্রসিং ওভারে বৈচিত্র্য আনে। নিষেকে ৪ + ৪ = ৮ হয়ে প্রজাতির সংখ্যা স্থির থাকে। অর্থাৎ A জীবকে বাঁচিয়ে ও বাড়িয়ে রাখে, আর B প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখে ও বৈচিত্র্য দেয়।

বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র

তোমার শরীরে প্রতি সেকেন্ডে আনুমানিক কয়েক মিলিয়ন কোষ মাইটোসিসে নতুন হচ্ছে, বিশেষ করে রক্ত আর অন্ত্রের আস্তরণে। অন্ত্রের আস্তরণের অনেক কোষ কয়েক দিনের মধ্যেই বদলে যায়। আর ভাইবোন একই মা-বাবার সন্তান হয়েও আলাদা দেখতে কেন? উত্তর মিয়োসিস: ক্রসিং ওভার আর ক্রোমোসোমের স্বাধীন বণ্টনে একজন মানুষের পক্ষেই ২^২৩, অর্থাৎ ৮০ লাখের বেশি ভিন্ন রকম জননকোষ তৈরি সম্ভব।

প্রশ্ন ও উত্তর

ইন্টারফেজ কি মাইটোসিসের একটি দশা?

না। ইন্টারফেজ হলো দুটি বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতি পর্ব, যেখানে DNA অনুলিপন হয়। মাইটোসিসের দশা প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।

মিয়োসিসে ক্রোমোসোম সংখ্যা ঠিক কোথায় অর্ধেক হয়?

মিয়োসিস-১ এর অ্যানাফেজে, যখন সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ার দুই সদস্য বিপরীত মেরুতে যায়। মিয়োসিস-২ তে ক্রোমাটিড আলাদা হয়, সংখ্যা আর কমে না।

উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসে পার্থক্য কী?

উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর থাকায় মাঝখানে কোষপ্লেট গঠিত হয়ে ভাগ হয়। প্রাণীকোষে কোষঝিল্লি মাঝ বরাবর ভেতরের দিকে খাঁজ হয়ে দুই ভাগ হয়।

ক্যানসারের সাথে কোষ বিভাজনের সম্পর্ক কী?

স্বাভাবিকভাবে মাইটোসিস কঠোর নিয়ন্ত্রণে চলে। নিয়ন্ত্রণকারী জিনে ত্রুটি হলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে টিউমার তৈরি করে, যার কিছু ক্যানসারে রূপ নেয়।

মাইটোসিস দেখার জন্য পেঁয়াজের মূল কেন ব্যবহার করা হয়?

মূলের অগ্রভাগে ভাজক টিস্যু থাকে, যেখানে কোষ দ্রুত মাইটোসিসে বিভাজিত হয়। তাই একটি স্লাইডেই বিভিন্ন দশা একসাথে দেখা যায়।

আরও পড়ো

সূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (অধ্যায় ৩: কোষ বিভাজন) · OpenStax Biology 2e: Cell Division and Meiosis · Khan Academy: Cell cycle and mitosis