এসএসসি জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১
জীবের প্রজনন
এক কথায়
প্রজনন হলো যে প্রক্রিয়ায় জীব নিজের মতো নতুন জীব জন্ম দেয় এবং প্রজাতি টিকিয়ে রাখে। এটি দুই রকম: অযৌন (গ্যামেট ছাড়া) ও যৌন (পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন)। সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল হলো প্রজনন অঙ্গ; পরাগায়নের পর দ্বিনিষেক ঘটে। মানুষে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট তৈরি হয়, যা জরায়ুতে ভ্রূণে পরিণত হয়।
প্রজনন কী এবং কেন দরকার
প্রতিটি জীবের আয়ু সীমিত। তবু পৃথিবীতে আম গাছ, মানুষ বা ইলিশ মাছ হাজার বছর ধরে টিকে আছে, কারণ মারা যাওয়ার আগে প্রত্যেকে নিজের মতো নতুন জীব রেখে যায়। এই প্রক্রিয়ার নামই প্রজনন। প্রজনন না থাকলে কোনো প্রজাতি এক প্রজন্মের পরেই বিলুপ্ত হয়ে যেত।
প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের। অযৌন প্রজননে গ্যামেট তৈরি হয় না, একটি জনিতা থেকেই নতুন জীব আসে, তাই সন্তান হুবহু জনিতার মতো হয়। যৌন প্রজননে পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন ঘটে, ফলে সন্তানে দুই জনিতার বৈশিষ্ট্য মিশে নতুন বৈচিত্র্য আসে। এই বৈচিত্র্যই পরিবেশ বদলালে প্রজাতিকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
অযৌন ও অঙ্গজ প্রজনন
অযৌন প্রজনন সাধারণত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে, তাই এটি দ্রুত এবং অল্প শক্তিতে অনেক সন্তান তৈরি করতে পারে। ব্যাকটেরিয়া দ্বিবিভাজনে, ইস্ট মুকুলোদগমে এবং অনেক ছত্রাক রেণুর মাধ্যমে বংশ বাড়ায়।
উদ্ভিদের দেহের মূল, কাণ্ড বা পাতার অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মানোকে অঙ্গজ প্রজনন বলে। কৃষকেরা এটি খুব কাজে লাগান, কারণ এতে ভালো জাতের গুণ অপরিবর্তিত থাকে।
- মূলের মাধ্যমে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া।
- রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: আলু (স্ফীতকন্দ), আদা ও হলুদ (রাইজোম), পেঁয়াজ (কন্দ), কচু (গুঁড়িকন্দ)।
- পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচির পাতার কিনারা থেকে নতুন চারা।
- কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন: শাখা কলম, দাবা কলম, গুটি কলম, জোড় কলম; গোলাপ, লেবু, আম ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
ফুল: উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ
সপুষ্পক উদ্ভিদে যৌন প্রজনন ঘটে ফুলের মাধ্যমে। একটি আদর্শ ফুলে পাঁচটি অংশ থাকে: পুষ্পাক্ষ বা পুষ্পাসন, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। বৃতি ও দলমণ্ডল সাহায্যকারী স্তবক, আর পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক অত্যাবশ্যকীয় স্তবক, কারণ এরাই সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়।
পুংস্তবকের প্রতিটি একক হলো পুংকেশর, যার পরাগধানীতে পরাগরেণু তৈরি হয়। স্ত্রীস্তবকের একক হলো গর্ভপত্র, যার তিন অংশ: গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও গর্ভাশয়। গর্ভাশয়ের ভেতরে থাকে ডিম্বক। যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই থাকে তাকে উভলিঙ্গ ফুল (যেমন ধুতুরা, জবা) এবং যেটিতে একটি থাকে তাকে একলিঙ্গ ফুল (যেমন লাউ, কুমড়া) বলে।
