এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ১০
স্থির বিদ্যুৎ
এক কথায়
স্থির বিদ্যুৎ হলো কোনো বস্তুতে জমে থাকা, প্রবাহিত না হওয়া আধান। ঘর্ষণে ইলেকট্রন এক বস্তু থেকে আরেক বস্তুতে যায়, ফলে একটি ধনাত্মক ও অন্যটি ঋণাত্মক হয়। সমধর্মী আধান বিকর্ষণ করে, বিপরীতধর্মী আকর্ষণ করে। দুই আধানের মধ্যে বল কুলম্বের সূত্র F = k q1 q2 / r² মেনে চলে, যেখানে k = 9 × 10^9 N m² C⁻²।
আধান কী: পরমাণুর ভেতরের হিসাব
সব পদার্থ পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন ও আধানহীন নিউট্রন, আর চারপাশে ঘোরে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান, তাই পরমাণু তড়িৎ নিরপেক্ষ।
কোনো বস্তু ইলেকট্রন হারালে তাতে প্রোটন বেশি থাকে, বস্তুটি ধনাত্মক আধানগ্রস্ত হয়। ইলেকট্রন পেলে হয় ঋণাত্মক আধানগ্রস্ত। মনে রেখো, প্রোটন নড়ে না, আধান তৈরিতে চলাচল করে শুধু ইলেকট্রন। আধানের SI একক কুলম্ব (C)। একটি ইলেকট্রনের আধান −1.6 × 10^-19 C, অর্থাৎ 1 C আধান বানাতে প্রায় 6.25 × 10^18 টি ইলেকট্রন লাগে।
- আধান সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শুধু এক বস্তু থেকে আরেক বস্তুতে স্থানান্তর হয় (আধানের সংরক্ষণশীলতা)।
- যেকোনো বস্তুর আধান একটি ইলেকট্রনের আধানের পূর্ণ গুণিতক।
- সমধর্মী আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, বিপরীতধর্মী আধান আকর্ষণ করে।
ঘর্ষণে আধান: চিরুনি কেন কাগজ টানে
শুকনো চুলে প্লাস্টিকের চিরুনি আঁচড়ে ছোট কাগজের টুকরার কাছে ধরলে কাগজ লাফিয়ে চিরুনিতে লেগে যায়। কারণ ঘর্ষণের সময় চুল থেকে কিছু ইলেকট্রন চিরুনিতে চলে যায়, চিরুনি ঋণাত্মক ও চুল ধনাত্মক হয়।
একইভাবে কাচদণ্ড রেশমি কাপড়ে ঘষলে কাচ ইলেকট্রন হারিয়ে ধনাত্মক হয়, রেশম ঋণাত্মক হয়। আবার এবোনাইট দণ্ড পশমে ঘষলে এবোনাইট ইলেকট্রন পেয়ে ঋণাত্মক হয়, পশম ধনাত্মক হয়। দুটি বস্তুতে সবসময় সমান পরিমাণ কিন্তু বিপরীত আধান জন্মায়, এটাই আধানের সংরক্ষণশীলতার প্রমাণ।
পরিবাহী, অপরিবাহী ও আবেশ
যেসব পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রন অনেক, সেখানে আধান সহজে চলাচল করে, এদের পরিবাহী বলে, যেমন তামা, অ্যালুমিনিয়াম, মানবদেহ। যেসব পদার্থে আধান প্রায় চলতে পারে না, সেগুলো অপরিবাহী বা অন্তরক, যেমন কাচ, রাবার, প্লাস্টিক, শুকনো কাঠ। এজন্যই ঘর্ষণে আধান অন্তরকের গায়ে জমে থাকে, আর ধাতব দণ্ড হাতে ধরে ঘষলে আধান হাত দিয়ে মাটিতে চলে যায়।
