বিজ্ঞানী টিমটিম
আজ রাতের আকাশঢাকার আকাশে আজ রাতে কী দেখা যাবে?লাইভ ম্যাপ

এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৩

বল

এক কথায়

বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা কোনো বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায়। নিউটনের প্রথম সূত্র জড়তা বোঝায়, দ্বিতীয় সূত্র বলে F = ma, আর তৃতীয় সূত্র বলে প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। ভরবেগ p = mv, এবং ঘর্ষণ গতির বিরোধিতা করে। বলের SI একক নিউটন (N)।

বল কী, আর কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ

দরজা ঠেলা, ফুটবলে লাথি, ব্যাগ তুলে নেওয়া — সবখানেই আমরা বল প্রয়োগ করি। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, যে বাহ্যিক কারণ কোনো বস্তুর স্থির অবস্থা বা সুষম গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায়, তাকে বল বলে।

বল একটি ভেক্টর রাশি, অর্থাৎ এর মান ও দিক দুটোই আছে। ৫ নিউটন বল ডানে আর ৫ নিউটন বল বামে প্রয়োগ করা একেবারে আলাদা ফল দেয়। বলের SI একক নিউটন (N)। ১ কেজি ভরের বস্তুতে ১ m/s² ত্বরণ সৃষ্টি করতে যে বল লাগে, সেটাই ১ নিউটন। অর্থাৎ 1 N = 1 kg m/s²।

  • বল বস্তুকে গতিশীল করতে পারে, থামাতে পারে।
  • বল গতির দিক বা দ্রুতি বদলাতে পারে।
  • বল বস্তুর আকার বা আকৃতি বদলাতে পারে (যেমন স্প্রিং টানা)।

বলের প্রকারভেদ: স্পর্শ বল ও অস্পর্শ বল

যে বল প্রয়োগের জন্য দুই বস্তুর সরাসরি স্পর্শ লাগে, তাকে স্পর্শ বল বলে — যেমন ঘর্ষণ বল, টান বল, ধাক্কা, স্প্রিং বল। আর যে বল দূর থেকেই কাজ করে, তাকে অস্পর্শ বল বলে — যেমন মহাকর্ষ বল, চৌম্বক বল, তড়িৎ বল।

প্রকৃতিতে মৌলিক বল চারটি: মহাকর্ষ বল, তড়িৎচৌম্বক বল, সবল নিউক্লীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বল। এদের মধ্যে সবল নিউক্লীয় বল সবচেয়ে শক্তিশালী, আর মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল। মজার ব্যাপার, সবচেয়ে দুর্বল হলেও মহাকর্ষই চাঁদকে পৃথিবীর চারপাশে আর পৃথিবীকে সূর্যের চারপাশে ধরে রাখে, কারণ এটি বিশাল দূরত্ব পর্যন্ত কাজ করে।

  • সাম্য বল: একাধিক বলের লব্ধি শূন্য হলে বস্তু স্থির থাকে বা সুষম বেগে চলে।
  • অসাম্য বল: লব্ধি শূন্য না হলে বস্তুর ত্বরণ হয়।

জড়তা ও নিউটনের প্রথম সূত্র

নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।

বস্তু যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার প্রবণতাকে জড়তা বলে। জড়তা দুই রকম: স্থিতি জড়তা ও গতি জড়তা। থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনে হেলে পড়েন — এটি স্থিতি জড়তা। আবার হঠাৎ ব্রেক কষলে সামনে ঝুঁকে পড়েন — এটি গতি জড়তা। এজন্যই গাড়িতে সিটবেল্ট এত জরুরি।

জড়তার পরিমাপ হলো ভর। যার ভর বেশি, তার জড়তাও বেশি — খালি ঠেলাগাড়ি ঠেলা সহজ, ভরা ঠেলাগাড়ি কঠিন। প্রথম সূত্র থেকেই আমরা বলের সংজ্ঞা পাই।

ভরবেগ: গতির 'ওজন'

কোনো বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে। ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি, এর দিক বেগের দিকে। SI একক kg m/s।

একই বেগে চলা একটি সাইকেল আর একটি ট্রাকের মধ্যে ট্রাককে থামানো অনেক কঠিন, কারণ তার ভরবেগ অনেক বেশি। আবার খুব হালকা বুলেটও প্রচণ্ড বেগের কারণে বিশাল ভরবেগ বহন করে।

p = mv

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: F = ma

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকেই ঘটে।

m ভরের বস্তুর বেগ t সময়ে u থেকে v হলে ভরবেগের পরিবর্তন mv − mu। পরিবর্তনের হার (mv − mu)/t = m(v − u)/t = ma। উপযুক্ত একক বেছে নিলে সমানুপাতিক ধ্রুবক 1 হয়, তাই F = ma।

