এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ২
জীবকোষ ও টিস্যু
এক কথায়
কোষ হলো জীবের গঠন ও কাজের একক। নিউক্লিয়াস পর্দা না থাকলে আদিকোষ (যেমন ব্যাকটেরিয়া), থাকলে প্রকৃতকোষ। কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি জোগায়, ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য তৈরি করে, রাইবোজোম প্রোটিন বানায়। একই উৎপত্তির ও একই কাজের কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলে; টিস্যু মিলে অঙ্গ, অঙ্গ মিলে তন্ত্র।
কোষ: জীবনের ইট
একটা দালান যেমন ইট দিয়ে গড়া, তেমনি প্রতিটি জীবদেহ গড়া কোষ দিয়ে। কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক। এটি বৈষম্যভেদ্য পর্দায় ঘেরা, ভেতরে প্রোটোপ্লাজম থাকে, আর এটি নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে।
১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক কর্কের পাতলা টুকরা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখে মৌচাকের মতো ছোট ছোট খোপ পান এবং নাম দেন cell। আসলে তিনি দেখেছিলেন মৃত কোষের প্রাচীর। ১৮৩৮-৩৯ সালে শ্লাইডেন ও শোয়ান কোষতত্ত্ব দেন: সব জীব কোষ দিয়ে গঠিত। পরে ভারচাউ যোগ করেন, নতুন কোষ আসে পূর্বের কোষ থেকেই।
- এককোষী জীব: একটি কোষেই পুরো জীবন, যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, ক্ল্যামাইডোমোনাস।
- বহুকোষী জীব: অসংখ্য কোষ মিলে দেহ, যেমন আমগাছ, মানুষ। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে আনুমানিক ৩৭ লক্ষ কোটি (প্রায় 3.7 × 10^13) কোষ।
আদিকোষ বনাম প্রকৃতকোষ
নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই রকম। আদিকোষ বা প্রোক্যারিওটিক কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই; নিউক্লিয়াস পর্দা ও নিউক্লিওলাস নেই, DNA সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার মতো পর্দাঘেরা অঙ্গাণুও নেই, তবে রাইবোজোম আছে। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া ও নীলাভ সবুজ শৈবাল (সায়ানোব্যাকটেরিয়া)।
প্রকৃতকোষ বা ইউক্যারিওটিক কোষে নিউক্লিয়াস পর্দা দিয়ে ঘেরা সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে, আর থাকে পর্দাঘেরা নানা অঙ্গাণু। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ, ছত্রাক সবার কোষ প্রকৃতকোষ।
কাজের ভিত্তিতে কোষ: দেহকোষ ও জননকোষ
বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে অংশ নেয় দেহকোষ (সোমাটিক কোষ)। এগুলো মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দেহের বৃদ্ধি ঘটায়। জননকোষ (গ্যামেট) তৈরি হয় মিয়োসিস প্রক্রিয়ায়, তাই এতে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহকোষের অর্ধেক। মানুষের দেহকোষে ৪৬টি (২৩ জোড়া) ক্রোমোসোম, শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ২৩টি করে।
কোষের অংশ: প্রাচীর, পর্দা ও সাইটোপ্লাজম
কোষপ্রাচীর থাকে উদ্ভিদকোষে, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকেও থাকে, কিন্তু প্রাণিকোষে নেই। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি, এটি কোষকে দৃঢ়তা ও আকৃতি দেয়। পাশাপাশি দুই কোষের মাঝের মধ্যপর্দা ক্যালসিয়াম পেকটেট দিয়ে গঠিত। প্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্র প্লাজমোডেজমাটা দিয়ে পাশের কোষের সাইটোপ্লাজম যুক্ত থাকে।