পরাগায়ন: পরাগ কীভাবে পৌঁছায়
পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই প্রজাতির ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। একই ফুলে বা একই গাছের অন্য ফুলে ঘটলে তা স্বপরাগায়ন, আর একই প্রজাতির ভিন্ন গাছের ফুলে ঘটলে তা পরপরাগায়ন। পরপরাগায়নে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে বলে সন্তান সাধারণত বেশি সবল হয়।
পরপরাগায়নের জন্য বাহক দরকার, আর প্রতিটি বাহকের জন্য ফুলের গঠনও আলাদা।
- পতঙ্গপরাগী: ফুল বড়, রঙিন, সুগন্ধি ও মধুযুক্ত; যেমন সরিষা, কুমড়া।
- বায়ুপরাগী: ফুল ছোট, রং-গন্ধহীন, পরাগরেণু হালকা ও প্রচুর, গর্ভমুণ্ড পালকের মতো; যেমন ধান, ভুট্টা।
- পানিপরাগী: পরাগরেণু পানিতে ভেসে যায়; যেমন পাতাঝাঁঝি।
- প্রাণীপরাগী: পাখি, বাদুড়, শামুক ইত্যাদি; যেমন শিমুল, পলাশ।
নিষেক ও দ্বিনিষেক
গর্ভমুণ্ডে পড়ার পর পরাগরেণু থেকে একটি পরাগনালি গজিয়ে গর্ভদণ্ড বেয়ে ডিম্বকে পৌঁছায়। পরাগনালিতে দুটি পুং গ্যামেট থাকে। ডিম্বকের ভ্রূণথলিতে থাকে ডিম্বাণু (n) এবং দুটি মেরু নিউক্লিয়াস মিলে তৈরি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (2n)।
একটি পুং গ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট (2n) তৈরি করে, যা পরে ভ্রূণ হয়। অন্য পুং গ্যামেট সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য নিউক্লিয়াস তৈরি করে, যা থেকে সস্য বা এন্ডোস্পার্ম হয়। একসাথে দুটি নিষেক ঘটে বলে একে দ্বিনিষেক বলে; এটি কেবল আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য।
পুং গ্যামেট (n) + ডিম্বাণু (n) = জাইগোট (2n) → ভ্রূণ
পুং গ্যামেট (n) + সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (2n) = সস্য নিউক্লিয়াস (3n) → সস্য
ফল ও বীজের গঠন
নিষেকের পর গর্ভাশয় বড় হয়ে ফল হয় এবং ডিম্বক পরিণত হয় বীজে। ডিম্বকত্বক হয় বীজত্বক, আর গর্ভাশয়ের প্রাচীর হয় ফলত্বক। শুধু গর্ভাশয় থেকে তৈরি ফলকে প্রকৃত ফল (যেমন আম) এবং গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্য অংশও যুক্ত হলে তাকে অপ্রকৃত ফল (যেমন আপেল, চালতা) বলে। নিষেক ছাড়াই ফল তৈরি হলে তাকে পার্থেনোকার্পি বলে, যেমন অনেক জাতের কলা বীজহীন হয়।
ফল তিন রকম: একটি ফুলের একটি গর্ভাশয় থেকে সরল ফল (আম, ধান), একটি ফুলের একাধিক পৃথক গর্ভপত্র থেকে গুচ্ছফল (আতা), এবং একটি পুষ্পমঞ্জরির সব ফুল মিলে যৌগিক ফল (কাঁঠাল, আনারস)।
মানুষের প্রজননতন্ত্র
