বিজ্ঞানী টিমটিম
আজ রাতের আকাশঢাকার আকাশে আজ রাতে কী দেখা যাবে?লাইভ ম্যাপ

এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১

জীবন পাঠ

এক কথায়

জীবন পাঠ অধ্যায়ে শিখি জীববিজ্ঞান কী, এর প্রধান শাখা কোনগুলো, আর লক্ষ লক্ষ জীবকে কীভাবে মিল-অমিল দেখে দলে সাজানো হয়। শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ: জগৎ, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি। হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য আর লিনিয়াসের দ্বিপদ নামকরণ, যেমন মানুষ Homo sapiens, এই অধ্যায়ের মূল কথা।

জীববিজ্ঞান কী

জীববিজ্ঞান (Biology) হলো জীবের গঠন, কাজ, বৃদ্ধি, বংশবিস্তার, বিবর্তন ও পরিবেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞান। শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ থেকে: bios মানে জীবন, আর logos মানে জ্ঞান। Biology শব্দটি ১৮০০ সালের শুরুর দিকে লামার্ক ও ট্রেভিরানাস জনপ্রিয় করেন।

জীববিজ্ঞানের দুটি বড় ভাগ: উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany), যেখানে গাছপালা নিয়ে পড়ি, আর প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology), যেখানে প্রাণী নিয়ে পড়ি। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক এবং তাঁর শিষ্য থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

জীববিজ্ঞানের শাখা: ভৌত ও ফলিত

জীববিজ্ঞানের শাখাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ভৌত জীববিজ্ঞান জীবের মৌলিক বিষয় নিয়ে কাজ করে, আর ফলিত জীববিজ্ঞান সেই জ্ঞান মানুষের কাজে লাগায়।

  • অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের বাইরের ও ভেতরের গঠন।
  • শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবকে শনাক্ত, নামকরণ ও দলে সাজানো।
  • শারীরবিদ্যা (Physiology): শ্বসন, পুষ্টি, রেচনের মতো শারীরিক কাজ।
  • হিস্টোলজি (Histology): টিস্যুর গঠন ও কাজ।
  • ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): ভ্রূণের গঠন ও বিকাশ।
  • কোষবিদ্যা (Cytology): কোষের গঠন ও কাজ।
  • বংশগতিবিদ্যা (Genetics): বৈশিষ্ট্য কীভাবে পরের প্রজন্মে যায়।
  • বিবর্তনবিদ্যা (Evolution) ও বাস্তুবিদ্যা (Ecology): জীবের উৎপত্তি ও পরিবেশের সাথে সম্পর্ক।
  • ফলিত শাখার উদাহরণ: মৎস্যবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology), পরজীবীবিদ্যা, অণুজীববিজ্ঞান, বনবিজ্ঞান, ফার্মেসি।

শ্রেণিবিন্যাস কেন দরকার

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ প্রজাতির জীব বর্ণনা করা হয়েছে, আর অনাবিষ্কৃত প্রজাতি এর বহুগুণ হতে পারে। এত জীবকে আলাদা আলাদা মনে রাখা অসম্ভব। তাই মিল ও অমিলের ভিত্তিতে জীবকে ছোট-বড় দলে সাজানো হয়। এটাই শ্রেণিবিন্যাস।

ভাবো একটা বিশাল লাইব্রেরি, যেখানে বই এলোমেলো পড়ে আছে। বিষয় অনুযায়ী তাক সাজালে যেকোনো বই সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতের জন্য ঠিক সেই তাক সাজানোর কাজ।

  • অল্প পরিশ্রমে বিপুল জীব সম্পর্কে জানা যায়।
  • নতুন জীবকে সঠিক দলে বসিয়ে শনাক্ত করা যায়।
  • জীবদের মধ্যে আত্মীয়তা ও বিবর্তনের ধারা বোঝা যায়।
  • বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা একই নামে একই জীবকে চিনতে পারেন।

শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ

শ্রেণিবিন্যাসে বড় দল থেকে ধাপে ধাপে ছোট দলে নামা হয়। প্রধান সাতটি ধাপ হলো: জগৎ (Kingdom), পর্ব (Phylum, উদ্ভিদে Division), শ্রেণি (Class), বর্গ (Order), গোত্র (Family), গণ (Genus) এবং প্রজাতি (Species)।

প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক। একই প্রজাতির জীবেরা নিজেদের মধ্যে প্রজনন করে উর্বর সন্তান জন্ম দিতে পারে। ওপরের দিকে গেলে দলে সদস্য বাড়ে কিন্তু মিল কমে; নিচের দিকে এলে সদস্য কমে কিন্তু মিল বাড়ে।