প্রাচীরের ভেতরে থাকে কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন, যা লিপিড ও প্রোটিনের তৈরি বৈষম্যভেদ্য পর্দা। এটি ঠিক করে কোন পদার্থ ভেতরে ঢুকবে আর কোনটা বেরোবে। নিউক্লিয়াসের বাইরে প্রোটোপ্লাজমের জেলির মতো অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে, এতেই অঙ্গাণুগুলো ভাসে।
কোষ অঙ্গাণু: কোষের ভেতরের কারখানা
প্রতিটি অঙ্গাণুর নিজস্ব কাজ আছে। পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসে মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিড।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: দ্বিস্তরী পর্দাঘেরা; ভেতরের পর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি তৈরি করে। শ্বসনের ক্রেবস চক্র এখানে ঘটে এবং ATP তৈরি হয়, তাই একে কোষের শক্তিঘর বলে। এতে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম আছে।
- প্লাস্টিড: শুধু উদ্ভিদকোষে। ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ, ক্লোরোফিল দিয়ে সালোকসংশ্লেষণ করে; এর গ্রানা ও স্ট্রোমা অংশ আছে। ক্রোমোপ্লাস্ট ফুল-ফলকে রঙিন করে (যেমন পাকা টমেটো, গাজর)। লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন, খাদ্য সঞ্চয় করে (যেমন আলু)।
- রাইবোজোম: পর্দাবিহীন ক্ষুদ্র কণা, প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ দুটোতেই থাকে।
- এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা: সাইটোপ্লাজমে জালের মতো নালিকা। অমসৃণ জালিকায় রাইবোজোম লেগে থাকে, প্রোটিন পরিবহন করে; মসৃণ জালিকা লিপিড তৈরিতে অংশ নেয়।
- গলগি বস্তু: কোষের তৈরি প্রোটিন ও অন্যান্য পদার্থ প্যাকেট করে নিঃসরণ করে।
- লাইসোজোম: পাচক এনজাইমে ভরা থলি; জীর্ণ অঙ্গাণু ও জীবাণু হজম করে। কোষ নষ্ট হলে এর এনজাইম কোষকেই হজম করতে পারে, তাই একে আত্মঘাতী থলিকা বলে।
- সেন্ট্রিওল: প্রধানত প্রাণিকোষে; কোষ বিভাজনে মাকুতন্তু তৈরিতে সাহায্য করে।
- কোষগহ্বর: কোষরসে ভরা ফাঁকা অংশ; পরিণত উদ্ভিদকোষে বড় একটি, প্রাণিকোষে ছোট বা অনুপস্থিত।
নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোসোম
নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। এর চারটি অংশ: নিউক্লিয়ার পর্দা (দ্বিস্তরী, ছিদ্রযুক্ত), নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস (রাইবোজোমের RNA তৈরি হয়) এবং ক্রোমাটিন জালিকা। বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন কুণ্ডলী পাকিয়ে ক্রোমোসোম রূপে দেখা যায়।
ক্রোমোসোমে থাকে DNA, আর DNA-র নির্দিষ্ট অংশ হলো জিন, যা বাবা-মা থেকে সন্তানে বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই নিউক্লিয়াস শুধু কোষের কাজই নিয়ন্ত্রণ করে না, বংশগতির ধারকও।
উদ্ভিদকোষ বনাম প্রাণিকোষ
- কোষপ্রাচীর: উদ্ভিদকোষে আছে, প্রাণিকোষে নেই।
- প্লাস্টিড: উদ্ভিদকোষে আছে, প্রাণিকোষে নেই।
- কোষগহ্বর: উদ্ভিদকোষে বড়, প্রাণিকোষে ছোট বা নেই।
- সেন্ট্রিওল: সাধারণত প্রাণিকোষে থাকে, উন্নত উদ্ভিদকোষে থাকে না।
- সঞ্চিত খাদ্য: উদ্ভিদে শ্বেতসার (স্টার্চ), প্রাণীতে গ্লাইকোজেন।
টিস্যু: একসাথে কাজ করা কোষের দল