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ একজোড়া শুক্রাশয়, যা শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরি করে। শুক্রাশয় দেহের বাইরে স্ক্রোটাম থলিতে থাকে, কারণ শুক্রাণু তৈরির জন্য দেহের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ °C কম তাপমাত্রা দরকার। এছাড়া এপিডিডাইমিস, শুক্রনালি, সেমিনাল ভেসিকল, প্রোস্টেট গ্রন্থি ও মূত্রনালি এই তন্ত্রের অংশ।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ একজোড়া ডিম্বাশয়, যা ডিম্বাণু এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরি করে। ফেলোপিয়ান নালি ডিম্বাণুকে জরায়ুর দিকে নিয়ে যায়, আর জরায়ু হলো সেই অঙ্গ যেখানে ভ্রূণ বড় হয়। এরপর থাকে জরায়ুমুখ ও যোনি। বয়ঃসন্ধিতে এসব হরমোনের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
নিষেক, অমরা ও ভ্রূণের বিকাশ
মানুষে নিষেক ঘটে ফেলোপিয়ান নালিতে। শুক্রাণু (n = 23 ক্রোমোসোম) ও ডিম্বাণু (n = 23) মিলে জাইগোট (2n = 46) তৈরি হয়। জাইগোট বারবার মাইটোসিসে বিভাজিত হতে হতে জরায়ুতে নেমে আসে এবং জরায়ুর প্রাচীরে প্রোথিত হয়, একে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে।
ভ্রূণ ও মায়ের জরায়ুর টিস্যু মিলে অমরা বা প্লাসেন্টা তৈরি হয়। নাভিরজ্জুর মাধ্যমে ভ্রূণ অমরার সাথে যুক্ত থাকে। মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও বর্জ্য অমরার মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়, কিন্তু মা ও ভ্রূণের রক্ত সরাসরি মেশে না। অমরা হরমোনও নিঃসরণ করে। সাধারণত শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে প্রায় ৪০ সপ্তাহ বা ২৮০ দিন (নিষেক থেকে প্রায় ৩৮ সপ্তাহ) পর শিশুর জন্ম হয়।
- প্রথম তিন মাস: হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্কসহ প্রধান অঙ্গগুলোর ভিত্তি তৈরি হয়; তাই এ সময় মায়ের পুষ্টি ও সাবধানতা সবচেয়ে জরুরি।
- মাঝের তিন মাস: অঙ্গগুলো বড় হয়, মা ভ্রূণের নড়াচড়া টের পান।
- শেষ তিন মাস: ওজন দ্রুত বাড়ে, ফুসফুস পরিণত হয়।
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
১. ফুলের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কোনগুলো?
- ক) বৃতি ও দলমণ্ডল
- খ) পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
- গ) বৃতি ও পুংস্তবক
- ঘ) দলমণ্ডল ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক — পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক সরাসরি গ্যামেট তৈরি করে প্রজননে অংশ নেয়।
২. সস্য নিউক্লিয়াস কোন প্রকৃতির?
- ক) হ্যাপ্লয়েড (n)
- খ) ডিপ্লয়েড (2n)
- গ) ট্রিপ্লয়েড (3n)
- ঘ) টেট্রাপ্লয়েড (4n)
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) ট্রিপ্লয়েড (3n) — পুং গ্যামেট (n) ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (2n) মিলে 3n হয়।
৩. নিচের কোনটি বায়ুপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য?
- ক) উজ্জ্বল রঙের দল
- খ) মধুগ্রন্থি থাকে
- গ) পালকের মতো গর্ভমুণ্ড
- ঘ) আঠালো পরাগরেণু
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) পালকের মতো গর্ভমুণ্ড — পালকের মতো গর্ভমুণ্ড বাতাসে ভেসে আসা পরাগ ধরতে সাহায্য করে।
৪. আদা কোন ধরনের রূপান্তরিত কাণ্ড?
- ক) স্ফীতকন্দ
- খ) রাইজোম
- গ) কন্দ
- ঘ) গুঁড়িকন্দ
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) রাইজোম — আদা ও হলুদ মাটির নিচে আনুভূমিকভাবে বাড়ে, এরা রাইজোম।
৫. কাঁঠাল কোন ধরনের ফল?