আধানযুক্ত বস্তুকে কোনো অনাহিত পরিবাহীর কাছে আনলে, স্পর্শ না করেই পরিবাহীর কাছের প্রান্তে বিপরীত আধান ও দূরের প্রান্তে সমধর্মী আধান জমা হয়। একে স্থির তড়িৎ আবেশ বলে। আধানযুক্ত বস্তুটি সরিয়ে নিলে আবিষ্ট আধান আবার মিশে যায়। কিন্তু আবেশের সময় দূরের প্রান্ত মাটির সাথে যুক্ত করে (ভূ-সংযোগ) পরে বিচ্ছিন্ন করলে পরিবাহীতে স্থায়ীভাবে বিপরীত আধান থেকে যায়।
চিরুনি অনাহিত কাগজ টানে এই আবেশের জন্যই: চিরুনির কাছের দিকে কাগজে বিপরীত আধান আবিষ্ট হয়, আর আকর্ষণ বিকর্ষণের চেয়ে বেশি হয় কারণ সেই আধান কাছে থাকে।
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র: আধান দেখার উপায়
স্বর্ণপাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রে একটি ধাতব দণ্ডের নিচে দুটি পাতলা সোনার পাত ঝোলানো থাকে, উপরে থাকে ধাতব চাকতি। পুরোটা কাচের পাত্রে বাতাসের প্রবাহ থেকে আড়াল করা।
চাকতিতে আধান দিলে দুই পাতে একই ধরনের আধান ছড়িয়ে পড়ে, তাই পাত দুটি বিকর্ষণে ফাঁক হয়ে যায়। পাত যত ফাঁক হয়, আধান তত বেশি।
- বস্তু আহিত কি না জানা: চাকতির কাছে আনলে পাত ফাঁক হলে বস্তুটি আহিত।
- আধানের প্রকৃতি জানা: যন্ত্রকে আগে জানা আধানে আহিত করে বস্তু কাছে আনো। পাতের ফাঁক বাড়লে বস্তুর আধান সমধর্মী। ফাঁক কমলে বস্তুটি বিপরীত আধানযুক্ত অথবা অনাহিত হতে পারে, তাই নিশ্চিত প্রমাণ হলো ফাঁক বাড়া।
- পরিবাহী ও অন্তরক চেনা: বস্তু দিয়ে আহিত চাকতি স্পর্শ করলে পাত দ্রুত বুজে গেলে বস্তুটি পরিবাহী।
কুলম্বের সূত্র
দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল আধান দুটির গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। বলটি আধান দুটির সংযোগ সরলরেখা বরাবর কাজ করে।
শূন্য মাধ্যমে বা বাতাসে k এর মান প্রায় 9 × 10^9 N m² C⁻²। দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল হয় এক-চতুর্থাংশ, দূরত্ব অর্ধেক করলে বল চারগুণ। এই বিপরীত বর্গ নিয়ম মহাকর্ষ সূত্রের মতো দেখতে, তবে মহাকর্ষ শুধু আকর্ষণ করে আর তড়িৎ বল আকর্ষণ-বিকর্ষণ দুটোই করে, এবং তড়িৎ বল অনেক গুণ শক্তিশালী।
F = k × q1 × q2 / r²
k = 1 / (4 π ε0) ≈ 9 × 10^9 N m² C⁻²
ε0 ≈ 8.85 × 10^-12 C² N⁻¹ m⁻²
তড়িৎ ক্ষেত্র ও তড়িৎ বলরেখা
কোনো আধানের চারপাশে যে অঞ্চলে অন্য আধান রাখলে বল অনুভব করে, তাকে তড়িৎ ক্ষেত্র বলে। ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান রাখলে যে বল পায়, তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা E বলে। এটি ভেক্টর রাশি, একক N/C।
তড়িৎ ক্ষেত্র বোঝাতে কাল্পনিক তড়িৎ বলরেখা আঁকা হয়। একটি মুক্ত ক্ষুদ্র ধনাত্মক আধান ক্ষেত্রে যে পথে চলত, সেটাই বলরেখা।
- বলরেখা ধনাত্মক আধান থেকে শুরু হয়ে ঋণাত্মক আধানে শেষ হয়।
- দুটি বলরেখা কখনো পরস্পরকে ছেদ করে না।
- যেখানে বলরেখা ঘন, সেখানে তড়িৎ তীব্রতা বেশি।