একই উৎস থেকে সৃষ্ট, একই রকম গঠনের এবং একই কাজ করা কোষগুচ্ছকে টিস্যু বা কলা বলে। উদ্ভিদ টিস্যু দুই প্রকার: ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু।
ভাজক টিস্যুর কোষ বারবার বিভাজিত হয়; কোষগুলো ছোট, প্রাচীর পাতলা, নিউক্লিয়াস বড়, কোষগহ্বর প্রায় নেই। অবস্থান অনুযায়ী এটি তিন রকম: শীর্ষস্থ (কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে, দৈর্ঘ্য বাড়ায়), পার্শ্বীয় (ক্যাম্বিয়াম, কাণ্ড মোটা করে) ও নিবেশিত (পর্বমধ্যের গোড়ায়, যেমন ঘাস ও বাঁশে)।
স্থায়ী টিস্যুর কোষ আর বিভাজিত হয় না। সরল স্থায়ী টিস্যু একই রকম কোষে গঠিত: প্যারেনকাইমা (খাদ্য সঞ্চয়, ক্লোরোফিল থাকলে ক্লোরেনকাইমা), কোলেনকাইমা (কোণায় প্রাচীর পুরু, নমনীয় দৃঢ়তা) ও স্ক্লেরেনকাইমা (লিগনিনযুক্ত পুরু প্রাচীর, মৃত কোষ, শক্তি জোগায়)। জটিল স্থায়ী টিস্যু হলো জাইলেম ও ফ্লোয়েম, যেগুলো একসাথে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ ওপরে তোলে, ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য সারা দেহে পৌঁছায়।
প্রাণী টিস্যু ও অঙ্গ-তন্ত্র
প্রাণীদেহে চার প্রকার টিস্যু: আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু টিস্যু। আবরণী টিস্যু দেহ ও অঙ্গের ওপর আবরণ তৈরি করে, এর কোষগুলো ঘনভাবে সাজানো। যোজক টিস্যুতে কোষ কম, ধাত্র বেশি; অস্থি, তরুণাস্থি ও রক্ত এর উদাহরণ (রক্ত তরল যোজক টিস্যু)।
পেশি টিস্যু তিন রকম: ঐচ্ছিক বা রৈখিক পেশি (হাত-পা, ইচ্ছামতো চলে), অনৈচ্ছিক বা মসৃণ পেশি (পৌষ্টিকনালি, রক্তনালির প্রাচীর) এবং হৃৎপেশি (শুধু হৃৎপিণ্ডে, অনৈচ্ছিক কিন্তু রেখাযুক্ত, আজীবন বিরামহীন সংকোচন)। স্নায়ু টিস্যুর একক নিউরন, যা দেহে উদ্দীপনা বহন করে।
কয়েকটি টিস্যু মিলে একটি নির্দিষ্ট কাজের অঙ্গ তৈরি করে, যেমন পাকস্থলী। কয়েকটি অঙ্গ মিলে তন্ত্র, যেমন পরিপাকতন্ত্র। ক্রমটি মনে রাখো: কোষ → টিস্যু → অঙ্গ → তন্ত্র → জীবদেহ।
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
১. কোনটি আদিকোষের উদাহরণ?
- ক) অ্যামিবা
- খ) ব্যাকটেরিয়া
- গ) ইস্ট
- ঘ) ক্ল্যামাইডোমোনাস
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) ব্যাকটেরিয়া — ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াস পর্দা নেই, তাই এটি আদিকোষ; বাকিগুলো প্রকৃতকোষী।
২. কোষের শক্তিঘর বলা হয় কোনটিকে?
- ক) রাইবোজোম
- খ) গলগি বস্তু
- গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
- ঘ) লাইসোজোম
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) মাইটোকন্ড্রিয়া — মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসনের ক্রেবস চক্র ঘটে ও ATP তৈরি হয়।
৩. আত্মঘাতী থলিকা কোনটি?
- ক) লাইসোজোম
- খ) সেন্ট্রিওল
- গ) প্লাস্টিড
- ঘ) নিউক্লিওলাস
উত্তর দেখো
উত্তর: ক) লাইসোজোম — লাইসোজোমের পাচক এনজাইম বেরিয়ে এলে নিজের কোষকেই হজম করতে পারে।
৪. আলুতে খাদ্য সঞ্চয় করে কোন প্লাস্টিড?
- ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
- খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
- গ) লিউকোপ্লাস্ট
- ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) লিউকোপ্লাস্ট — লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন এবং মাটির নিচের অংশে শ্বেতসার সঞ্চয় করে।
৫. প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে কোথায়?
