পূর্ণিমা-অমাবস্যা কেন হয়? চাঁদের কলার রহস্য
· পড়তে ৮ মিনিট · ✓ তথ্য যাচাই করা
ছোট উত্তর · ১০ সেকেন্ডে
পূর্ণিমা অমাবস্যা হয় কারণ চাঁদের অর্ধেক সবসময় সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকে, কিন্তু পৃথিবীকে ঘিরে ঘোরার সময় সেই আলোকিত অংশের কতটুকু আমাদের দিকে ফেরানো, তা বদলায়। চাঁদ সূর্যের দিকে থাকলে অমাবস্যা, পৃথিবীর উল্টো পাশে থাকলে পূর্ণিমা। পুরো চক্রে লাগে প্রায় সাড়ে ২৯ দিন।
আকাশের দিকে তাকালে একটা প্রশ্ন মাথায় আসেই — চাঁদ কেন কোনো রাতে থালার মতো গোল, আবার কোনো রাতে একেবারে উধাও? পূর্ণিমা অমাবস্যা কেন হয়, এর উত্তর শুনলে অবাক লাগবে: চাঁদ আসলে কখনো ছোট-বড় হয় না, ছায়াও পড়ে না তার গায়ে। বদলায় শুধু আমাদের দেখার কোণ। চলুন, এই চেনা রহস্যটা ধাপে ধাপে খুলে দেখি।
সংক্ষেপে — পূর্ণিমা অমাবস্যা কেন হয়: চাঁদের অর্ধেক সবসময় আলোকিত
চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই। সে শুধু সূর্যের আলো ফিরিয়ে দেয়। আর একটা গোল বলের ওপর এক দিক থেকে আলো ফেললে যা হয়, চাঁদেও তাই — যে অর্ধেক সূর্যের দিকে, সেটা আলোকিত; বাকি অর্ধেক অন্ধকার। এই নিয়ম কখনো বদলায় না। পূর্ণিমা হোক বা অমাবস্যা, চাঁদের ঠিক অর্ধেক সবসময় রোদ পোহাচ্ছে।
তাহলে চাঁদ কেন ছোট বড় হয়? কারণ চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে, আর ঘোরার পথে সূর্য-পৃথিবী-চাঁদের অবস্থান বদলাচ্ছে। কখনো আমরা আলোকিত অর্ধেকের পুরোটা দেখি, কখনো অল্প একটু, কখনো একেবারেই না। এটাকেই বলে চাঁদের কলা বা দশা। তাই চাঁদের কলা নিয়ে এই প্রশ্নের এক লাইনের উত্তর: আলো একই থাকে, বদলায় আমাদের জানালা।
ঘরে বসেই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। অন্ধকার ঘরে একটা বাতি জ্বালান — এটা সূর্য। হাতে একটা বল বা কমলা নিয়ে বাহু সোজা করে ধরুন — এটা চাঁদ। আপনার মাথা হলো পৃথিবী। এবার ধীরে ধীরে নিজের জায়গায় ঘুরুন। দেখবেন, বলের গায়ে আলো সরু বাঁকা থেকে অর্ধেক, তারপর পুরো গোল, আবার উল্টো দিকে ক্ষয় হচ্ছে। পুরো চাঁদের চক্রটা আপনার হাতের মুঠোয়!
আটটি দশা এক ছবিতে
বিজ্ঞানীরা চাঁদের চক্রকে আটটি নামকরা দশায় ভাগ করেন। আসলে চাঁদ প্রতিদিন একটু একটু বদলায়, এই আটটি শুধু মনে রাখার সুবিধার জন্য।
- 🌑অমাবস্যা
- 🌒বাড়ন্ত বাঁকা চাঁদ
- 🌓প্রথম চতুর্থাংশ
- 🌔বাড়ন্ত কুঁজো চাঁদ
- 🌕পূর্ণিমা
- 🌖ক্ষয়িষ্ণু কুঁজো
↺ আবার প্রথম ধাপে ফিরে যায়
অমাবস্যা কেন হয়?
অমাবস্যায় চাঁদ পৃথিবী আর সূর্যের মাঝামাঝি দিকে থাকে। তার আলোকিত অর্ধেক তখন পুরোটাই সূর্যের দিকে, আমাদের দিকে ফেরানো অন্ধকার পিঠ। তাই আকাশে চাঁদ থাকলেও আমরা দেখি না। প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না, কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় ৫ ডিগ্রি হেলানো — বেশিরভাগ মাসে চাঁদ সূর্যের সামান্য ওপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়।
পূর্ণিমা কেন হয়?