- ক) সরল ফল
- খ) গুচ্ছফল
- গ) যৌগিক ফল
- ঘ) অপ্রকৃত সরল ফল
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) যৌগিক ফল — সম্পূর্ণ পুষ্পমঞ্জরি মিলে কাঁঠাল তৈরি হয়, তাই এটি যৌগিক ফল।
৬. মানুষে নিষেক সাধারণত কোথায় ঘটে?
- ক) জরায়ু
- খ) ডিম্বাশয়
- গ) ফেলোপিয়ান নালি
- ঘ) জরায়ুমুখ
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) ফেলোপিয়ান নালি — ডিম্বাণু ফেলোপিয়ান নালিতে থাকা অবস্থায় শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়।
৭. মানুষের জাইগোটে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত?
- ক) 23
- খ) 44
- গ) 46
- ঘ) 92
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) 46 — শুক্রাণুর 23 ও ডিম্বাণুর 23 মিলে 46টি ক্রোমোসোম।
৮. অমরার কাজ কোনটি?
- ক) শুক্রাণু তৈরি
- খ) মা ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থ আদান-প্রদান
- গ) ডিম্বাণু তৈরি
- ঘ) মা ও ভ্রূণের রক্ত মিশ্রণ
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) মা ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থ আদান-প্রদান — অমরা অক্সিজেন, পুষ্টি ও বর্জ্যের বিনিময় ঘটায়, তবে রক্ত সরাসরি মেশে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রিনা তার বাগানে দুই ধরনের গাছ লক্ষ করল। 'ক' গাছের ফুল বড়, উজ্জ্বল হলুদ ও সুগন্ধি, তাতে মৌমাছি বসে। 'খ' গাছের ফুল খুব ছোট, রং-গন্ধহীন এবং বাতাসে প্রচুর হালকা পরাগ উড়ে যায়।
- ক) পরাগায়ন কাকে বলে?
- খ) দ্বিনিষেক বলতে কী বোঝায়?
- গ) 'ক' গাছের ফুলের পরাগায়ন কীভাবে ঘটে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) 'ক' ও 'খ' গাছের ফুলের গঠনগত পার্থক্য তাদের পরাগায়নের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত, বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই প্রজাতির ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- আবৃতবীজী উদ্ভিদে একটি পুং গ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট (2n) এবং অপরটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে সস্য নিউক্লিয়াস (3n) তৈরি করে। একই সময়ে দুটি নিষেক ঘটে বলে একে দ্বিনিষেক বলে।
- 'ক' গাছের ফুল পতঙ্গপরাগী। উজ্জ্বল রং, সুগন্ধ ও মধু মৌমাছিকে আকর্ষণ করে। মৌমাছি মধু খেতে বসলে তার দেহে আঠালো পরাগরেণু লেগে যায়। পরে সে অন্য ফুলে বসলে সেই পরাগ গর্ভমুণ্ডে লেগে পরপরাগায়ন ঘটে।
- 'ক' পতঙ্গপরাগী, তাই এর ফুল বড়, রঙিন, সুগন্ধি, মধুযুক্ত এবং পরাগ আঠালো ও অমসৃণ, যাতে পতঙ্গের গায়ে লেগে থাকে। 'খ' বায়ুপরাগী, তাই এর ফুলে আকর্ষণের দরকার নেই; ফুল ছোট ও রং-গন্ধহীন, পরাগ হালকা, শুষ্ক ও প্রচুর, যাতে বাতাসে দূরে যায় এবং অপচয় পুষিয়ে যায়; গর্ভমুণ্ড পালকের মতো ছড়ানো থাকে পরাগ ধরার জন্য। সুতরাং প্রতিটি ফুলের গঠন তার পরাগবাহকের সাথে মানিয়ে বিবর্তিত হয়েছে, যা পরাগায়নের সাফল্য বাড়ায়।
উদ্দীপক: সন্তানসম্ভবা শাহানাকে চিকিৎসক বললেন, গর্ভের শিশু একটি বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মায়ের কাছ থেকে খাদ্য ও অক্সিজেন পায়। তিনি আরও বললেন, প্রথম তিন মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না।
- ক) ইমপ্ল্যান্টেশন কী?
