২৯ অক্টোবর, ২০২৬ · বিজ্ঞান
যিনি মহাকর্ষের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন, তিনিই কেন মহাবিশ্বের বিন্যাসের পেছনে একজন বুদ্ধিমান সত্তার ভূমিকা কল্পনা করেছিলেন?

১৬৯৩ সাল।
- মহাকর্ষের গাণিতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করার পরও আইজ্যাক নিউটনের সামনে রয়ে গিয়েছিল এক গভীর প্রশ্ন।
- গ্রহগুলো কেন এমন সুশৃঙ্খল কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে? এই ব্যবস্থার প্রাথমিক বিন্যাসের ব্যাখ্যা কী?
- নিউটন মহাকর্ষের সাহায্যে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গ্রহগুলোর প্রাথমিক গতির অবস্থা ও সৌরজগতের বিন্যাস কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা তাঁর কাছে ছিল না।
- ১৬৯২–৯৩ সালে ধর্মতাত্ত্বিক রিচার্ড বেন্টলিকে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন—
- “I am compelled to ascribe the frame of this Systeme to an intelligent agent.”
- অর্থাৎ,
- “এই বিশ্বব্যবস্থার বিন্যাসের পেছনে একজন বুদ্ধিমান সত্তার ভূমিকা স্বীকার করতে আমি বাধ্য।”
- কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন।
- নিউটন মহাবিশ্বের বিন্যাসের পেছনে বুদ্ধিমান সত্তার ভূমিকা বিশ্বাস করতেন—এটি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক অবস্থান। এটি মহাকর্ষের সূত্র থেকে গাণিতিকভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
- তিনি এমনটাও বলেননি যে, মহাকর্ষের নিয়ম কাজ করতে প্রতিনিয়ত কোনো অতিপ্রাকৃত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
- তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল সৌরজগতের প্রাথমিক বিন্যাস ও গ্রহগুলোর গতির সূচনা।
- এরপর বিজ্ঞান থেমে থাকেনি।
- পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে লাপ্লাসসহ বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াভিত্তিক মডেল তৈরি করেন। আধুনিক নীহারিকা তত্ত্ব অনুযায়ী, গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণায়মান মেঘ থেকে মহাকর্ষ, সংঘর্ষ এবং কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণের মতো প্রক্রিয়ায় সৌরজগতের গঠন ব্যাখ্যা করা যায়।
- অন্যদিকে, ১৯১৫ সালে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মহাকর্ষ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে।
- তবে এসব বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের চূড়ান্ত দার্শনিক প্রমাণ নয়। এগুলো দেখায়, প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান কীভাবে পরীক্ষাযোগ্য ও গাণিতিক মডেল তৈরি করে।
- নিউটনের একটি অনুত্তরিত প্রশ্ন পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন অনুসন্ধানের পথ খুলে দিয়েছিল।
- এটাই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য।
- এক যুগে যে প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকে, অন্য যুগে তার নতুন ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে।
- আর সেই ব্যাখ্যাও ভবিষ্যতে আরও পরিশীলিত হতে পারে।
- বিজ্ঞান কোনো মহান ব্যক্তির বিশ্বাসকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করে না। বিজ্ঞান প্রশ্ন করে, প্রমাণ খোঁজে এবং নতুন তথ্যের আলোয় নিজের ব্যাখ্যাকে সংশোধন করে।
- 🌌 আপনার কী মনে হয়—মহাবিশ্বের সব রহস্য কি একদিন বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে?
- — বিজ্ঞানী টিমটিম 🔭
আপনার কী মনে হয়? কমেন্টে জানান!
Facebook-এ কমেন্ট করোআরও জানো
পরের প্রশ্ন →
ঘণ্টায় মাত্র ৩০ সেন্ট বেতনে মহাবিশ্ব মাপার চাবি খুঁজেছিলেন!