পূর্ণিমায় পৃথিবী মোটামুটি সূর্য আর চাঁদের মাঝখানে। চাঁদের যে অর্ধেক সূর্যের আলো পাচ্ছে, সেটা পুরোটাই আমাদের দিকে ফেরানো। তাই পুরো গোল চাঁদ। এ কারণেই পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে মোটামুটি সূর্য ডোবার সময়, আর সারা রাত আকাশে থেকে ভোরে অস্ত যায়। এখানেও সেই হেলানো কক্ষপথের কারণে প্রতি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না।
বাড়ন্ত আর ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ চিনবেন কীভাবে
বাংলাদেশ থেকে সহজ একটা কৌশল: সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে যে চাঁদ দেখেন, সেটা সাধারণত বাড়ন্ত — শুক্লপক্ষ। আর ভোরের পূর্ব আকাশে যে বাঁকা চাঁদ, সেটা ক্ষয়িষ্ণু — কৃষ্ণপক্ষ। চাঁদের যে পাশ আলোকিত, সূর্য সবসময় সেই দিকেই থাকে।
প্রায় সাড়ে ২৯ দিনের চক্র
এক অমাবস্যা থেকে পরের অমাবস্যা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ২৯.৫ দিন লাগে। একে বলে সিনোডিক মাস বা চন্দ্রমাস। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, চাঁদ পৃথিবীকে একবার পুরো ঘুরে আসে আরও কম সময়ে, প্রায় ২৭.৩ দিনে। তাহলে বাকি দুই দিন কোথায় গেল?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে পৃথিবীর নিজের চলায়। চাঁদ যখন পৃথিবীকে ঘুরছে, পৃথিবীও তখন চাঁদকে সঙ্গে নিয়ে সূর্যকে ঘুরছে। প্রায় ২৭.৩ দিন পর চাঁদ তারাদের তুলনায় আগের জায়গায় ফিরে এলেও সূর্য ততদিনে একটু সরে গেছে বলে মনে হয়। সূর্যের সাপেক্ষে আবার একই অবস্থানে আসতে চাঁদকে আরও প্রায় দুই দিন হাঁটতে হয়। ঘড়ির কাঁটা যেমন — মিনিটের কাঁটা ঘণ্টার কাঁটাকে ধরতে এক পাক ঘুরেও একটু বেশি হাঁটে।
- চন্দ্রমাস (কলা)৩০ দিন
- তারার সাপেক্ষে এক পাক২৭ দিন
আরেকটা চমক: চাঁদ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ মিনিট দেরিতে ওঠে। আজ যে চাঁদ সন্ধ্যা ৭টায় উঠল, কাল উঠবে প্রায় পৌনে ৮টায়। কারণ পৃথিবী একবার ঘুরে আসতে আসতে চাঁদ তার কক্ষপথে আরও খানিকটা এগিয়ে যায়।
চাঁদ দেখে মাস গোনা — হিজরি ও বাংলা ক্যালেন্ডার
হাজার হাজার বছর আগে মানুষের হাতে ঘড়ি বা ছাপা ক্যালেন্ডার ছিল না, কিন্তু আকাশে চাঁদ ছিল। প্রতি সাড়ে ২৯ দিনে ফিরে আসা এই চক্র ছিল সবচেয়ে সহজ প্রাকৃতিক ক্যালেন্ডার। নামেও তার ছাপ আছে — ইংরেজি month শব্দটা এসেছে moon থেকে।
হিজরি ক্যালেন্ডার পুরোপুরি চাঁদনির্ভর। নতুন চাঁদের প্রথম সরু বাঁকা রেখা দেখা গেলে নতুন মাস শুরু হয়। তাই হিজরি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের, আর বারো মাসে বছর হয় প্রায় ৩৫৪ দিনে — সৌরবছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। এ কারণেই রমজান আর ঈদ প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে, আর প্রায় ৩৩ বছরে সব ঋতু ঘুরে আসে। বাংলাদেশে ঈদের আগের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার অপেক্ষা — সেটা আসলে এই বিজ্ঞানেরই একটা উৎসব।
আমাদের বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) আবার মূলত সৌরবছরের হিসাবে চলে, তাই পহেলা বৈশাখ প্রতি বছর মোটামুটি একই সময়ে আসে। তবে প্রচলিত পঞ্জিকায় তিথির হিসাব চাঁদ ধরেই চলে — শুক্লপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ, পূর্ণিমা, অমাবস্যা। লক্ষ্মীপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, কালীপূজার মতো অনেক উৎসবের তারিখ তাই চাঁদের কলা দেখে ঠিক হয়। মানে, পূর্ণিমা আর অমাবস্যা শুধু আকাশের ঘটনা নয়, আমাদের সংস্কৃতির ঘড়িও।