- খ) শুক্রাশয় স্ক্রোটামে থাকে কেন?
- গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) চিকিৎসকের পরামর্শগুলোর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- বিভাজিত জাইগোট বা ভ্রূণের জরায়ুর প্রাচীরে প্রোথিত হওয়াকে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে।
- শুক্রাণু তৈরির জন্য দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ °C কম তাপমাত্রা প্রয়োজন। স্ক্রোটাম দেহের বাইরে থাকায় এই কম তাপমাত্রা বজায় থাকে।
- অঙ্গটি অমরা। এটি ভ্রূণের টিস্যু ও মায়ের জরায়ুর টিস্যু মিলে তৈরি এবং নাভিরজ্জু দিয়ে ভ্রূণের সাথে যুক্ত। এর মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি ভ্রূণে যায় এবং ভ্রূণের কার্বন ডাইঅক্সাইড ও বর্জ্য মায়ের রক্তে আসে, যদিও দুজনের রক্ত সরাসরি মেশে না। অমরা গর্ভাবস্থা টিকিয়ে রাখার হরমোনও নিঃসরণ করে।
- প্রথম তিন মাসে হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্রসহ প্রধান অঙ্গগুলোর ভিত্তি গড়ে ওঠে। এ সময় পুষ্টির অভাব হলে অঙ্গ গঠনে ত্রুটি হতে পারে, তাই প্রোটিন, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার জরুরি। অনেক ওষুধ অমরা পেরিয়ে ভ্রূণে পৌঁছাতে পারে এবং গঠনরত অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক।
বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র
তুমি যে কলা খাও তার ভেতরে বড় শক্ত বীজ পাও না, কারণ চাষের কলার অনেক জাত নিষেক ছাড়াই ফল তৈরি করে (পার্থেনোকার্পি)। তাহলে নতুন কলাগাছ আসে কোথা থেকে? মাটির নিচের গুঁড়ি থেকে বের হওয়া তেউড় থেকে, অর্থাৎ অঙ্গজ প্রজননে। মানে, একই জাতের কলাগাছগুলো আসলে জিনগতভাবে প্রায় একে অপরের যমজ!
প্রশ্ন ও উত্তর
অযৌন আর অঙ্গজ প্রজনন কি একই?
অঙ্গজ প্রজনন অযৌন প্রজননেরই একটি ধরন, যেখানে দেহের মূল, কাণ্ড বা পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ হয়। অযৌন প্রজননের অন্য ধরন হলো দ্বিবিভাজন, মুকুলোদগম, রেণু ইত্যাদি।
দ্বিনিষেক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এতে একসাথে ভ্রূণ ও তার খাদ্যভান্ডার সস্য তৈরি হয়। ধান, গম, ভুট্টার যে অংশ আমরা খাই তার বড় অংশই এই সস্য।
সব ফলই কি গর্ভাশয় থেকে হয়?
না। আপেল ও চালতার মতো অপ্রকৃত ফলে গর্ভাশয়ের সাথে পুষ্পাক্ষ বা বৃতির মতো অন্য অংশও ফল গঠনে অংশ নেয়।
মা ও গর্ভের শিশুর রক্ত কি মেশে?
না। অমরায় দুজনের রক্ত খুব কাছাকাছি পাতলা পর্দা দিয়ে আলাদা থাকে; পদার্থ ব্যাপনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আদান-প্রদান হয়।
এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় কী বেশি আসে?
ফুলের অংশ, পরাগায়নের প্রকার ও বাহকভেদে ফুলের বৈশিষ্ট্য, দ্বিনিষেক, ফলের প্রকার, অমরার কাজ এবং অঙ্গজ প্রজননের উদাহরণ।
আরও পড়ো
সূত্র: NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি · Encyclopaedia Britannica: Double fertilization · NHS: Week-by-week guide to pregnancy