  • মানুষ: জগৎ Animalia, পর্ব Chordata, শ্রেণি Mammalia, বর্গ Primates, গোত্র Hominidae, গণ Homo, প্রজাতি sapiens।
  • ধান: জগৎ Plantae, গোত্র Poaceae, গণ Oryza, প্রজাতি sativa।

দ্বিপদ নামকরণ

একই জীবের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নাম থাকে। আমরা যাকে শাপলা বলি, অন্য দেশে তার অন্য নাম। এই বিভ্রান্তি দূর করতে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি চালু করেন। ১৭৫৩ সালে তাঁর Species Plantarum বইয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।

দ্বিপদ নামে দুটি অংশ: প্রথমটি গণের নাম, দ্বিতীয়টি প্রজাতিক বিশেষণ। যেমন মানুষ Homo sapiens, ধান Oryza sativa, আম Mangifera indica, রয়েল বেঙ্গল টাইগার Panthera tigris, ইলিশ Tenualosa ilisha, কাঁঠাল Artocarpus heterophyllus।

  • নাম লাতিন বা লাতিনকৃত শব্দে হবে।
  • গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের, প্রজাতিক নাম পুরোটা ছোট হাতের।
  • ছাপায় নাম ইটালিক হবে, হাতে লিখলে দুই অংশের নিচে আলাদা দাগ দিতে হবে।
  • প্রথম যিনি নাম দিয়েছেন, সেই নামই গ্রহণযোগ্য (অগ্রাধিকার নীতি); নামের শেষে আবিষ্কারকের নাম সংক্ষেপে লেখা যায়, যেমন Homo sapiens L.।

পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস

১৯৬৯ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী রবার্ট হুইটেকার কোষের গঠন, কোষের সংখ্যা এবং খাদ্য গ্রহণের ধরন দেখে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন। পরে মারগুলিস ও শোয়ার্টজ এটিকে আরও পরিমার্জন করেন।

  • মনেরা (Monera): আদিকোষী (প্রোক্যারিওটিক) এককোষী জীব, নিউক্লিয়াসে পর্দা নেই। যেমন ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (সায়ানোব্যাকটেরিয়া)।
  • প্রোটিস্টা (Protista): প্রকৃতকোষী, এককোষী বা সরল বহুকোষী, টিস্যু তৈরি হয় না। যেমন অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, ডায়াটম, কিছু শৈবাল।
  • ছত্রাক (Fungi): প্রকৃতকোষী, ক্লোরোফিল নেই, শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য নেয়, কোষপ্রাচীরে কাইটিন। যেমন মাশরুম, ইস্ট, পেনিসিলিয়াম।
  • উদ্ভিদ (Plantae): প্রকৃতকোষী বহুকোষী, ক্লোরোফিল আছে, সালোকসংশ্লেষণে নিজের খাদ্য তৈরি করে, কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ। যেমন মস, ফার্ন, আমগাছ।
  • প্রাণী (Animalia): প্রকৃতকোষী বহুকোষী, কোষপ্রাচীর ও ক্লোরোফিল নেই, খাদ্য গলাধঃকরণ করে। যেমন হাইড্রা, মাছ, মানুষ।

আদিকোষী বনাম প্রকৃতকোষী

পাঁচ রাজ্য বোঝার চাবিকাঠি হলো কোষের ধরন। আদিকোষে (Prokaryotic cell) নিউক্লিয়ার পর্দা নেই, ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে খোলা থাকে, আর মাইটোকন্ড্রিয়া বা প্লাস্টিডের মতো পর্দাবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে না। প্রকৃতকোষে (Eukaryotic cell) পর্দাঘেরা সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে।

শুধু মনেরা রাজ্যের সদস্যরা আদিকোষী; বাকি চার রাজ্যের সবাই প্রকৃতকোষী। ভাইরাসকে কোনো রাজ্যে রাখা হয়নি, কারণ এর কোষীয় গঠন নেই এবং পোষক কোষের বাইরে এটি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

আধুনিক আণবিক গবেষণার ভিত্তিতে কার্ল উজ ১৯৯০ সালে জীবজগৎকে তিনটি ডোমেইনে ভাগ করেন: আর্কিয়া, ব্যাকটেরিয়া ও ইউক্যারিয়া। এটি পাঁচ রাজ্যের ওপরের একটি স্তর হিসেবে জানা ভালো।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখার কৌশল