জোয়ার-ভাটার সাথে সম্পর্ক
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার মূল কারিগর চাঁদের মহাকর্ষ, সঙ্গে সূর্যেরও কিছুটা হাত আছে। পূর্ণিমা আর অমাবস্যায় সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ মোটামুটি এক সরলরেখায় থাকে। তখন দুজনের টান একসঙ্গে যোগ হয়, ফলে জোয়ার হয় স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু আর ভাটা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু। একে বলে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (spring tide)। নামে ‘spring’ থাকলেও বসন্তকালের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই — মাসে দুবার হয়।
প্রথম আর শেষ চতুর্থাংশে সূর্য আর চাঁদ পৃথিবীকে প্রায় সমকোণে টানে, একজনের টান আরেকজনের টানকে খানিকটা কাটাকাটি করে। তখন জোয়ার-ভাটার পার্থক্য কম — একে বলে মরা কটাল (neap tide)।
বাংলাদেশের উপকূল আর সুন্দরবনের মানুষ এই হিসাব শত শত বছর ধরে জানেন। অনেক জেলে চাঁদের কলা দেখেই বুঝে নেন কবে পানি বেশি উঠবে, কবে নদীতে নামা সুবিধাজনক।
কোন দশায় টেলিস্কোপে সবচেয়ে সুন্দর গর্ত দেখা যায়
এখানে একটা উল্টো সত্য আছে: চাঁদ দেখার জন্য পূর্ণিমা সবচেয়ে খারাপ সময়! পূর্ণিমায় সূর্যের আলো চাঁদের ঠিক সামনে থেকে পড়ে, কোনো ছায়া তৈরি হয় না। গর্ত আর পাহাড় তখন সমতল আর ধবধবে দেখায়, চোখও ঝলসে যায়।
সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য পাবেন প্রথম বা শেষ চতুর্থাংশের আশেপাশে, আলো-অন্ধকারের সীমারেখার কাছে। এই রেখার নাম টার্মিনেটর। সেখানে সূর্যের আলো তেরছা করে পড়ে, গর্তের কিনারা থেকে লম্বা কালো ছায়া পড়ে — চাঁদ হঠাৎ ত্রিমাত্রিক হয়ে ওঠে। একটা সাধারণ বাইনোকুলারেও বড় বড় গর্ত আর অন্ধকার ‘সাগর’ চোখে পড়ে, আর ছোট টেলিস্কোপে মনে হবে মহাকাশযানের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছেন। শুরু করার উপযোগী যন্ত্র খুঁজলে আমাদের [টেলিস্কোপ গাইড](/telescope/15-moon-planets) দেখুন, অথবা সরাসরি [শপ](/shop) ঘুরে আসুন।
চাঁদ সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে আমাদের [চাঁদের যাত্রা](/journey/moon) পাতা থেকে শুরু করতে পারেন। আর জানেন কি, চাঁদ প্রতি বছর পৃথিবী থেকে প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে? সেই অদ্ভুত গল্প পড়ুন [চাঁদ কেন দূরে সরে যাচ্ছে](/scheduled/moon-moving-away) লেখায়।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চাঁদের উল্টো পিঠ কেন আমরা দেখি না?
চাঁদ নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যত সময় নেয়, পৃথিবীকে একবার ঘুরতেও প্রায় ততটাই সময় নেয়। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর মহাকর্ষের টানে এই তাল মিলে গেছে, একে বলে টাইডাল লকিং। তাই চাঁদের একই মুখ সবসময় আমাদের দিকে থাকে। উল্টো পিঠ অন্ধকার নয়, সেখানেও দিন-রাত হয়; আমরা শুধু দেখতে পাই না।
পূর্ণিমায় কি মানুষের আচরণ বদলে যায়?