- ক) রাইবোজোম
- খ) কোষগহ্বর
- গ) সেন্ট্রিওল
- ঘ) কোষপ্রাচীর
উত্তর দেখো
উত্তর: ক) রাইবোজোম — রাইবোজোম অ্যামিনো এসিড জুড়ে প্রোটিন তৈরি করে।
৬. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায় কোন টিস্যু?
- ক) পার্শ্বীয় ভাজক
- খ) শীর্ষস্থ ভাজক
- গ) স্ক্লেরেনকাইমা
- ঘ) ফ্লোয়েম
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) শীর্ষস্থ ভাজক — কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু দৈর্ঘ্য বাড়ায়; পার্শ্বীয় ভাজক মোটা করে।
৭. রক্ত কোন ধরনের টিস্যু?
- ক) আবরণী
- খ) পেশি
- গ) স্নায়ু
- ঘ) যোজক
উত্তর দেখো
উত্তর: ঘ) যোজক — রক্ত তরল যোজক টিস্যু; এর ধাত্র হলো রক্তরস।
৮. উদ্ভিদকোষে থাকে কিন্তু প্রাণিকোষে থাকে না—
- ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
- খ) রাইবোজোম
- গ) কোষপ্রাচীর
- ঘ) কোষঝিল্লি
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) কোষপ্রাচীর — সেলুলোজের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের বৈশিষ্ট্য; বাকিগুলো দুই কোষেই থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রিমা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দুটি কোষ দেখল। কোষ A-তে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, শুধু রাইবোজোম আছে। কোষ B-তে নিউক্লিয়াস পর্দা, কোষপ্রাচীর, বড় কোষগহ্বর ও সবুজ রঙের কিছু অঙ্গাণু আছে।
- ক) কোষতত্ত্ব কারা প্রদান করেন?
- খ) মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন?
- গ) কোষ B-এর সবুজ অঙ্গাণুটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) কোষ A ও কোষ B-এর মধ্যে কোনটি অধিক উন্নত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- শ্লাইডেন ও শোয়ান (১৮৩৮-৩৯)।
- মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসনের ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন পরিবহন ঘটে, ফলে খাদ্যের শক্তি ATP রূপে মুক্ত হয়; কোষের সব কাজের শক্তি এখান থেকেই আসে, তাই একে শক্তিঘর বলে।
- সবুজ অঙ্গাণুটি ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি দ্বিস্তরী পর্দাঘেরা; ভেতরে স্ট্রোমা নামে ধাত্র এবং থাইলাকয়েড চাকতি সাজিয়ে তৈরি গ্রানা থাকে। গ্রানায় ক্লোরোফিল সূর্যালোক শোষণ করে, স্ট্রোমায় কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে শর্করা তৈরি হয়। অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে ও অক্সিজেন ছাড়ে।
- কোষ A আদিকোষ, কোষ B প্রকৃতকোষ (উদ্ভিদকোষ)। কোষ A-তে নিউক্লিয়াস পর্দা ও পর্দাঘেরা অঙ্গাণু নেই, DNA সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো, ফলে কাজের ভাগাভাগি সীমিত। কোষ B-তে সুগঠিত নিউক্লিয়াস বংশগতি ও কাজ সুনিয়ন্ত্রিত রাখে, আর ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তুর মতো আলাদা অঙ্গাণু আলাদা কাজ করে। এই শ্রমবিভাজনের জন্য কোষ B গঠন ও কাজে অধিক উন্নত ও জটিল।
উদ্দীপক: শিক্ষক একটি বাঁশের কাণ্ডের প্রস্থচ্ছেদ দেখালেন। এতে একটি টিস্যু X পাওয়া গেল যার কোষের প্রাচীর লিগনিনযুক্ত পুরু ও কোষগুলো মৃত। আরেকটি টিস্যুগুচ্ছ Y মূল থেকে পানি ওপরে ও পাতা থেকে খাদ্য নিচে পরিবহন করে।
- ক) টিস্যু কাকে বলে?
- খ) বাঁশ দ্রুত লম্বা হয় কেন?