  • ধাপের ক্রম মনে রাখো: জ-প-শ্রে-ব-গো-গ-প্র (জগৎ থেকে প্রজাতি)।
  • খাদ্যের ধরনে তিন রাজ্য আলাদা: উদ্ভিদ নিজে তৈরি করে, ছত্রাক শোষণ করে, প্রাণী গিলে খায়।
  • কাইটিন মানে ছত্রাক, সেলুলোজ মানে উদ্ভিদ।
  • নিউক্লিয়ার পর্দা নেই মানেই মনেরা।
  • বৈজ্ঞানিক নাম লেখার নিয়মে নম্বর কাটা যায় সবচেয়ে বেশি: বড় হাতের গণ, ছোট হাতের প্রজাতি, ইটালিক বা আলাদা দাগ।

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

  1. ১. শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক কোনটি?

    • ক) গণ
    • খ) প্রজাতি
    • গ) গোত্র
    • ঘ) বর্গ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) প্রজাতি — প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে ছোট ও মৌলিক একক।

  2. ২. দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তক কে?

    • ক) অ্যারিস্টটল
    • খ) হুইটেকার
    • গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
    • ঘ) থিওফ্রাস্টাস
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস — লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে দ্বিপদ নামকরণ প্রতিষ্ঠা করেন।

  3. ৩. পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস কে প্রস্তাব করেন?

    • ক) রবার্ট হুইটেকার
    • খ) কার্ল উজ
    • গ) লামার্ক
    • ঘ) ডারউইন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: ক) রবার্ট হুইটেকার — হুইটেকার ১৯৬৯ সালে পাঁচ রাজ্য প্রস্তাব করেন।

  4. ৪. কোন রাজ্যের জীব আদিকোষী?

    • ক) প্রোটিস্টা
    • খ) ছত্রাক
    • গ) মনেরা
    • ঘ) উদ্ভিদ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) মনেরা — মনেরার সদস্যদের নিউক্লিয়ার পর্দা নেই, তাই এরা আদিকোষী।

  5. ৫. ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত?

    • ক) সেলুলোজ
    • খ) কাইটিন
    • গ) পেকটিন
    • ঘ) লিগনিন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) কাইটিন — ছত্রাকের কোষপ্রাচীরে কাইটিন থাকে, উদ্ভিদে থাকে সেলুলোজ।

  6. ৬. ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি সঠিকভাবে লেখা?

    • ক) oryza sativa
    • খ) Oryza Sativa
    • গ) Oryza sativa
    • ঘ) ORYZA sativa
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) Oryza sativa — গণের প্রথম অক্ষর বড়, প্রজাতিক নাম ছোট হাতের অক্ষরে।

  7. ৭. নিচের কোনটি ফলিত জীববিজ্ঞানের শাখা?

    • ক) কোষবিদ্যা
    • খ) ভ্রূণবিদ্যা
    • গ) মৎস্যবিজ্ঞান
    • ঘ) হিস্টোলজি
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) মৎস্যবিজ্ঞান — মৎস্যবিজ্ঞান জীববিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহারিক কাজে লাগায়, তাই এটি ফলিত শাখা।

  8. ৮. অ্যামিবা কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত?

    • ক) মনেরা
    • খ) প্রোটিস্টা
    • গ) ছত্রাক
    • ঘ) প্রাণী
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) প্রোটিস্টা — অ্যামিবা প্রকৃতকোষী এককোষী জীব, তাই প্রোটিস্টা।

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: রিনা পুকুরপাড়ে তিনটি জীব দেখল। A: ভেজা কাঠে জন্মানো ছাতার মতো একটি জীব, সবুজ রং নেই। B: পানিতে ভাসমান সবুজ শেওলা যার কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। C: পাড়ে একটি আমগাছ।