- বলরেখার কোনো বিন্দুতে আঁকা স্পর্শক ঐ বিন্দুতে ক্ষেত্রের দিক নির্দেশ করে।
E = F / q
বিন্দু আধানের জন্য: E = k × Q / r²
তড়িৎ বিভব ও বিভব পার্থক্য
অসীম দূরত্ব থেকে একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে যে কাজ করতে হয়, তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে। একক ভোল্ট (V), যেখানে 1 V = 1 J/C।
পানি যেমন উঁচু থেকে নিচুতে গড়ায়, ধনাত্মক আধানও উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে যায়। দুই বিন্দুর বিভবের পার্থক্যই বিভব পার্থক্য, আর এটিই পরের অধ্যায়ের চল তড়িৎ চালায়। পৃথিবীর বিভব শূন্য ধরা হয়, তাই কোনো আহিত পরিবাহী মাটির সাথে যুক্ত করলে আধান প্রবাহিত হয়ে তার বিভব শূন্য হয়ে যায়।
V = W / q
W = q × (VA − VB)
স্থির বিদ্যুতের ব্যবহার ও বিপদ
স্থির বিদ্যুৎ শুধু চুল খাড়া করার খেলা নয়। ফটোকপি যন্ত্রে আহিত ড্রামে কালির গুঁড়া আটকে ছবি তৈরি হয়, কলকারখানার চিমনিতে স্থির তড়িৎ অধঃক্ষেপক ধোঁয়ার কণা টেনে বাতাস পরিষ্কার করে, আর রং স্প্রে করার সময় আহিত রঙের কণা সমানভাবে বস্তুর গায়ে বসে।
বিপদও আছে। জ্বালানি ট্যাংকারে তেল নড়াচড়ায় আধান জমে স্ফুলিঙ্গ হলে আগুন লাগতে পারে, তাই ট্যাংকারে ধাতব শিকল বা তার দিয়ে ভূ-সংযোগ রাখা হয়। সবচেয়ে বড় স্থির বিদ্যুতের ঘটনা বজ্রপাত: মেঘের ভেতর বরফকণা ও পানির ফোঁটার ঘর্ষণে বিপুল আধান জমে, বাতাসের অন্তরক ক্ষমতা ভেঙে বিশাল স্ফুলিঙ্গ মাটিতে নামে।
বজ্রনিরোধক হলো উঁচু ভবনের চূড়ায় বসানো সূচালো ধাতব দণ্ড, যা মোটা তামার তার দিয়ে মাটির নিচে পোঁতা ধাতব পাতের সাথে যুক্ত। সূচালো প্রান্তে আধান ঘন হয় বলে এটি মেঘের আধানের প্রভাব কমায়, আর বাজ পড়লে আধানকে ভবনের ক্ষতি না করে নিরাপদে মাটিতে পাঠিয়ে দেয়।
সমাধান করা অংক
উদাহরণ ১: বাতাসে 0.3 m দূরে রাখা দুটি আধান 2 × 10^-6 C ও 3 × 10^-6 C। এদের মধ্যে ক্রিয়াশীল বল কত এবং বলটি কোন প্রকৃতির?
- দেওয়া আছে: q1 = 2 × 10^-6 C, q2 = 3 × 10^-6 C, r = 0.3 m, k = 9 × 10^9 N m² C⁻²
- F = k q1 q2 / r² = 9 × 10^9 × 2 × 10^-6 × 3 × 10^-6 / (0.3)²
- = 9 × 10^9 × 6 × 10^-12 / 0.09 = 0.054 / 0.09 = 0.6 N
- দুটি আধানই ধনাত্মক, তাই বল বিকর্ষণধর্মী
উত্তর: 0.6 N, বিকর্ষণ বল
উদাহরণ ২: 5 × 10^-6 C আধান থেকে বাতাসে 0.5 m দূরের একটি বিন্দুতে তড়িৎ তীব্রতা কত?
- Q = 5 × 10^-6 C, r = 0.5 m
- E = k Q / r² = 9 × 10^9 × 5 × 10^-6 / (0.5)²
- = 45 × 10^3 / 0.25 = 1.8 × 10^5 N/C
উত্তর: 1.8 × 10^5 N/C, আধান থেকে বাইরের দিকে
উদাহরণ ৩: 12 V বিভব পার্থক্যের দুই বিন্দুর মধ্যে 2 C আধান সরাতে কত কাজ করতে হবে?