- গ) X টিস্যুর বৈশিষ্ট্য ও কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) উদ্ভিদের জীবনে Y টিস্যুগুচ্ছের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- একই উৎস থেকে সৃষ্ট, একই রকম গঠনের এবং একই কাজ সম্পাদনকারী কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলে।
- বাঁশের পর্বমধ্যের গোড়ায় নিবেশিত ভাজক টিস্যু থাকে, পাশাপাশি অগ্রভাগে শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু। অনেক জায়গায় একসাথে কোষ বিভাজন হয় বলে বাঁশ খুব দ্রুত দৈর্ঘ্যে বাড়ে।
- X হলো স্ক্লেরেনকাইমা, একটি সরল স্থায়ী টিস্যু। এর কোষপ্রাচীরে লিগনিন জমে খুব পুরু হয়, পরিণত কোষ প্রোটোপ্লাজমহীন মৃত। কোষ লম্বা আঁশ (ফাইবার) বা ছোট স্টোন সেল রূপে থাকে। এটি উদ্ভিদদেহকে দৃঢ়তা ও যান্ত্রিক শক্তি দেয়; পাটের আঁশ এর পরিচিত উদাহরণ।
- Y হলো জাইলেম ও ফ্লোয়েম মিলে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ। জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছায়, যা ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ ও প্রস্বেদন সম্ভব নয়; এর পুরু প্রাচীর গাছকে খাড়া থাকতেও সাহায্য করে। ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি শর্করা মূল, ফল ও বর্ধনশীল অংশে পাঠায়। এই দুইয়ের যৌথ কাজ না থাকলে বড় উদ্ভিদ বাঁচতে বা বাড়তে পারত না, তাই Y উদ্ভিদের জীবনরেখা।
বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র
তোমার দেহের অনেক কোষ নিজের অজান্তে বদলে যায়। ত্বকের বাইরের স্তরের কোষ কয়েক সপ্তাহে ঝরে নতুন কোষ আসে, ঘরের ধুলার একটা অংশ আসলে আমাদেরই ঝরে পড়া মৃত ত্বককোষ! অথচ হৃৎপেশির কোষ খুব কমই বদলায়, জন্ম থেকে প্রায় সারাজীবন একই কোষগুলো বিরামহীন সংকোচন চালিয়ে যায়।
প্রশ্ন ও উত্তর
সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট কোষ কোনটি?
একক কোষ হিসেবে উটপাখির ডিম সবচেয়ে বড়। মানবদেহে সবচেয়ে বড় কোষ ডিম্বাণু, আর সবচেয়ে লম্বা কোষ নিউরন। ক্ষুদ্রতম কোষের মধ্যে মাইকোপ্লাজমা নামের ব্যাকটেরিয়া উল্লেখযোগ্য।
প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর নেই কেন?
প্রাণীদের চলাফেরা ও দেহের নমনীয়তা দরকার; শক্ত প্রাচীর থাকলে তা বাধা হতো। প্রাণীর দেহের দৃঢ়তা আসে কঙ্কাল ও যোজক টিস্যু থেকে।
মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে কি?
পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, এতে বেশি হিমোগ্লোবিন ধরে এবং অক্সিজেন বহন বাড়ে। তবু এটি প্রকৃতকোষী জীবেরই কোষ।
ভাজক ও স্থায়ী টিস্যুর মূল পার্থক্য কী?
ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনক্ষম, ছোট ও ঘনসন্নিবিষ্ট; স্থায়ী টিস্যুর কোষ বিভাজন বন্ধ করে নির্দিষ্ট আকার ও কাজ পেয়েছে।
হৃৎপেশি ঐচ্ছিক না অনৈচ্ছিক?
অনৈচ্ছিক, অর্থাৎ ইচ্ছামতো থামানো যায় না; তবে গঠনে এটি রৈখিক পেশির মতো রেখাযুক্ত। এই দুই বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণই এর বিশেষত্ব।
আরও পড়ো
সূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (অধ্যায় ২: জীবকোষ ও টিস্যু) · OpenStax Biology 2e: Cell Structure · Bianconi et al. 2013, An estimation of the number of cells in the human body (Annals of Human Biology)