এটা খুব পুরোনো বিশ্বাস, কিন্তু বড় বড় গবেষণায় পূর্ণিমার সঙ্গে অপরাধ, হাসপাতালে ভিড় বা মানসিক অস্থিরতার পরিষ্কার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কিছু ছোট গবেষণায় পূর্ণিমার আশেপাশে ঘুম একটু কম হওয়ার ইঙ্গিত আছে, হয়তো রাতে বেশি আলোর কারণে। তবে ‘চাঁদ মানুষ বদলে দেয়’ — এর পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।
দিনের বেলাতেও আকাশে চাঁদ দেখা যায় কেন?
চাঁদ শুধু রাতের জিনিস নয়। প্রথম আর শেষ চতুর্থাংশের আশেপাশে চাঁদ আকাশে সূর্য থেকে প্রায় ৯০ ডিগ্রি দূরে থাকে, তাই বিকেলে বা সকালে সূর্য থাকতেই সে আকাশে থাকে। চাঁদ যথেষ্ট উজ্জ্বল বলে নীল আকাশের আলো ভেদ করেও তাকে দেখা যায়।
অমাবস্যার নতুন চাঁদ খালি চোখে কেন দেখা যায় না?
অমাবস্যায় চাঁদ প্রায় সূর্যের দিকেই থাকে। তার আলোকিত অর্ধেক তখন সূর্যের দিকে ফেরানো, আমাদের দিকে আসে অন্ধকার পিঠ। তার ওপর চাঁদ ওঠে-ডোবে প্রায় সূর্যের সঙ্গেই, তাই সূর্যের তীব্র আলোয় সে হারিয়ে যায়। এক-দুই দিন পর সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সরু বাঁকা চাঁদ প্রথম চোখে পড়ে।
চন্দ্রমাস কত দিনে হয়?
এক অমাবস্যা থেকে পরের অমাবস্যা পর্যন্ত গড়ে প্রায় সাড়ে ২৯ দিন (প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট) লাগে। তাই চন্দ্রমাস ক্যালেন্ডারে কখনো ২৯ দিনের, কখনো ৩০ দিনের হয়।
শেষ কথা
তাহলে পূর্ণিমা অমাবস্যা কেন হয়, এক কথায়: চাঁদের অর্ধেক সবসময় আলোকিত, আর পৃথিবীকে ঘিরে প্রায় সাড়ে ২৯ দিনের যাত্রায় আমরা সেই আলোকিত অর্ধেকের কতটুকু দেখি, তা বদলায়। আজ রাতে আকাশে তাকিয়ে চাঁদের কলা দেখে বলুন তো — চাঁদ এখন বাড়ছে না কমছে?
নিজে দেখুন
নিজে দেখো: পরের প্রথম চতুর্থাংশের সন্ধ্যায় বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ নিয়ে চাঁদের আলো-অন্ধকারের সীমারেখায় তাকাও — গর্তের লম্বা ছায়াগুলো গুনে দেখো।
ছোট্ট যাচাই
কতটা মনে আছে, দেখে নিন
১. চাঁদের পুরো চক্র শেষ হতে লাগে প্রায় কত দিন?
২. অমাবস্যার চাঁদ খালি চোখে দেখা যায় না কেন?
তথ্যসূত্র
- ১NASA Science — Moon Phases (29.5 d cycle, 27.322 d orbit, 5° tilt, always half-lit) science.nasa.gov ↗
- ২NASA Science — Tides science.nasa.gov ↗
- ৩NOAA — What are spring and neap tides? oceanservice.noaa.gov ↗
- ৪NASA Science — Earth's Moon facts (tidal locking, far side not dark) science.nasa.gov ↗
- ৫Wikipedia — Islamic calendar (354/355-day year, crescent sighting, ~33-yr seasonal cycle) en.wikipedia.org ↗
- ৬NASA — Laser beams reflected between Earth and Moon (3.8 cm/yr recession) nasa.gov ↗
- ৭NASA APOD — Full Moon Silhouettes (Moon rises ~50 min later each day) science.nasa.gov ↗
কৃতজ্ঞতা
- তথ্য যাচাই: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