- V = 12 V, q = 2 C
- W = q × V = 2 × 12 = 24 J
উত্তর: 24 J
উদাহরণ ৪: দুটি আধানের মধ্যে বল 8 N। দূরত্ব অর্ধেক করলে এবং একটি আধান দ্বিগুণ করলে নতুন বল কত হবে?
- F ∝ q1 q2 / r²
- আধানের গুণফল 2 গুণ, দূরত্বের বর্গ (1/2)² = 1/4 গুণ
- নতুন বল = 8 × 2 ÷ (1/4) = 8 × 2 × 4 = 64 N
উত্তর: 64 N
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
১. কাচদণ্ড রেশমি কাপড়ে ঘষলে কাচদণ্ডের কী হয়?
- ক) ইলেকট্রন পেয়ে ঋণাত্মক হয়
- খ) ইলেকট্রন হারিয়ে ধনাত্মক হয়
- গ) প্রোটন পেয়ে ধনাত্মক হয়
- ঘ) নিরপেক্ষ থাকে
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) ইলেকট্রন হারিয়ে ধনাত্মক হয় — ঘর্ষণে কাচ থেকে ইলেকট্রন রেশমে যায়, তাই কাচ ধনাত্মক হয়। প্রোটন স্থানান্তরিত হয় না।
২. আধানের SI একক কোনটি?
- ক) ভোল্ট
- খ) অ্যাম্পিয়ার
- গ) কুলম্ব
- ঘ) নিউটন
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) কুলম্ব — আধানের একক কুলম্ব (C); 1 C = 1 A × 1 s।
৩. দুটি আধানের মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল কত হবে?
- ক) দ্বিগুণ
- খ) অর্ধেক
- গ) চারগুণ
- ঘ) এক-চতুর্থাংশ
উত্তর দেখো
উত্তর: ঘ) এক-চতুর্থাংশ — F ∝ 1/r², তাই দূরত্ব 2 গুণ হলে বল 1/4 গুণ হয়।
৪. তড়িৎ তীব্রতার একক কোনটি?
- ক) N/C
- খ) C/N
- গ) J/C
- ঘ) N m
উত্তর দেখো
উত্তর: ক) N/C — E = F/q, তাই একক নিউটন প্রতি কুলম্ব (N/C)।
৫. তড়িৎ বলরেখা সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
- ক) ধনাত্মক আধান থেকে শুরু হয়
- খ) ঋণাত্মক আধানে শেষ হয়
- গ) দুটি বলরেখা পরস্পরকে ছেদ করতে পারে
- ঘ) ঘন বলরেখা মানে তীব্রতা বেশি
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) দুটি বলরেখা পরস্পরকে ছেদ করতে পারে — ছেদ করলে এক বিন্দুতে ক্ষেত্রের দুটি দিক হতো, যা অসম্ভব; তাই বলরেখা কখনো ছেদ করে না।
৬. 1 V সমান কত?
- ক) 1 N/C
- খ) 1 J/C
- গ) 1 C/J
- ঘ) 1 J s
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) 1 J/C — V = W/q, তাই 1 ভোল্ট = 1 জুল প্রতি কুলম্ব।
৭. আহিত তড়িৎবীক্ষণের চাকতির কাছে একটি বস্তু আনলে পাতের ফাঁক বেড়ে গেল। বস্তুটি—
- ক) অনাহিত
- খ) বিপরীত আধানে আহিত
- গ) সমধর্মী আধানে আহিত
- ঘ) পরিবাহী কিন্তু অনাহিত
উত্তর দেখো
উত্তর: গ) সমধর্মী আধানে আহিত — সমধর্মী আধান পাতে আরও সমধর্মী আধান ঠেলে দেয়, তাই বিকর্ষণ ও ফাঁক বাড়ে। এটিই আধানের প্রকৃতি নির্ণয়ের নিশ্চিত পরীক্ষা।
৮. জ্বালানি ট্যাংকারের পেছনে ধাতব শিকল ঝোলানো থাকে কেন?