এই সূত্র থেকে বোঝা যায়, একই বল প্রয়োগ করলে কম ভরের বস্তুর ত্বরণ বেশি হয়। আবার বল দ্বিগুণ করলে ত্বরণও দ্বিগুণ হয়।

F = ma

F = (mv − mu) / t

a = (v − u) / t

বলের ঘাত (Impulse)

খুব অল্প সময়ের জন্য বড় বল ক্রিয়া করলে বল ও সময়ের গুণফলকে বলের ঘাত বলে। ঘাত ভরবেগের পরিবর্তনের সমান। এর একক N s, যা kg m/s এর সমান।

ক্রিকেটে ক্যাচ ধরার সময় খেলোয়াড় হাত পেছনে টেনে নেন। এতে বল থামতে বেশি সময় লাগে, ফলে ভরবেগের পরিবর্তন একই থাকলেও হাতে কম বল লাগে, ব্যথা কম হয়। উঁচু থেকে লাফ দিয়ে হাঁটু ভাঁজ করাও একই কারণে।

ঘাত J = F × t = mv − mu

নিউটনের তৃতীয় সূত্র ও ভরবেগের সংরক্ষণ

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সবসময় দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর কাজ করে, তাই এরা একে অপরকে বাতিল করে না।

নৌকা থেকে তীরে লাফ দিলে নৌকা পেছনে সরে যায়। বন্দুক থেকে গুলি ছুড়লে বন্দুক পেছনে ধাক্কা দেয়। রকেট নিচে গ্যাস ঠেলে দেয়, গ্যাস রকেটকে উপরে ঠেলে — এজন্য বায়ুহীন মহাশূন্যেও রকেট চলে।

ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র: কোনো ব্যবস্থার উপর বাহ্যিক বল ক্রিয়া না করলে ব্যবস্থার মোট ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে। দুটি বস্তুর সংঘর্ষে আগের মোট ভরবেগ = পরের মোট ভরবেগ। এই সূত্রটি নিউটনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সূত্র থেকেই প্রতিপাদন করা যায়।

m1u1 + m2u2 = m1v1 + m2v2

বন্দুকের পশ্চাৎ বেগ: V = −(m × v) / M

ঘর্ষণ: শত্রু না বন্ধু?

একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তুর তল বেয়ে চলে বা চলতে চায়, তখন তলের সমান্তরালে গতির বিরুদ্ধে যে বাধা তৈরি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে। তলগুলোর অমসৃণতা, অর্থাৎ খুব ছোট খাঁজ ও উঁচু-নিচু অংশ একে অপরের সাথে আটকে যাওয়াই ঘর্ষণের মূল কারণ।

ঘর্ষণ না থাকলে আমরা হাঁটতেই পারতাম না, পা পিছলে যেত; পেরেক দেয়ালে আটকাত না, গাড়ির ব্রেক কাজ করত না। আবার ঘর্ষণ যন্ত্রাংশ ক্ষয় করে ও তাপ তৈরি করে শক্তি নষ্ট করে। তাই ঘর্ষণ একই সাথে প্রয়োজনীয় এবং কখনো কখনো ক্ষতিকর।

  • স্থিতি ঘর্ষণ: বস্তু স্থির, কিন্তু বল প্রয়োগে চলতে চাইছে — সবচেয়ে বেশি।
  • পিছলানো ঘর্ষণ: একটি তল অন্য তলের উপর পিছলে চলছে।
  • আবর্ত ঘর্ষণ: চাকা বা বল গড়িয়ে চলছে — সবচেয়ে কম।
  • প্রবাহী ঘর্ষণ: পানি বা বাতাসের মধ্য দিয়ে চলার সময় বাধা।
  • ঘর্ষণ কমানোর উপায়: পিচ্ছিলকারী (তেল, গ্রিজ), বল বিয়ারিং, তল মসৃণ করা, গাড়ির আকার প্রবাহরেখী করা।
  • ঘর্ষণ বাড়ানোর উপায়: টায়ারে খাঁজ, জুতার তলায় খাঁজ, রাস্তায় বালি ছিটানো।

পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন

সংজ্ঞাগুলো হুবহু মনে রাখো, কারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্নে এগুলোই আসে। অঙ্ক করার সময় আগে সব রাশি SI এককে নাও: গ্রাম থেকে কেজি, km/h থেকে m/s (km/h কে 5/18 দিয়ে গুণ করলে m/s হয়)। দিক খেয়াল করো — বিপরীত দিকের বেগকে ঋণাত্মক ধরো।