  • ক) শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক কী?
  • খ) দ্বিপদ নামকরণ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
  • গ) A জীবটি কোন রাজ্যের? বৈশিষ্ট্যসহ ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) B ও C জীবের মধ্যে কোষীয় গঠনের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক।
  2. একই জীবের নানা অঞ্চলে নানা নাম থাকে। দ্বিপদ নামকরণ বিশ্বজুড়ে প্রতিটি জীবকে একটিমাত্র বৈজ্ঞানিক নাম দেয়, ফলে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং বিজ্ঞানীরা সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।
  3. A হলো মাশরুম, ছত্রাক রাজ্যের সদস্য। এটি প্রকৃতকোষী, ক্লোরোফিল নেই বলে নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, পচা কাঠ থেকে শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য নেয়, এবং এর কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত।
  4. B নীলাভ সবুজ শৈবাল, মনেরা রাজ্যের আদিকোষী জীব: নিউক্লিয়ার পর্দা নেই, পর্দাবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই, এককোষী বা কলোনি গঠন করে। C আমগাছ, উদ্ভিদ রাজ্যের প্রকৃতকোষী বহুকোষী জীব: সুগঠিত নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট আছে, টিস্যু ও অঙ্গ তৈরি হয়, কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ। দুটোই সালোকসংশ্লেষণ করে, কিন্তু B-তে ক্লোরোফিল ক্লোরোপ্লাস্টে নয়, সাইটোপ্লাজমের থাইলাকয়েড পর্দায় থাকে। তাই খাদ্য তৈরির মিল থাকলেও কোষের গঠনে এরা দুই ভিন্ন রাজ্যের।

উদ্দীপক: শিক্ষক বোর্ডে লিখলেন: 'জগৎ → পর্ব → শ্রেণি → বর্গ → গোত্র → X → প্রজাতি'। এরপর একজন ছাত্র খাতায় মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম লিখল: homo Sapiens।

  • ক) শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  • খ) প্রজাতি বলতে কী বোঝ?
  • গ) X ধাপটি কী? মানুষের ক্ষেত্রে এর নাম উল্লেখ করে ধাপটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ) ছাত্রটির লেখা নামটি সঠিক কি না, দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম অনুসারে মূল্যায়ন করো।
উত্তর দেখো
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস।
  2. যেসব জীবের গঠন প্রায় একই এবং যারা নিজেদের মধ্যে প্রজনন করে উর্বর সন্তান জন্ম দিতে পারে, তাদের একটি প্রজাতি বলে।
  3. X হলো গণ (Genus)। মানুষের গণ Homo। কাছাকাছি সম্পর্কের প্রজাতিগুলো একই গণে থাকে, আর বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশই গণের নাম, তাই দ্বিপদ নামকরণে গণ অপরিহার্য।
  4. নামটি ভুল। নিয়ম অনুযায়ী গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে এবং প্রজাতিক নাম পুরোটা ছোট হাতের হবে। তাই সঠিক রূপ Homo sapiens। হাতে লেখায় দুই অংশের নিচে আলাদা দাগ দিতে হবে, ছাপায় ইটালিক হবে। ছাত্রটি দুটি অংশেই বড়-ছোট হাতের নিয়ম উল্টে ফেলেছে।

বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র

তোমার শরীরে যত মানব কোষ আছে, প্রায় তার সমান সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া কোষও আছে, মানে মনেরা রাজ্যের একটা আস্ত বসতি তুমি নিজেই বয়ে বেড়াচ্ছ। আর মজার তথ্য: মাশরুম দেখতে গাছের মতো হলেও জিনগতভাবে ছত্রাক উদ্ভিদের চেয়ে প্রাণীর বেশি কাছের আত্মীয়।

প্রশ্ন ও উত্তর

ভাইরাস কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত?

কোনো রাজ্যেরই না। ভাইরাসের কোষীয় গঠন নেই এবং জীবকোষের বাইরে এটি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তাই পাঁচ রাজ্যের বাইরে রাখা হয়।

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পর্বের বদলে কী বলা হয়?

উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসে পর্ব (Phylum) এর বদলে বিভাগ (Division) শব্দটি ব্যবহার হয়।

ছত্রাককে উদ্ভিদ বলা যায় না কেন?

ছত্রাকে ক্লোরোফিল নেই, তাই নিজে খাদ্য তৈরি করে না, আর এর কোষপ্রাচীরে সেলুলোজের বদলে কাইটিন থাকে।

বৈজ্ঞানিক নাম কেন লাতিনে?

লাতিন একটি স্থির ভাষা যার অর্থ সময়ের সাথে বদলায় না, আর লিনিয়াসের সময় থেকে বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো।

তিন ডোমেইন কী কী?

কার্ল উজের প্রস্তাবিত আর্কিয়া, ব্যাকটেরিয়া ও ইউক্যারিয়া। এটি পাঁচ রাজ্যের ওপরের স্তর।

আরও পড়ো

সূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, অধ্যায় ১: জীবন পাঠ · Encyclopaedia Britannica: Taxonomy / Linnaeus · Sender, Fuchs & Milo (2016), Revised estimates for the number of human and bacteria cells, PLOS Biology