- ক) গাড়ির ভারসাম্য রাখতে
- খ) জমা আধান মাটিতে পাঠাতে
- গ) শব্দ করতে
- ঘ) টায়ার ঠান্ডা রাখতে
উত্তর দেখো
উত্তর: খ) জমা আধান মাটিতে পাঠাতে — চলার সময় ঘর্ষণে জমা স্থির আধান শিকল দিয়ে মাটিতে চলে যায়, ফলে স্ফুলিঙ্গ ও আগুনের ঝুঁকি কমে।
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: বাতাসে A ও B দুটি ক্ষুদ্র ধাতব গোলক 0.2 m দূরে রাখা আছে। A এর আধান +4 × 10^-6 C এবং B এর আধান −6 × 10^-6 C। (k = 9 × 10^9 N m² C⁻²)
- ক) কুলম্বের সূত্রটি লেখো।
- খ) ঘর্ষণে উৎপন্ন দুই বস্তুর আধান সমান ও বিপরীত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ) গোলক দুটির মধ্যে ক্রিয়াশীল বল নির্ণয় করো।
- ঘ) গোলক দুটির আধান দ্বিগুণ করে দূরত্বও দ্বিগুণ করলে বলের কী পরিবর্তন হবে? গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল বল আধান দুটির গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; বলটি এদের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
- ঘর্ষণে নতুন আধান তৈরি হয় না, একটি বস্তু থেকে কিছু ইলেকট্রন অন্যটিতে যায়। যে কয়টি ইলেকট্রন একটি হারায়, ঠিক সেই কয়টি অন্যটি পায়। তাই একটিতে যতটুকু ধনাত্মক, অন্যটিতে ঠিক ততটুকু ঋণাত্মক আধান জন্মায়; এটি আধানের সংরক্ষণশীলতা।
- F = k q1 q2 / r² = 9 × 10^9 × 4 × 10^-6 × 6 × 10^-6 / (0.2)² = 0.216 / 0.04 = 5.4 N। আধান দুটি বিপরীতধর্মী, তাই বলটি আকর্ষণধর্মী।
- নতুন বল F' = k (2q1)(2q2) / (2r)² = 4 k q1 q2 / 4r² = F। অর্থাৎ বল অপরিবর্তিত থাকবে, 5.4 N আকর্ষণ। আধানের গুণফল 4 গুণ বাড়ায় বল যত বাড়ে, দূরত্বের বর্গ 4 গুণ বাড়ায় ঠিক ততটাই কমে, ফলে দুটি প্রভাব পরস্পরকে বাতিল করে।
উদ্দীপক: কালবৈশাখীর সময় গ্রামের একটি উঁচু টিনের ঘর ও পাশের মসজিদের মিনারে বাজ পড়ার আশঙ্কা ছিল। মিনারের চূড়ায় একটি সূচালো ধাতব দণ্ড বসানো, যা মোটা তামার তার দিয়ে মাটির নিচে পোঁতা ধাতব পাতের সাথে যুক্ত। টিনের ঘরে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।
- ক) স্থির তড়িৎ আবেশ কাকে বলে?
- খ) প্লাস্টিকের চিরুনি চুলে আঁচড়ালে কাগজের টুকরা আকর্ষণ করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ) মেঘে কীভাবে আধান জমে এবং বজ্রপাত ঘটে, ব্যাখ্যা করো।
- ঘ) উদ্দীপকের কোন স্থাপনা বজ্রপাতে বেশি নিরাপদ? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
- একটি আহিত বস্তুকে কোনো অনাহিত পরিবাহীর কাছে আনলে স্পর্শ ছাড়াই পরিবাহীর কাছের প্রান্তে বিপরীত ও দূরের প্রান্তে সমধর্মী আধানের সৃষ্টি হওয়াকে স্থির তড়িৎ আবেশ বলে।
- আঁচড়ানোর ঘর্ষণে চুল থেকে ইলেকট্রন চিরুনিতে যায়, চিরুনি ঋণাত্মক হয়। কাগজের কাছে আনলে আবেশে কাগজের কাছের দিকে ধনাত্মক আধান জমে। কাছের বিপরীত আধানের আকর্ষণ দূরের সমধর্মী আধানের বিকর্ষণের চেয়ে বেশি, তাই কাগজ চিরুনিতে লাফিয়ে ওঠে।