  • বলের একক N, ভরবেগের একক kg m/s, ঘাতের একক N s।
  • জড়তার পরিমাপ ভর; ভর বেশি তো জড়তা বেশি।
  • ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বস্তুতে কাজ করে।
  • আবর্ত ঘর্ষণ < পিছলানো ঘর্ষণ < স্থিতি ঘর্ষণ।

F = ma

p = mv

F × t = mv − mu

m1u1 + m2u2 = m1v1 + m2v2

সমাধান করা অংক

উদাহরণ ১: ১০ kg ভরের একটি বস্তুর উপর কত বল প্রয়োগ করলে এর ত্বরণ ৩ m/s² হবে?

  1. দেওয়া আছে: m = 10 kg, a = 3 m/s²
  2. F = ma = 10 × 3

উত্তর: F = 30 N

উদাহরণ ২: ৫০০ g ভরের একটি বল ২০ m/s বেগে চলছে। এর ভরবেগ কত?

  1. m = 500 g = 0.5 kg, v = 20 m/s
  2. p = mv = 0.5 × 20

উত্তর: p = 10 kg m/s

উদাহরণ ৩: ২ kg ভরের একটি বস্তুর বেগ ৪ s এ ৫ m/s থেকে ২৫ m/s হলো। প্রযুক্ত বল কত?

  1. m = 2 kg, u = 5 m/s, v = 25 m/s, t = 4 s
  2. F = (mv − mu)/t = (2 × 25 − 2 × 5)/4
  3. F = (50 − 10)/4 = 40/4

উত্তর: F = 10 N

উদাহরণ ৪: ৪ kg ভরের একটি বন্দুক থেকে ২০ g ভরের গুলি ৪০০ m/s বেগে ছোড়া হলো। বন্দুকের পশ্চাৎ বেগ কত?

  1. গুলি ছোড়ার আগে মোট ভরবেগ = 0
  2. ভরবেগের সংরক্ষণ: M × V + m × v = 0
  3. 4 × V + 0.02 × 400 = 0
  4. 4V = −8, V = −2 m/s (ঋণাত্মক চিহ্ন মানে গুলির বিপরীত দিকে)

উত্তর: বন্দুকের পশ্চাৎ বেগ 2 m/s, গুলির বিপরীত দিকে

উদাহরণ ৫: ০.১৫ kg ভরের একটি ক্রিকেট বল ২০ m/s বেগে এসে ০.১ s এ হাতে থেমে গেল। হাতে গড় বল কত? খেলোয়াড় হাত টেনে সময় ০.৩ s করলে বল কত হতো?

  1. ভরবেগের পরিবর্তন = mv − mu = 0.15 × 0 − 0.15 × 20 = −3 kg m/s
  2. t = 0.1 s হলে F = 3/0.1 = 30 N (মান)
  3. t = 0.3 s হলে F = 3/0.3 = 10 N

উত্তর: ০.১ s এ ৩০ N, ০.৩ s এ মাত্র ১০ N — তাই হাত টেনে ক্যাচ ধরলে ব্যথা কম লাগে

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

  1. ১. বলের SI একক কোনটি?

    • ক) জুল
    • খ) নিউটন
    • গ) ওয়াট
    • ঘ) kg m/s
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) নিউটন — বলের একক নিউটন (N); 1 N = 1 kg m/s²। kg m/s হলো ভরবেগের একক।

  2. ২. জড়তার পরিমাপক কোনটি?

    • ক) বেগ
    • খ) ত্বরণ
    • গ) ভর
    • ঘ) ওজন
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) ভর — ভর যত বেশি, অবস্থা বদলাতে তত বেশি বল লাগে, তাই ভরই জড়তার পরিমাপ।

  3. ৩. চলন্ত বাস হঠাৎ থামলে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পড়েন কেন?

    • ক) স্থিতি জড়তা
    • খ) গতি জড়তা
    • গ) ঘর্ষণ
    • ঘ) মহাকর্ষ
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) গতি জড়তা — যাত্রীর দেহ চলতে থাকতে চায়, এটি গতি জড়তা।

  4. ৪. রকেট চলার মূলনীতি কোন সূত্রের উপর ভিত্তি করে?

    • ক) নিউটনের প্রথম সূত্র
    • খ) নিউটনের তৃতীয় সূত্র
    • গ) আর্কিমিডিসের সূত্র
    • ঘ) হুকের সূত্র
    উত্তর দেখো

    উত্তর: খ) নিউটনের তৃতীয় সূত্র — রকেট গ্যাসকে পেছনে ঠেলে, গ্যাসের প্রতিক্রিয়া রকেটকে সামনে ঠেলে।

  5. ৫. কোন ঘর্ষণ সবচেয়ে কম?