- ঝড়ো মেঘের ভেতর প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বাতাসে বরফকণা, শিলা ও পানির ফোঁটা পরস্পর ঘষা খায়। এতে আধান আলাদা হয়: সাধারণত মেঘের উপরের অংশ ধনাত্মক ও নিচের অংশ ঋণাত্মক হয়। মেঘের নিচের ঋণাত্মক আধান আবেশের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে ধনাত্মক আধান জমায়। বিভব পার্থক্য এত বেশি হয় যে বাতাসের অন্তরক ক্ষমতা ভেঙে যায় এবং বিশাল স্ফুলিঙ্গ আকারে আধান মাটিতে নামে, এটাই বজ্রপাত।
- মিনারটি বেশি নিরাপদ। সূচালো দণ্ডের প্রান্তে আধানের ঘনত্ব খুব বেশি হওয়ায় এটি আশেপাশের বাতাস আয়নিত করে মেঘের আধানের একটি অংশ ধীরে প্রশমিত করে। আর বাজ পড়লেও বিপুল আধান কম রোধের তামার তার দিয়ে সরাসরি মাটিতে চলে যায়, দেয়াল বা মানুষের ভেতর দিয়ে যায় না। টিনের ঘরে নিরাপদ ভূ-সংযোগ পথ নেই, তাই বাজ পড়লে আধান অনিয়ন্ত্রিত পথে প্রবাহিত হয়ে আগুন, ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটাতে পারে। সুতরাং বজ্রনিরোধক থাকায় মিনারটি অধিক নিরাপদ।
বাস্তব জীবনে মজার যোগসূত্র
শীতের শুকনো দিনে সোয়েটার খুলতে গেলে চটচট শব্দ আর অন্ধকারে ছোট নীল ঝিলিক দেখেছ? ওটা আসলে এক টুকরো ক্ষুদে বজ্রপাত। সোয়েটার আর শরীরের ঘর্ষণে আধান জমে কয়েক হাজার ভোল্ট বিভব পার্থক্য তৈরি হয়, তবু শক লাগে না বিপজ্জনকভাবে, কারণ আধানের পরিমাণ খুবই সামান্য। আকাশের বাজ আর তোমার সোয়েটারের ঝিলিক একই পদার্থবিজ্ঞান, শুধু মাত্রায় কোটি গুণ তফাত। বর্ষায় এই ঝিলিক কম দেখা যায়, কারণ ভেজা বাতাস আধানকে চুপচাপ সরিয়ে নেয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
স্থির বিদ্যুৎ আর চল বিদ্যুতের পার্থক্য কী?
স্থির বিদ্যুতে আধান কোনো বস্তুতে জমে থাকে, প্রবাহিত হয় না। চল বিদ্যুতে পরিবাহীর ভেতর দিয়ে আধান অবিরাম প্রবাহিত হয়, যেমন বাড়ির তারে।
ঘর্ষণে প্রোটন কেন সরে না?
প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে শক্তভাবে আটকানো এবং ইলেকট্রনের চেয়ে প্রায় 1836 গুণ ভারী। বাইরের দিকের ইলেকট্রনই সহজে এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে যায়।
বর্ষাকালে ঘর্ষণের পরীক্ষা কেন ঠিকমতো হয় না?
আর্দ্র বাতাসে বস্তুর গায়ে পানির পাতলা স্তর জমে, যা আধানকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়। তাই শুকনো দিনে স্থির বিদ্যুতের পরীক্ষা ভালো হয়।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কী করা উচিত?
উঁচু গাছ বা খুঁটির নিচে না দাঁড়িয়ে পাকা দালান বা ধাতব ছাদের বন্ধ গাড়িতে আশ্রয় নাও। আশ্রয় না থাকলে পা জোড়া করে নিচু হয়ে বসো, মাটিতে শুয়ে পড়বে না।
পরীক্ষায় k এর মান কত ধরব?
বাতাস বা শূন্য মাধ্যমে k = 9 × 10^9 N m² C⁻² ধরবে, যদি না প্রশ্নে অন্য মান দেওয়া থাকে।
আরও পড়ো
সূত্র: NCTB নবম-দশম শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান পাঠ্যবই, অধ্যায় ১০: স্থির বিদ্যুৎ · OpenStax College Physics 2e, Chapter 18: Electric Charge and Electric Field · NIST CODATA: Elementary charge