    • ক) স্থিতি ঘর্ষণ
    • খ) পিছলানো ঘর্ষণ
    • গ) আবর্ত ঘর্ষণ
    • ঘ) সবগুলো সমান
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) আবর্ত ঘর্ষণ — গড়িয়ে চলার সময় তলের সংস্পর্শ কম, তাই আবর্ত ঘর্ষণ সবচেয়ে কম।

  6. ৬. ২ kg ভরের বস্তুর বেগ ৫ m/s হলে ভরবেগ কত?

    • ক) 2.5 kg m/s
    • খ) 7 kg m/s
    • গ) 10 kg m/s
    • ঘ) 25 kg m/s
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) 10 kg m/s — p = mv = 2 × 5 = 10 kg m/s।

  7. ৭. ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একে অপরকে বাতিল করে না কেন?

    • ক) এরা অসমান
    • খ) এরা একই দিকে কাজ করে
    • গ) এরা ভিন্ন বস্তুর উপর কাজ করে
    • ঘ) এরা ভিন্ন সময়ে কাজ করে
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) এরা ভিন্ন বস্তুর উপর কাজ করে — বল বাতিল হতে হলে একই বস্তুর উপর কাজ করতে হয়; ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দুই ভিন্ন বস্তুতে কাজ করে।

  8. ৮. নিচের কোনটি অস্পর্শ বল?

    • ক) ঘর্ষণ বল
    • খ) টান বল
    • গ) চৌম্বক বল
    • ঘ) স্প্রিং বল
    উত্তর দেখো

    উত্তর: গ) চৌম্বক বল — চুম্বক দূর থেকেই লোহাকে আকর্ষণ করে, স্পর্শ লাগে না।

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: রাফি ১২০০ kg ভরের একটি গাড়ি ১০ m/s বেগে চালাচ্ছিল। সামনে বাধা দেখে ব্রেক কষায় গাড়িটি ৫ s এ থেমে গেল। গাড়ির পেছনের সিটে বসা তার ছোট বোন সামনে ঝুঁকে পড়ল।

  • ক) জড়তা কাকে বলে?
  • খ) ঘর্ষণ না থাকলে আমরা হাঁটতে পারতাম না কেন? ব্যাখ্যা করো।
  • গ) ব্রেক কষার সময় গাড়ির উপর গড় বল কত ছিল নির্ণয় করো।
  • ঘ) ছোট বোনের সামনে ঝুঁকে পড়ার কারণ বিশ্লেষণ করো এবং এ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর দেখো
  1. বস্তু যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার প্রবণতাকে জড়তা বলে।
  2. হাঁটার সময় পা মাটিকে পেছনে ঠেলে; ঘর্ষণ থাকলে মাটির প্রতিক্রিয়া আমাদের সামনে ঠেলে। ঘর্ষণ না থাকলে পা পিছলে যেত, কোনো সামনের দিকের বল তৈরি হতো না, তাই হাঁটা সম্ভব হতো না।
  3. m = 1200 kg, u = 10 m/s, v = 0, t = 5 s। a = (v − u)/t = (0 − 10)/5 = −2 m/s²। F = ma = 1200 × (−2) = −2400 N। অর্থাৎ গতির বিপরীতে ২৪০০ N গড় বল কাজ করেছে।
  4. গাড়ির সাথে বোনের দেহও ১০ m/s বেগে চলছিল। ব্রেক কষলে গাড়ি ও সিটের সাথে লাগা নিচের অংশ থেমে যায়, কিন্তু দেহের উপরের অংশ গতি জড়তার কারণে চলতে থাকতে চায়, তাই সে সামনে ঝুঁকে পড়ে — এটি নিউটনের প্রথম সূত্রের উদাহরণ। সিটবেল্ট বাঁধলে বেল্ট দেহের উপর বল প্রয়োগ করে তাকে গাড়ির সাথে থামিয়ে দেয়, আর বেল্ট খানিকটা প্রসারিত হয়ে থামার সময় বাড়ায়, ফলে দেহের উপর বল কমে। তাই সিটবেল্ট ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

উদ্দীপক: ৮০ kg ভরের একজন মাঝি ২০০ kg ভরের একটি স্থির নৌকা থেকে ৫ m/s বেগে অনুভূমিকভাবে তীরে লাফ দিলেন। পানির বাধা উপেক্ষা করা যায়।

  • ক) ভরবেগ কাকে বলে?
  • খ) বন্দুক থেকে গুলি ছুড়লে বন্দুক পেছনে সরে আসে কেন?
  • গ) লাফ দেওয়ার মুহূর্তে নৌকার বেগ নির্ণয় করো।
  • ঘ) মাঝির ভর অর্ধেক হলে নৌকার বেগ কেমন হতো? গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
  1. বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে; p = mv।
  2. গুলি ছোড়ার আগে বন্দুক ও গুলির মোট ভরবেগ শূন্য। ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী পরেও মোট ভরবেগ শূন্য থাকতে হবে, তাই গুলি সামনে গেলে বন্দুককে বিপরীত দিকে কিছু ভরবেগ নিতে হয়। এটাই নিউটনের তৃতীয় সূত্রের প্রতিক্রিয়া।
  3. আগের মোট ভরবেগ = 0। 80 × 5 + 200 × V = 0, 200V = −400, V = −2 m/s। নৌকা মাঝির বিপরীত দিকে ২ m/s বেগে সরে যাবে।
  4. ভর অর্ধেক হলে মাঝির ভর 40 kg। 40 × 5 + 200 × V = 0, V = −200/200 = −1 m/s। অর্থাৎ নৌকার বেগ ২ m/s থেকে কমে ১ m/s হবে। সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী নৌকার ভরবেগ মাঝির ভরবেগের সমান ও বিপরীত; মাঝির ভরবেগ অর্ধেক হওয়ায় নৌকার বেগও অর্ধেক হয়েছে। সুতরাং নৌকার বেগ মাঝির ভরের সমানুপাতিক।

বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র

অদ্ভুত শোনালেও সত্যি: তুমি যখন লাফ দাও, পৃথিবীও তোমার দিকে একটু সরে আসে! নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী তুমি পৃথিবীকে যতটা বলে টানো, পৃথিবীও তোমাকে ঠিক ততটাই টানে। কিন্তু পৃথিবীর ভর প্রায় 6 × 10^24 kg, তাই F = ma অনুযায়ী তার ত্বরণ এত ক্ষুদ্র যে একটি পরমাণুর চেয়েও কম দূরত্ব সরে। আবার মহাকাশচারীরা স্টেশনের বাইরে কাজ করার সময় একটা হাতুড়ি ছুড়ে দিলেই নিজেরা উল্টো দিকে ভেসে যেতে থাকেন — কারণ সেখানে থামানোর মতো কোনো ঘর্ষণ নেই।

প্রশ্ন ও উত্তর

এসএসসি পদার্থবিজ্ঞানে 'বল' কোন অধ্যায়?

নবম-দশম শ্রেণির NCTB পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে 'বল' তৃতীয় অধ্যায়। বইয়ের সংস্করণ বদলালে স্কুলের বইয়ের সূচিপত্র মিলিয়ে নিও।

ভর আর ওজন কি একই?

না। ভর হলো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ (একক kg), যা কোথাও বদলায় না। ওজন হলো বস্তুর উপর মহাকর্ষ বল, W = mg, একক N। চাঁদে ভর একই থাকে কিন্তু ওজন প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হয়।

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সমান হলে ঘোড়া গাড়ি টানে কীভাবে?

ঘোড়া গাড়িকে যে বলে টানে, গাড়িও ঘোড়াকে সেই বলে টানে, কিন্তু এরা ভিন্ন বস্তুর উপর কাজ করে। ঘোড়া পা দিয়ে মাটিকে পেছনে ঠেলে, মাটির ঘর্ষণজনিত প্রতিক্রিয়া ঘোড়াকে সামনে ঠেলে। এই বল গাড়ির পেছনের টান ও ঘর্ষণের চেয়ে বেশি হলেই পুরো ব্যবস্থা সামনে এগোয়।

ভরবেগ আর ঘাতের একক কি একই?

হ্যাঁ, মাত্রার দিক থেকে একই। ভরবেগের একক kg m/s আর ঘাতের একক N s; যেহেতু 1 N = 1 kg m/s², তাই 1 N s = 1 kg m/s।

সৃজনশীলে অঙ্ক করার সময় সাধারণ ভুল কী?

সবচেয়ে বেশি ভুল হয় একক রূপান্তরে (g কে kg না করা, km/h কে m/s না করা) এবং দিকের চিহ্নে। বিপরীত দিকের বেগ বা মন্দনকে ঋণাত্মক ধরো, আর উত্তরে দিক উল্লেখ করো।

আরও পড়ো

সূত্র: NCTB — পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (৩য় অধ্যায়: বল) · OpenStax College Physics — Dynamics: Force and Newton's Laws of Motion · Khan Academy — Forces and Newton's laws of motion